প্রচ্ছদ / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / তালাকের সন্দেহ বা শব্দ ছাড়া উচ্চারণে তালাক বললে কি তালাক হয়?

তালাকের সন্দেহ বা শব্দ ছাড়া উচ্চারণে তালাক বললে কি তালাক হয়?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম হুজুর।

আমি নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক। হুজুর আমি কয়েক মাস ধরে মানসিকভাবে খুব পেরেশানির মধ্যে আছি।

১। আমি একদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় একজন বলে একজনের স্ত্রী তার বাবা মাকে দেখভাল করে না। এইরকম জাতীয় কিছু একটা বলে।তখন আমি বলি, এই রকম করলে ডাইরেক্ট ডিভোর্স।

২। তারপর থেকে এইটা আমার মাথায় সবসময় ঘুরপাক খেতে থাকে এবং আমি মনে মনে বলি আমার বউকে তালাক দিবো।এরপর থেকে আমি বেশ কয়েকবার ঠোট না খুলে জিহবা নাড়িয়ে তালাক বলি, এবং বায়েন ও যোগ করি।

৩। এছাড়াও আমি বাঁশি বাজাতে পারি।বাঁশি বাজানোর সময় কোন গানের সুর উঠাচ্ছি সেই সময় স্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে মনে মনে তালাক বলি এবং এইটা অনেকবার বলি।

৪। একদিন ভোররাতে আমার হটাৎ করে ঘুম ভেঙে যায়। তখন আমার এই তালাকের কথা মনে হয় এবং আমি হালকা ঘুম ঘুম চোখে স্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে তিনবার তালাক বলি ঠিক তখনি আমি চিন্তা করি এটা কি আমি মনে মনে বললাম না মুখে উচ্চারণ করে বললাম আমি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না।এবং আমি নিজ কানে কোন শব্দ শুনি নাই।তবে আমি ৮০ ভাগ নিশ্চিত আমি মনে মনে বলেছি।

৫। একদিন আমি মনে মনে তালাকের কথা চিন্তা করতে থাকি এবং আমি তালাক কথাটা বলে ফেলি।এবং আমি নিশ্চিত না,আমি এইটা মুখে বললাম না মনে মনে বললাম।তবে আমি নিজ কানে কোন শব্দ শুনি নাই।

৬। একদিন ভোর রাতে ঘুম ভেঙে যায়।আমি অন্য কোন কথা চিন্তা করতে থাকি। সেই সময় তালাকের কথা আমার মনে আসে। আমি আগের ঘটনা গুলো মনে করার চেষ্টা করি, কিভাবে আমি কথাগুলো বলেছিলাম আবার অন্য ধরনের চিন্তা করি।এই সময় আমি ঠোঁট নাড়িয়ে তালাকের কথা বলেছিলাম কি, না , আমার মনে নাই।তবে আমি কোন কথা শব্দ করে বলি নাই বা এই রকম কোন শব্দ আমি শুনি নাই।

আমার স্ত্রী র প্রতি আমার কোন অভিযোগ নাই এবং সে এসব ঘটনার কিছুই জানে না।হুজুর এইগুলোর মাসআলা কি, বা আমার স্ত্রী তালাক হয়েছে কি, না, জানালে খুব উপকৃত হতাম।

 

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

এমন মনে মনে কথা ও ওয়াসওয়াসার কারণে কোন তালাক পতিত হয় না।

আপনি তালাক সম্পর্কিত যাবতীয় মাসআলা পড়া এবং চিন্তা করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। আপনি পরিস্কারভাবেই ওয়াসওয়াসার রোগী।

আপনার জন্য করণীয়:

বেশি বেশি সূরা ফালাক পড়বেন। আল্লাহর কাছে দুআ করবেন।

তালাক সংক্রান্ত কোন মাসআলা পড়বেন না। কাউকে জিজ্ঞাসা করতেও যাবেন না। কারো সাথে এ সংক্রান্ত আলাপ ও আলোচনাও করবেন না। মনের মাঝে এ বিষয়ক কোন কিছু আসতে দিবেন না। আসলেই অন্য বিষয় নিয়ে মগ্ন হয়ে যাবেন।

ওয়াওয়াসা শুরু হলেই প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে ফেলবেন। স্ত্রীর সাথে কিংবা বন্ধু বান্ধবদের সাথে খোশগল্পে মেতে উঠার চেষ্টা করবেন।

একা একা কম থাকবেন। চেষ্টা করবেন কমপক্ষে আট ঘন্টা ঘুমের।

বেশি সমস্যা মনে হলে মানসিক ডাক্তারের শরনাপন্ন হন।

منها شك هل طلق أم لا لم يقع (الأشباه-108، جديد-196)

عدم الشك من الزوج فى الطلاق وهو شرط الحكم بوقوع الطلاق حتى لو شك فيه لا يحكم بوقوعه (بدائعل الصنائع، كتاب الطلاق، فصل فى الرسالة-3\126، جديد-3\199)

يشترط بالاتفاق القصد فى الطلاق، وهو إرادة التلفظ به ولو لم ينو فلا يقع طلاق فقيه يكره ولا طلاق حاك عن نفسه أو غيره لأنه لام يقصد معناه، بل قصد التعليم والحكاية، (الفقه الاسلام وادلته، كتاب الطلاق، باب شروط الطلاق-7/368)

لو كرر مسائل الطلاق بحضرة زوجته ويقول: أنت طالق ولا ينوى طلاقا لا تطلق، (فتح القدير، كتاب الطلاق، باب ايقاع الطلاق-4/4)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

স্বপ্নদোষের কথা মনে না থাকা অবস্থায় কাপড়ে বীর্য দেখা ও সূর্যোদয়ের পর সুন্নাত পড়া প্রসঙ্গে

প্রশ্ন From: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিষয়ঃ নামায প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম মুফতি সাহেব । যদি প্রশ্নটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস