প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / ফোনে উকীল বানিয়ে বিয়ে করলে কি বিবাহ শুদ্ধ হয়?

ফোনে উকীল বানিয়ে বিয়ে করলে কি বিবাহ শুদ্ধ হয়?

প্রশ্ন

প্রশ্নকারীর নাম:
—————-
আব্দুল্লাহ্

ঠিকানা:
—————-
দাউদকান্দি

জেলা/শহর:
—————-
কুমিল্লা

দেশ:
—————-
বাংলাদেশ

প্রশ্নের বিষয়:
—————-
বিয়ে সম্পর্কে কিছু জটিল মাসালা জানতে চাই

বিস্তারিত:
—————-
السلام عليكم ورحمه الله وبركاته
মুহতারাম মুফতি সাহেব!
গত 27/06/2021 ইংরেজি রোজ রবিবার একটি বিয়ে সম্পন্ন হয় যার বিবরণ এই: একটি ছেলে আর একটি মেয়ের রিলেশন ছিল। মেয়ে বা ছেলের পরিবার থেকে কেউ যেন তাদের কে আলাদা করতে না পারে তাই তারা দুজনেই বিয়ে করে ফেলে।

মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় ছেলের মারফত তার এক বন্ধু কে সরাসরি ফোনে কথা বলে (স্পষ্ট ভাষায় সব খুলে বলে) ও Message এর মাধ্যমে নিজের উকিল নিযুক্ত করে। অতঃপর ছেলে, মেয়ের উকিল ও দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এতো জটিল ও Risk নিয়ে বিয়ে করার পরেও মেয়ের পরিবার এখন তা মানতে চাইছে না।

কারণ ছেলেটি একটি বিয়ে করেছেন যা মেয়ে আগে জানত। আমি জানতে চাই,

(ক) বিয়েটি সহিহ হয়েছে কিনা?

(খ) ফোনে উকিল নিযুক্ত করা সুদ্ধ হয়েছে কিনা?

(গ) বর্তমান যুগের নিরীক্ষে উক্ত ছেলে -মেয়ে কে এত সংগ্রামের পর আলাদা করে অন্যথায় বিয়ে দেয়া ইসলাম কতোটুকু সমর্থন করে?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

ক)

বিয়েটি শুদ্ধ হয়ে গেছে।

খ)

ফোনেও উকীল নিযুক্ত করা যায়।

গ)

এভাবে বাবা মাকে কষ্ট দিয়ে, তাদের না জানিয়ে মেয়েটির এভাবে পালিয়ে নিজে নিজে উকীল নিয়োগ করে বিয়ে করা কোনভাবেই ঠিক হয়নি।

মা বাবাকে কষ্ট দেয়া কবিরা গোনাহ। যদি তারা ক্ষমা না করেন, তাহলে দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন বিপদের সম্মুখিন হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে যেহেতু বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেছে। তাই তালাক ছাড়া অন্যত্র বিয়ে দেয়া জায়েজ হবে না।

যেহেতু পিতা মাতা রাজি নয়। আর ছেলেটিরও আগে একটি  বিবাহ আছে। সেই সাথে নাজায়েজ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাই ছেলে মেয়ের উচিত এ বিয়েটি ভেঙ্গে দেয়া।

পরবর্তীতে মেয়েটিকে যেন পিতা মাতা তাদের পছন্দমত পাত্রের কাছে বিয়ে দিতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, যদি বিয়ের পর ছেলে মেয়ে একসাথে না হয়ে থাকে, তাহলে তালাকের পর ইদ্দত পালন করা জরুরী নয়। বরং তালাকের সাথে সাথেই অন্যত্র মেয়েটিকে বিবাহ দেয়া যাবে।

ولو صرح بالتوكيل فقال وكلتك بأن تزوجنى نفسك منى، فقالت: زوجت صح النكاح (رد المحتار، كتاب النكاح-4/70)

ولو أرسل إليها رسولا، أو كتب إليها بذلك كتابا، فقبلت بحضرة شاهدين سمعا كالام الرسول وقراءة الكتاب جاز لاتحاد المجلس من حيث المعنى (الفتاوى الهندية-1/269، جديد-1/334)

ويصح النكاح بالوكالة… لأنه عقد ينعقد بالرضا والإنابة (تاتارخانية-4/126، رقم-5722)

ينعقد النكاح بالكتاب كما ينعقد بالخطاب (رد المحتار-4/73)

ويتولى طرفى النكاح واحد بإيجاب يقوم مقام القبول (الدر المختار مع رد المحتار-4/224)


عَنْ مُعَاذٍ قَالَ: أَوْصَانِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَشْرِ كَلِمَاتٍ قَالَ: ” لَا تُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا وَإِنْ قُتِلْتَ وَحُرِّقْتَ، وَلَا تَعُقَّنَّ وَالِدَيْكَ، وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ،

হযরত মুয়াজ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ আমাকে দশটি বিষয়ে ওসিয়ত করেছেন। তিনি বলেছেন, তুমি নিহত বা দগ্ধও হয়ে যাও তবু আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। যদি তোমার পরিবার ও সম্পদও ছেড়ে দিতে আদেশ দেন পিতা-মাতা তবু তাদের অবাধ্য হয়ো না। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২০৭৫}

عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَتْ لِي امْرَأَةٌ كُنْتُ أُحِبُّهَا، وَكَانَ أَبِي يَكْرَهُهَا، فَقَالَ لِيطَلِّقْهَا، فَأَبَيْتُ، فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: «طَلِّقْهَا» فَطَلَّقْتُهَا

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একজন স্ত্রী ছিল। যাকে আমি ভালবাসতাম। কিন্তু আমার পিতা [হযরত উমর বিন খাত্তাব রাঃ] তাকে পছন্দ করতো না। তিনি আমাকে বললেন, তাকে তালাক দিতে। কিন্তু আমি তালাক প্রদান করতে অস্বিকৃতি জানালাম। তখন আমার পিতা রাসূল সাঃ এর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করলে রাসূল সাঃ বললেন, তাকে তালাক দিয়ে দিতে। ফলে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করি। {মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালিসী, হাদীস নং-১৯৩১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৪৭১২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫১৩৮}

اربع من النساء لا عدة عليهن المطلقة قبل الدخول، (الفتاوى الهندية، الباب الثالث عشر فى العدة-1\526)

إن كان الفساد بعجزه عن الوطئ حقيقة لا يجب عليها العدة، وكذا لو طلقها قبل الخلوة، (خانية على هامش الهندية-1\549)

وسبب وجوبها عقد النكاح المتأكد بالتسليم، وما جرى مجراه من موت أو خلوة أى صحيحة (الدر المختار مع رد المحتار-5\180)

أما سبب وجوبها فلكل نوع منها سبب، الثانى الدخول حقيقة أو حكما (البحر الرائق-4\216، الفتاوى التاتارخانية-5\226، رقم-7722)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

ফজরের নামাযে কুনুতে নাজেলা কি হযরত উমর রাঃ সারা বছর পড়তেন?

প্রশ্ন From: মাহমুদ বিষয়ঃ কুনূতে নাযেলা প্রশ্নঃ উমার রাঃ এর আমল হিসেবে আমাদের মসজিদে ফজর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস