প্রচ্ছদ / আধুনিক মাসায়েল / ডিগ্রি বিহীন ডাক্তারের উপার্জন কী হালাল?

ডিগ্রি বিহীন ডাক্তারের উপার্জন কী হালাল?

প্রশ্ন

আছছালামুআলাইকুম, মুফতি সাহেব। আমার একজন আত্মীয় হাসপাতালে চাকুরি করেন যিনি ঔষধ দেখাশুনা করেন কিন্তু ডাক্তার নন। তিনি ডাক্তার সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিয়মিত রোগী দেখছেন। আমার প্রশ্ন হল

১। রোগী দেখে যে টাকা কামাই করছেন সে টাকা হালাল হবে কি? এমন লোকের সাথে কোরবানী শরিকে দেওয়া যাবে কি?

২। রোগী দেখে যে টাকা কামাই করছেন সেটা যদি হালাল না হয়, সে এটা আর ভবিষ্যতে করবে না কিন্ত যেই টাকা কামাই করেছেন তা সে এখন কি করবে?

 

আব্দুল্লাহ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

উত্তর

وعليكم السلام  ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

ভালো ডাক্তার হবার সম্পর্ক ডাক্তারী ডিগ্রির সাথে নয়। বরং অভিজ্ঞতা এবং এ শাস্ত্রের প্রাজ্ঞতার সাথে।

সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে এ শাস্ত্রে প্রাজ্ঞ হয়ে উঠেন। তাহলে তার জন্য ডাক্তারী করা জায়েজ আছে। সে হিসেবে তার উপার্জিত অর্থও হালাল হবে।

 

আর যদি অভিজ্ঞ না হয়েও এ পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে, তাহলে এ পেশায় আসা তার জন্য জায়েজ নয়। সে গোনাহগার হবে।

সেই হিসেবে তার উপার্জিত অর্থও হালাল হবে না।

 

উপরোক্ত মাসআলা অনুপাতে আপনার উক্ত আত্মীয় যদি আসলেই অভিজ্ঞ এবং প্রাজ্ঞ হয়ে থাকেন, যদিও তার ডাক্তারী সার্টিফিকেট নেই। তবুও তার উপার্জন হালাল। সুতরাং তার সাথে কুরবানী দিতে কোন সমস্যা নেই।

 

আর যদি তার অভিজ্ঞতা ও প্রাজ্ঞতা না থাকার পরও তিনি একাজ করে থাকেন, তাহলে তার কামাই হালাল হবে না। সুতরাং তার সাথে কুরবানী করা যাবে না।

তার উচিত তার উপার্জিত উক্ত অর্থ সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দেয়া।

বিঃদ্রঃ

ডাক্তারী বিদ্যা একটি জটিল বিদ্যা। একাডেমিক জ্ঞান অর্জন এবং বিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে দীর্ঘ সময়ের সংশ্রব ছাড়া এ শাস্ত্রে প্রাজ্ঞতা অর্জন দুস্কর।

তাই ফার্মাসিস্ট বা কম্পাউন্ডিং এর দায়িত্ব পালন করে, নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দেয়া কোনভাবেই জায়েজ হবে না। বরং এটি ধোঁকা ও প্রতারণার শামিল।

সুতরাং এ পরিচয় দিয়ে যে উপার্জন করা হবে তাও জায়েজ হবে না।

তবে ব্যতিক্রম যদি কেউ হন যে, তার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি প্রাজ্ঞতা অর্জন করে থাকেন, তাহলে কেবল উক্ত ব্যক্তির জন্যই ডাক্তারী করা জায়েজ হবে। অন্যথায় নয়।

 

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ – يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ – قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: ” «مَا أَنْزَلَ اللَّهُ – عَزَّ وَجَلَّ – دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ دَوَاءً، عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ، وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ

আব্দুল্লাহ ব্নি মাসঊদ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা এমন কোন রোগ দেননি, যার কোন প্রতিষেধক নেই। এ প্রতিষেধক সম্পর্কিত জ্ঞান কতিপয় লোকেরতো আছে, তবে কতিপয় লোকের এ সংক্রান্ত জ্ঞান নেই।  [মাযমাউয জাওয়ায়েদ, হাদীস নং-৮২৭৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৩৫৭৮,আলমু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-২৫৩৪, আলমু’জামুল কাবীর লিততাবারানী, হাদীস নং-১০৩৩১, মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং-৭৪২৪]

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَطَبَّبَ، وَلَمْ يُعْلَمْ مِنْهُ طِبٌّ قَبْلَ ذَلِكَ، فَهُوَ ضَامِنٌ»

 আমর ইবনে শোআইব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন না করেই চিকিৎসা করলে সে দায়ী হবে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৪৬৬, সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-৪৫৮৬]

عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنِي بَعْضُ الْوَفْدِ الَّذِينَ، قُدِمُوا عَلَى أَبِي قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا طَبِيبٍ تَطَبَّبَ عَلَى قَوْمٍ، لَا يُعْرَفُ لَهُ تَطَبُّبٌ قَبْلَ ذَلِكَ فَأَعْنَتَ فَهُوَ ضَامِنٌ»

আব্দুল আযীয ইবনু উমার ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) বর্ণনা করেন, আমার পিতার নিকট যেসব প্রতিনিধি দল এসেছিল তাদের কেউ কেউ আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যেসব ডাক্তার চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না, তারা যদি কোনো গোত্রের চিকিৎসা করে এবং এর ফলে রোগীর ক্ষতি হয় তাহলে সে এজন্য দায়ী হবে। [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-৪৫৮৭]

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُحِبُّ إِذَا عَمِلَ أَحَدُكُمْ عَمَلًا أَنْ يُتْقِنَهُ»

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা এটা পছন্দ করেন যে, যখন তোমাদের কেউ কোন কাজ করে, তাহলে যেন সে উক্ত বিষয়ে প্রাজ্ঞতা অর্জন করে নেয়। [আলমু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৮৯৭, আলমু’জামুল কাবীর লিততাবারানী, হাদীস নং-৭৭৬, শুয়াবুল ঈমান লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৪৯২৯, মুসনাদে আবী ইয়ালা মুসিলী, হাদীস নং-৪৩৮৬]

فى معارف السنن- من ملك بملك خبيث ولم يمكنه الرد الى المالك فسبيله التصدق على الفقراء (معارف السنن، كتاب الطهارة، باب ما جاء لا تقبل صلاة بغير طهور-1/34، الفتاوى الشامية، باب البيع الفاسد، مطلب فى من ورث مالا حراما-7/301، كتاب الحظر والإباحة، فصل فى البيع-9/554، بذل المجهود، كتاب الطهارة، باب فرض الوضوء- 1/37

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

ফজরের নামাযে কুনুতে নাজেলা কি হযরত উমর রাঃ সারা বছর পড়তেন?

প্রশ্ন From: মাহমুদ বিষয়ঃ কুনূতে নাযেলা প্রশ্নঃ উমার রাঃ এর আমল হিসেবে আমাদের মসজিদে ফজর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস