প্রচ্ছদ / পরিবার ও সামাজিকতা / চিকিৎসা হিসেবে উত্তেজক ভিডিও দেখা কি জায়েজ?

চিকিৎসা হিসেবে উত্তেজক ভিডিও দেখা কি জায়েজ?

প্রশ্ন

প্রশ্নকর্তা- মুজাহিদ হাদী

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ!

এ প্রশ্নটির উত্তর পেলে উপকৃত হবো। উত্তরের জন্য অপেক্ষায় রইলাম। আর সাইটে এটি প্রকাশিত করলে দয়া করে আমার পরিচয় গোপন রাখবেন।

প্রশ্ন

আমি বিবাহিত। আড়াই বছর যাবত। আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করে আমাকে হেদায়াত নসীব করেছেন। আমি গত এক বছর ধরে সুন্নতী জিন্দেগী যাপনের চেষ্টা করছি। হালাল-হারাম বুঝে চলার চেষ্টা করি। আমার এ পরিবর্তনের পর থেকে আমি লক্ষ্য করছি আমাকে কোনভাবেই মেয়ে মানুষ আকৃষ্ট করতে পারে না। অর্থাৎ আমি আকৃষ্ট হইনা। চোখের সামনে পড়ে গেলেও চোখ ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ধারাবাহিকভাবেই দেখা গেল কিছুদিন পর আমি আমার স্ত্রীর সাথেও দৈহিতভাবে মিলিত হতে আগ্রহ বোধ করি না। কিছুদিন আগেই আমর স্ত্রী গর্ভবতী হতেছিল। কিন্তু একটা সময় গিয়ে আর হয়নি। এখন আবার আমরা বাচ্চা নিতে চাইছি। কিন্তু আমাদের মধ্যে খুবী কম মেলামেশা হয়। আর হলেও আমি একটিভ না। বা ব্যাপারটা এমন যে, আমি নিজের উপর জোর করছি। তাই স্বাভাবিকতা কাজ করে না। আমার স্ত্রী আমাকে যৌন উত্তেজক ভিডিও দেখার জন্য বলে। যদি এতে আমার কাজ হয়। কিন্তু আমি তার কথা এড়িয়ে যাই। কেননা, এটা হারাম। অপরদিকে আমার মধ্যে একটা মানসিক অসুস্থ্যতা কাজ করে যে, আমি আমার স্ত্রীর হক নষ্ট করছি। অপরদিকে নিজেকে ঠিক করতে পারছি না।

একবার কথা প্রসঙ্গে এক ডাক্তার বলেন, এ ধরণের কেসে তারা ভিডিও হেল্প নিতে পরামর্শ দেন ট্রিটমেন্ট হিসেবে। এমতাবস্থায় আমার জন্য ট্রিটমেন্ট হিসেবে কি যৌন উত্তেজক ভিডিও দেখা জায়েজ হবে?

শরীয়তের আলোকে রেফারেন্সসহ উত্তর দিলে খুবই উপকৃত হবো।

জবাব:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনি সুন্নতী জীবন যাপন শুরু করেছেন। এটি খুবই খুশির খবর। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনার আমলকে কবুল করুন। সেই সাথে পরনারীর দিকে দৃষ্টিপাত করতে আপনার মনই চায় না, এটিও খুবই উত্তম সিফাত। কিন্তু সুন্নাতী জীবন করলে আপনি রাসূল সাঃ এর স্ত্রীদের সাথে ভাল ব্যবহার করার সুন্নাত, স্ত্রীদের যাবতীয় অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে গভীর দৃষ্টি রাখার সুন্নাতের ব্যাপারে কেন গাফেল হবেন? স্ত্রীর সাথে ৪ মাসে অন্তত একবার হলেও শারিরিকভাবে মিলিত হওয়া এটা স্ত্রীর অধিকার। এটা থেকে তাকে আপনি কিছুতেই বঞ্চিত করতে পারেন না।

আপনি হয়তো ভেবে নিয়েছেন যে,স্ত্রীর কাছে গেলে দ্বীনদার হওয়া যাবে না। আপনার এ ধারণাটি ভুল। যদি তাই হতো রাসূল সাঃ কখনো স্ত্রীদের কাছে সপ্তাহের দিন পালা করে প্রতিটি স্ত্রীর ঘরেই রাত্রি যাপন করতেন না।

আপনার বর্তমান অবস্থাটি হতে পারে দু’টি কারণে। যথা-

১-স্ত্রীর কাছে গমণকে দ্বীনদারীর জন্য ক্ষতিকর ভাবার কারণে। অন্য শব্দে বললে বলা যায় মানসিক কারণে।

২-শারিরীকভাবে অসুস্থ্য হওয়ার কারণে। অন্য শব্দে বললে শারিরিক অক্ষমতার কারণে।

প্রথম বিষয়টির সমাধানতো পূর্বেই বলা হয়েছে যে, আপনার ধারণাটি সঠিক নয়। তাই স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিকভাবেই আগের মত মিলিত হোন। এবং এটাকে নিশ্চিতরূপে রাসূল সাঃ এর সুন্নাত হিসেবে বিশ্বাস করে নিন। আশা করি তাতে আপনার সমস্যাটি কেটে যাবে।

আর যদি শারিরীক অসুস্থ্যতার কারণে হয়ে থাকে,তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন বা ব্যবহার করুন।

কিন্তু পর্নোগ্রাফী দেখা কিছুতেই এ সমস্যার সমাধান নয়। পর্নো ফিল্ম দেখা হারাম। এতে চোখের জ্যোতি কমে যায়। পর নারী দেখার হারাম গোনাহ হয়।

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ (30) وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ الخ

কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চক্ষুকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের চক্ষুকে অবনত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। {সূরা নূর-৩০,৩১}

عن أبي موسى قال : ( دخلت امرأة عثمان بن مظعون على نساء النبي صلى الله عليه و سلم فرأينها سيئة الهيئة فقلن : ما لك ما في قريش رجل أغنى من بعلك قالت : ما لنا منه شيء ؟ أما نهاره فصائم وأما ليله فقائم قال : فدخل النبي صلى الله عليه و سلم فذكرن ذلك له فلقيه النبي صلى الله عليه و سلم فقال : يا عثمان أما لك في أسوة ؟ ) قال : وما ذاك يا رسول الله فداك أبي وأمي ؟ قال : ( أما أنت فتقوم الليل وتصوم النهار وإن لأهلك عليك حقا وإن لجسدك عليك حقا صل ونم وصم وأفطر ) قال : فأتتهم المرأة بعد ذلك عطرة كأنها عروس

আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

হযরত ওসমান ইবনে মাযউন (রাঃ) এর স্ত্রী মলিন বদন এবং পুরাতন কাপড়ে নবী করিম(সাঃ) এর বিবিদের কাছে এলেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার এই অবস্থা কেন? কুরাইশদের মাঝে তোমার স্বামী থেকে ধনী কেউ নেই।তিনি বললেন, এতে আমাদের কি হবে? কেননা আমার স্বামীর রাত নামাযে কাটে ও দিন রোযায় কাটে। তারপর নবী করিম(সাঃ) প্রবেশ করলেন। তখন নবীজীর স্ত্রীগণ বিষয়টি তাকে বললেন। অত:পর হযরত ওসমান ইবনে মাযউন(রাঃ) এর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি তাকে বললেন,-“আমার মধ্যে কি তোমার জন্য কোন আদর্শ নাই?” হযরত ওসমান(রা.) বললেন, কি বলেন? আমার পিতাও মাতা আপনার নামে উৎস্বর্গিত! তখন তিনি বললেন-“তাহলে তুমি রাতে নামায পড় আর দিনে রোযা রাখনা? অথচ তোমার উপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে, আর তোমার উপর তোমার শরীরেও হক রয়েছে, তুমি নামাযও পড়বে, আবার ঘুমাবেও, আর রোযাও রাখবে আবার ভাঙ্গবেও”। তিনি বলেনে তারপর আরেকদিন তার স্ত্রী পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিত অবস্থায় এলেন যেন নববধু।(সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৩১৬)

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

টাইগার/স্পিড/রেডবুল ইত্যাদি এনার্জি ড্রিংকস খাওয়া কি হালাল?

প্রশ্ন محمد حنجالا টাইগার, স্পিড, রেডবুল এসব এনার্জি ড্রিংকস পান করা কি হালাল? এসব পণ্যের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস