প্রচ্ছদ / নামায/সালাত/ইমামত / চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযে প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যাবার পর বসলে নামায হবে কি?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযে প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যাবার পর বসলে নামায হবে কি?

প্রশ্ন

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা

আমার নাম: মো: শাহাদৎ হোসেন

আমার বাড়ী, বগুড়া সদরে, আমি একজন চাকুরীজিবী

ভাই, নামায আদায় করতে গিয়ে (জামাআতে অথবা এককী নামাজে) প্রায় আমি একটি সমস্যায় পরতেছি। দয়া করে উত্তর দিয়ে আমাকে দিন সঠিকভাবে মানার সহযোগিতা করবেন।

চার রাকাআত অথবা তিন রাকাআত বিশিষ্ট কোন নামাজের ক্ষেত্রে দুই রাকাআত নামায পর বৈঠক করা ওয়াজিব কিন্তু আমি যদি ভুল করে অথবা ইমাম সাহেব যদি ভুল করে দুই রাকাত নামাযের পর বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যায় (যে অবস্থা হলে দাঁড়ানো বুঝায়) আর মুক্তাদী যদি তাগবির দেয় অতপর ইমাম সাহেব যদি বসে পড়ে এবং নামায শেষে সাহু সেজদা দিয়ে নামায শেষ করে তাহলে কি নামায সহি হবে।

আমার জানামতে দুই রাকাত পর বৈঠক করা ওয়াজিব ও দাঁড়ানো ফরজ। এখানে ইমাম সাহেব যদি ভুলক্রমে ওয়াজিব ছেড়ে ফরজে চলে যায় আর মুক্তাদীগণ তাগবির দিলে ইমাম সাহেব ফরজ থেকে আবার ওয়াজিবে আসে এক্ষেত্রে সাহু সেজদা দিলে নামায হবে? নাকি নামাজ আবার পড়তে হবে। দয়া করে জানালে নামাজের একটি মাসায়ালা জানতে পারবো ও সহিভাবে আমল করতে পারবো।

উত্তর

وعليكم السلام ورحنة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আসলে এ মাসআলা নিয়ে ফক্বীহদের মাঝে মতভেদ আছে। একদলের মতে এতে করে নামায ফাসিদ হয়ে যায়। তথা নামায ভেঙ্গে যাবে। কারণ ইমামের জন্য প্রথম বৈঠকে ফিরে যাওয়া উচিত হয়নি। বরং তার জন্য দাঁড়িয়ে বাকি নামায আদায় করে সাহু সেজদা দিলেই নামায হয়ে যেত। কিন্তু সে তারতীব নষ্ট করে অযথাই দাঁড়ানোর পর আবার বসেছে।

তবে ইবনুল হুমাম রহঃ সহ অনেক ফক্বীহই এতে করে নামায নষ্ট হয়নি বলে ফাতওয়া প্রদান করেছেন।

বর্তমানে যেহেতু অধিকাংশ মানুষই নামাযের মাসআলা সম্পর্কে অভিজ্ঞ নন।তাই ইবনুল হুমাম রহঃ এর বক্তব্য অনুপাতে বলা যায় নামায নষ্ট হয়নি। বাকি সাহু সেজদা দিতে হবে। আর এটি ভুল তরীকা। ইচ্ছেকৃতভাবে করলে ব্যক্তি গোনাহগার হবে। আর ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল না করে এজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

উক্ত বিষয়টি জামাতে নামায পড়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু যদি একাকী নামায পড়ার সময় এমন হয়। তাহলে নামায পুনরায় পড়তে হবে।

(لَا) يَعُودُ لِاشْتِغَالِهِ بِفَرْضِ الْقِيَامِ (وَسَجَدَ لِلسَّهْوِ) لِتَرْكِ الْوَاجِبِ (فَلَوْ عَادَ إلَى الْقُعُودِ) بَعْدَ ذَلِكَ (تَفْسُدُ صَلَاتُهُ) لِرَفْضِ الْفَرْضِ لِمَا لَيْسَ بِفَرْضٍ وَصَحَّحَهُ الزَّيْلَعِيُّ (وَقِيلَ لَا) تَفْسُدُ لَكِنَّهُ يَكُونُ مُسِيئًا وَيَسْجُدُ لِتَأْخِيرِ الْوَاجِبِ (وَهُوَ الْأَشْبَهُ) كَمَا حَقَّقَهُ الْكَمَالُ وَهُوَ الْحَقُّ بَحْرٌ، وَهَذَا فِي غَيْرِ الْمُؤْتَمِّ؛ أَمَّا الْمُؤْتَمُّ فَيَعُودُ (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب سجود السهو-2/84، سعيد، البحر الرائق، كتاب الصلاة، باب سجود السهو-2/178-179، حاشية الشبلى على تبيين الحقائق، كتاب الصلاة، باب سجود السهو-1/479، دار الكتب العلمية بيروت)

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

মুসলমানের জন্য কাফেরের সাথে বিবাহ করার হুকুম কী?

প্রশ্ন From: সারওয়ার বিষয়ঃ অমুসলিম বা কাফের এর সাথে সম্পর্ক করা যাবে কি না?? প্রশ্নঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস