প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / ওষুধ খেয়ে মাসিক বন্ধ করে রোযা রাখলে মহিলাদের রোযা হবে কি?

ওষুধ খেয়ে মাসিক বন্ধ করে রোযা রাখলে মহিলাদের রোযা হবে কি?

প্রশ্ন

আসসালামুয়ালাইকুম,

হযরত আমাদের মা-বোনেরা তিরিশটি রোজা পূর্ণ করার জন্য ওষুধ খেয়ে নিজেদের মাসিক বন্ধ রাখতে পারবে কিনা।

অনুগ্রহপূর্বক দ্রুত উত্তর দিলে ভালো হয়।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

মনে রাখতে হবে যে,মহিলাদের মাসিক একটি স্বাভাবিক নিয়ম। এটা মহিলাদের সুস্থ্যতা ও স্বাভাবিকতার নিদর্শন। এতে করে তার শরীর থেকে নাপাক ও ক্ষতিকর রক্তগুলো বেরিয়ে যায়।

তাই ওষুধ বা পিল খেয়ে হায়েজ বন্ধ রাখা উচিত নয়। এতে করে তার শারিরীক ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে। আল্লাহ তাআলা এ অবস্থায় মহিলাদের মা’জুর হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তাই এ দিন সমূহে নামায ও রোযা না করায় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোন পাকরাও নেই। নামায মাফ। যদিও রোযা রমজান পরবর্তীতে কাযা করে নিতে হবে। এতে করে সওয়াবের মাঝে কোন কমতি হয় না। তাই উচিত হলো এ স্বাভাবিকতাকে মেনে নেয়া। এভাবে ওষধু খেয়ে হায়েজ বন্ধ করার কোন প্রয়োজন নেই।

তবে কোন মহিলা তার হায়েজের রক্ত আসার আগেই ওষুধ খেয়ে হায়েজ বন্ধ করে দেয়। তার রক্ত না আসে। তাহলে তাকে পবিত্র ধরা হবে।

সেই হিসেবে তার নামায ও রোযা সবই শুদ্ধ হবে। পরবর্তীতে আর সেসব নামায বা রোযার কাজা করার কোন প্রয়োজন নেই।

তবে যদি রক্ত শুরু হবার পর ওষুধ খেয়ে বন্ধ করে দেয়, তাহলে অন্য মাসে যে কয়দিন হায়েজ আসতো, সেই কয়দিন হায়েজের মাঝেই গণ্য হবে। সেই কয়দিন রোযা রাখলেও রোযা হবে না। পরবর্তীতে কাযা করতে হবে।

রক্ত আসার আগেই বন্ধ করে দিলে রোযা রাখা যেমন শুদ্ধ হবে, তেমনি তার কাযাও পরবর্তীতে আবশ্যক হবে না।

الدر المختار مع رد المحتار

 قوله: ابتلاء الله لحواء إلخ) أي وبقي في بناتها إلى يوم القيامة، وما قيل: إنه أول ما أرسل الحيض على بني إسرائيل فقد رده البخاري بقوله وحديث النبي صلى الله عليه وسلم أكبر، وهو ما رواه عن عائشة -رضي الله عنها- قالت: «قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحيض: هذا شيء كتبه الله على بنات آدم». قال النووي: أي إنه عام في جميع بنات آدم.

وفيه ايضاً

وبرده لايبقی ذا عذر، بخلاف الحائض

(قوله: بخلاف الحائض) … وهذا إذا منعته بعد نزوله إلی الفرج الخارج، کما أفاده البرکوي، لما مرّ أنه لايثبت الحيض إلا بالبروز، لا بالإحساس به، خلافاً لمحمد، فلو أحست به فوضعت الکرسف في الفرج الداخل ومنعته من الخروج فهي طاهرة، کما لو حبس المني في القصبة

(الدر المختار مع رد المحتار: کتاب الطهارة، باب الحیض، مطلب في أحکام المعذور-1/308)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী, নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

টাইগার/স্পিড/রেডবুল ইত্যাদি এনার্জি ড্রিংকস খাওয়া কি হালাল?

প্রশ্ন محمد حنجالا টাইগার, স্পিড, রেডবুল এসব এনার্জি ড্রিংকস পান করা কি হালাল? এসব পণ্যের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস