প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / অবিবাহিত পুরুষের জন্য তালাকপ্রাপ্তাকে পিতামাতার রাজি না থাকা অবস্থায় বিয়ে করা যাবে কি?

অবিবাহিত পুরুষের জন্য তালাকপ্রাপ্তাকে পিতামাতার রাজি না থাকা অবস্থায় বিয়ে করা যাবে কি?

প্রশ্ন

From: মোঃ  জোনায়েদ আনসারী
বিষয়ঃ তালাক প্রাপ্ত মেয়ে কি ।  অবিবাহিত ছেলের জন্যে জায়েজ

প্রশ্নঃ
একটি মেয়ে যাকে আমি খুব পছন্দ করি । তার একটি বিয়ে হয়েছিলো । আগে সে ১ বছর সংসার করেছে এখন কি তাকে বিয়ে করা যাবে আর পরিবার না মানলে কি করা যায়?

 

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য তালাকপ্রাপ্তা বা স্বামী মারা গেছে এমন বিধবাকে বিয়ে করা সম্পূর্ণরূপেই জায়েজ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিবাহিত হবার পরও তিনি একাধিকবার বিবাহিত বিধবা হযরত খাদিজাতুল কুবরা রাঃ কে বিবাহ করেছিলেন।

সুতরাং অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবাকে বিয়ে করাতে কোন সমস্যা নেই।

মা বাবাকে বুঝিয়ে সমঝিয়ে বিয়ে করা উত্তম। যদিও বাবা মা রাজি না থাকলেও বিবাহ শুদ্ধ হবার জন্য নির্ধারিত শর্তাবলীসহ বিয়ে করলে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

বাবা মায়ের জন্য সন্তানের পছন্দমত বিয়েতে রাজি হওয়া উচিত। যদি বড় কোন সমস্যা না থাকে।


وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ۖ فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۗ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ [٢:٢٣٤]

আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং নিজেদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে যাবে, তখন সে স্ত্রীদের কর্তব্য হলো নিজেকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখা। তারপর যখন ইদ্দত পূর্ণ করে নেবে, তখন নিজের ব্যাপারে নীতি সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে কোন পাপ নেই। আর তোমাদের যাবতীয় কাজের ব্যাপারেই আল্লাহর অবগতি রয়েছে। [সূরা বাকারা-২৩৪]

 وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ [٢٤:٣٢]

তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।  [সূরা নূর-৩২]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ ‏”‏ ‏

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যে ব্যক্তির দীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছ তোমাদের নিকট সে ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। তা যদি না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১০৮৪]

لو قالت امرأته لرجل: طلقنى زوجى وانقضت عدتى، لا بأس أن ينكحها (الدر المختار مع رد المحتار-4\215)

يجوز لها أن تتزوج بآخر إن كان قد طلقها (الفتاوى الهندية-1\528، جديد-1\581)

وشرط صحة نكاح الصغير……. لا مكلفة، فنفذ نكاح حرة مكلفة بلا رضا ولى، والأصل ان كل من تصرف فى مالى تصرف فى نفسه وما لا فلا (رد المحتار، كتاب النكاح، باب الولى-4\155، الفتاوى الهندية-1\287، مجمع الأنهر قديم-1\333، جديد-1\488، تبيين الحقائق-2\492، ا لبحر الرائق-3\192)

عن ابن عباس أن النبى صلى الله عليه وسلم قال: الثيب أحق بنفسها من وليها، والبكر تستأمر، وإذنه سكوتها (صحيح مسلم، كتاب النكاح، باب استيذان الثيب فى النكاح بالنطق والبكر بالسكوت-1\455، رقم-1421، بيت الافكار)

ومنها رضا المرأة إذا كانت بالغة بكرا، كانت أو ثيبا، فلا يملك الولى إجبارها على النكاح عندنا (الفتاوى الهندية-1\269، جديد-1\322، فتاوى قاضى خان على هامش الهندية-1\335، جديد-1\204)

ولا يزوج البكر البالغة أبوها على كره منها (فتاوى تاتارخانية-4\91، رقم-5618)

لا يجوز نكاح أحد على بالغة صحيحة العقل من أب، أو سلطان بغير إذنها بكرا كانت أو ثيبا (الفتاوى الهندية-1\287، جديد-1\353)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

হজ্জ কখন ফরজ হয়? হজ্জের মাসে নাকি হজ্জ নিবন্ধনের সময়?

প্রশ্ন االسابع الوقت اي وجود القدرة فيه وهي اشهر الحج او هو وقت خروج اهل …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস