প্রচ্ছদ / নফল ইবাদত / ‘সাওমে দাহর’ বা সারা বছর রোযা রাখার হুকুম কী?

‘সাওমে দাহর’ বা সারা বছর রোযা রাখার হুকুম কী?

প্রশ্ন

সারা বছর ধারাবাহিক ভাবে কি রোজা রাখার বিধান ইসলামে আছে। থাকলে কুরাআন এবং হাদীসের আলোকে যদি দলীল পেতাম খুব উপকার হতো।

জাজাকাল্লাহ।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

সারা বছর রোযা রাখা এমন কি নিষিদ্ধ সময়েও রোযা রাখা মাকরূহে তাহরীমী।

যদি নিষিদ্ধ সময়ে রোযা না রেখে এমনিতে সারা বছর রোযা রাখে। তাহলে এর হুকুম কী? এ বিষয়ে ফুক্বাহায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ আছে।

কেউ কেউ এটাকে মাকরূহ বলেছেন। কারণ, এটা ইবাদত থাকে না, বরং অভ্যাসে পরিণত হয়। এছাড়া এতে করে শরীর দুর্বল হয়ে যায়।

তবে কেউ কেউ এটাকে জায়েজ বলেছেন। কোন সমস্যা নেই বলে মত ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং এতে করে সওয়াব হবে।

এ মতটাই অধিক যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য।

তবে সারা বছর রোযা রাখার ক্ষেত্রে সওমে দাউদ আলাইহিস সালাম সবচে’ উত্তম। সেটি হল, একদিন রোযা রাখা ও পরের দিন রোযা না রাখা। এভাবে সারা বছর রোযা রাখা। নিষিদ্ধ দিনসমূহে রোযা না রাখা।

عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ صِيَامُ دَاوُدَ، كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا، وَأَحَبُّ الصَّلاَةِ إِلَى اللَّهِ صَلاَةُ دَاوُدَ، كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ، وَيَنَامُ سُدُسَهُ»

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সওম হলো দাঊদ (আঃ)-এর নিয়মে সওম পালন করা। তিনি একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন বিরত থাকতেন। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় সালাত হলো দাঊদ (আঃ)-এর নিয়মে সালাত আদায় করা। তিনি রাতের অর্ধাংশ ঘুমাতেন, রাতের এক তৃতীয়াংশ সালাতে দাঁড়াতেন আর বাকী ষষ্ঠাংশ আবার ঘুমাতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৪২০]

الذي كره تحريما “صوم العيدين” الفطر والنحر للإعراض عن ضيافة الله ومخالفة الأمر “و” منه صوم “أيام التشريق” لورود النهي عن صيامها (طحطاوى على مراقى الفلاح-640، البحر الرائق، كويته-2/257، مجمع الأنهر-1/343)

“وكره صوم الدهر” لأنه يضعفه أو يصير طبعا له ومبنى العبادة على مخالفة العادة (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-641، بدائع الصنائع-2/217، الدر المختار مع رد المحتار-3/337-338)

ويكره صوم الوصال وهو أن يصوم السنة كلها ولا يفطر فى الايام المنهى عنها واذا افطر فى الايام المنهية المختار انه لا بأس به كذا فى الخلاصة (الفتاوى الهندية-1/201، رد المحتار-3/337)

وَيُكْرَهُ صَوْمُ الْوِصَالِ وَلَوْ يَوْمَيْنِ وَيُكْرَهُ صَوْمُ الدَّهْرِ لِأَنَّهُ يُضْعِفُهُ أَوْ يَصِيرُ طَبْعًا لَهُ وَمَعْنَى الْعِبَادَةِ عَلَى مُخَالَفَةِ الْعَادَةِ وَلَا يَحِلُّ صَوْمُ يَوْمِ الْعِيدِ وَأَيَّامِ التَّشْرِيقِ وَأَفْضَلُ الصِّيَامِ صِيَامُ دَاوُد صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا (تبيين الحقائق، كتاب الصوم، باب ما يفسد الصوم وما لا يفسده، القاهرة-1/332)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

গাইরুল্লাহকে সেজদা করা ও ফাতিমা রাঃ এর মূর্তি বানিয়ে সেজদা দেয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন আস্সালামুআলাইকুম হযরত। কেমন আছেন? দ্বীনের বিভিন্ন সমস্যায় সর্বদাই আপনার পরিচালিত ওয়েবসাইট হতে সাহায্য নেই। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস