প্রচ্ছদ / দান-সদকা-হাদিয়া / যাকাতের সম্পূর্ণ টাকা এক ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে?

যাকাতের সম্পূর্ণ টাকা এক ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে?

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম , হুজুর। জাকাতের সব টাকা কি শুধু একজন ব্যক্তিকে দেয়া জায়েজ (যে হকদার ) ??
প্রশ্নকর্তাঃ
From: jabirsarkar81 <jabirsarkar81@gmail.com>

وعليكم السلام ورحمة الله

بسم الله الرحمن الرحيم

حامدا ومصليا و مسلما

উত্তরঃ

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে যাকাতের সম্পূর্ণ টাকা দেওয়া জায়েজ। তবে একজন ব্যক্তিকে এই পরিমাণ যাকাতের টাকা দান করা, যার দরুন সে নিজেই সাহেবে নেসাব হয়ে যায়, মাকরুহ। এজন্য যাকাত গ্রহিতা উপযুক্ত দেখে একাধিক ব্যক্তিকে দান করা উত্তম।

প্রকাশ থাকে যে, যাকাত গ্রহিতা ব্যক্তি যদি ঋণে জর্জরিত হয়। এমন ব্যক্তিকে যাকাতের সম্পূর্ণ টাকা দেওয়া শুধু জায়েজ নয় বরং সাওয়াবের কাজ।

المستندات الشرعية:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ فِي الدُّنْيَا يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ عَلَى مُسْلِمٍ فِي الدُّنْيَا سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ “

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের পার্থিব বিপদ–আপদের একটিও দুর করবে তার কিয়ামতের দিনের বিপথ আল্লাহ তাআলা দুর করে দিবেন; যে ব্যক্তি কোন অস্বচ্ছল ব্যক্তির সংকট আসান করে দিবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার সংকটসমূহ আসান করে দিবেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আল্লাহ তাআলা ততক্ষণ তার বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্যে রত থাকে। (সুনানে তিরমিজি, হাদীস নং ১৯৩০)

قوله ( وندب إغناؤه عن السؤال ) وينبغي أن ينظر إلى ما يقتضيه الحال في كل فقير من عيال أو حاجة كدين وثوب قال في النهر واقتضى كلامه أن الكثير لواحد أولى من توزيعه على جماعة۔(حاشية الطحطاوي على مراقي الفلاح،باب المصرف،ص593)

 وفی الدرالمختار مع الشامي
(وکرہ اعطاء فقیر نصاباً)اوا کثر (الااذاکان) المدفوع الیہ (مدیوناً او)کان (صاحب عیال )بحیث(لو فرقہ۔ علیھم لا یخص کلا) او لا یفضل بعد دینہ (نصاب ) فلا یکرہ
( ج ۲ ص ۹۳ باب المصرف)

و فی الہندیۃ
ویکرہ أن یدفع إلی رجل مأتی درہم فصاعدًا وإن دفعہ جاز ہذا إذا لم یکن الفقیر مدیونًا فإن کان مدیونًا فدفع إلیہ مقدار ما لو قضی بہ دینہ لا یبقی لہ شئ أو یبقی دون المأتین لا بأس بہ، وکذا لو کان معیلا جاز أن یعطي لہ مقدار ما لو وزع عیالہ یصیب کل واحد منہم دون المأتین۔ (کتاب الزکاۃ، الباب السابع في المصارف، مکتبۃ زکریا قدیم ج1، ص88)

والله أعلم بالصواب

উত্তর লিখনে
মুহা. শাহাদাত হুসাইন , ছাগলনাইয়া, ফেনী।

সাবেক শিক্ষার্থী: ইফতা বিভাগ
তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

সত্যায়নে
মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী দা.বা.

পরিচালক তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

উস্তাজুল ইফতা জামিয়া কাসিমুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা।

প্রধান মুফতী: জামিয়াতুস সুন্নাহ লালবাগ, ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

আরও জানুন

বিয়ের অনুমতি প্রদানকারীর উপস্থিতিতে উকীল একজন সাক্ষীর সামনে বিয়ে করালে বিবাহ হবে?

প্রশ্ন আসসালামুআলাইকুম। আমার স্বামী আমাকে অজ্ঞাতাবসত তিন তালাক দেন। আমি দ্বীনের পথে আসার পর জানতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস