প্রশ্ন
আসসালামু ওয়ালাইকুম।
[নাম গোপন রাখা হল] সিলেট।
সরাসরি প্রশ্নে চলে যাচ্ছি,
আমাদের সম্পর্কের ২ বছর হল। সে খ্রিষ্টান, আমি তাকে প্রচন্ড রকমের ভালবাসি। সেও আমাকে প্রচন্ড ভালবাসে, সে তার মা-বাবা ছেড়ে আমার কাছে আসতে রাজী। দুজনই এখন পড়াশোনা করছি, আমি অনার্স ১ম বর্ষ সে ইন্টারে পড়াশোনা করছে।
আমাদের ভিতরে আর কোনো সমস্যা নেই, সমস্যাটা হল সে খ্রিষ্টান আমি মুসলিম।
তাকে মুসলিম করার চেষ্টা করতেছি, এবং করে যাবো।
তার পরিবারের সবাই আমাদের সম্পর্কের কথা জানে। তার বাবা হটাৎ একদিন তাকে বলে দিয়েছে ত্যাজ্য করে দিবে যদি সে আমার কাছে আসার চেষ্টা করে। অপর দিকে সেও মুসলিম হতে নারাজ। তাছাড়া তার বাবাও তাকে পড়াশোনার খরচ বা হাত খরচ দেয় না।
সে আত্নীয় স্বজন বা টিওশনি পড়িয়ে চলে।
প্রশ্ন গুলোঃ
এই পরিস্থিতিতে আমি তাকে বিয়ে করতে পারবো না?
আশাকরি আমার ব্যপারটা বুঝেছেন। আমি কি করবো তা বলে দিন।
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনাদের সম্পর্কটি শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম সম্পর্ক। বিবাহ পূর্ব গায়রে মাহরাম ছেলে মেয়ের অবাধ দেখা সাক্ষাৎ, অপ্রয়োজনীয় কথা বলা হারাম।
সে হিসেবে আপনাদের এ সম্পর্কের দরূন আপনাদের গোনাহে কবীরা হচ্ছে। এ থেকে জলদি তওবা করা আবশ্যক।
দ্বিতীয় যে বিষয় এসেছে, সেটি হল খৃষ্টান মেয়েকে বিবাহ করা। যদি মেয়েটি মুসলিম হয়ে যায়, তাহলে গোনাহ থেকে বাঁচতে তাকে দ্রুত বিয়ে করে ফেলুন।আর যদি মুসলিম হতে রাজি না হয়, পরবর্তীতে এ নিয়ে বিবাদ হবার সম্ভাবনা থাকে, কিংবা আপনাদের ছেলে মেয়ের খৃষ্টান হবার আশংকা থাকে, কিংবা আপনার নিজের মাঝেই খৃষ্টবাদের প্রভাব বিস্তার হবার শংকা তৈরী হয়, তাহলে উক্ত মেয়ে খৃষ্টান থাকা অবস্থায় তাকে বিবাহ করা ঠিক হবে না। বাকি এমন কোন সম্ভাবনা না থাকলে সেই সাথে নাস্তিকতায় বিশ্বাসী না হলে খৃষ্টান থাকা অবস্থায়ও উক্ত মেয়েকে বিবাহ করা আপনার জন্য জায়েজ আছে। যদিও উত্তম নয়। সেই সাথে নিরাপদও নয়।
কিন্তু যদি নাস্তিক প্রকৃতির হয় তাহলে তাকে বিবাহ করা জায়েজ হবে না।
عن ابن عمر قال : خطبنا عمر بالجابية الخ ألا لا يخلون رجل بامرأة إلا كان ثالثهما الشيطان
হযরত ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখনই কোন পুরুষ পর নারীর সাথে নির্জনে দেখা করে তখনই শয়তান সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়। {সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-২১৬৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৫৫৮৬}
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ (30) وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ الخ
কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চক্ষুকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের চক্ষুকে অবনত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। {সূরা নূর-৩০,৩১}
كل من يعتقد دينا سماويا وله كتاب منزل كصحف إبراهيم وشيث وزبور داود فهو من أهل الكتاب فتجوز مناكحتهم (الفتاوى الهندية، كتاب النكاح، الباب الثالث فى بيان المحرمات-1/281، رد المحتار، كتاب النكاح، فصل فى المحرمات-3/45، فتح القدير، كتاب النكاح، فصل فى الحمرمات-3/228، البحر الرائق، كتاب النكاح، فصل في المحرمات، تبيين الحقائق، فصل فى المحرمات)
فمن المتزوجين حذيفة وطلحة وكعب بن مالك وغضب عمر فقالوا نطلق يا أمير المؤمنين وإنما كان غضبه لخلطة الكافرة بالمؤمن وخوف الفتنة على الولد لأنه في صغره ألزم لأمه ومثله قول مالك تصير تشرب الخمر وهو يقبل ويضاجع لا لعدم الحل (فتح القدير، كتاب النكاح، فصل في بيان المحرمات-3/230)
وفى رد المحتار- ويجوز تزوج الكتابيات والأولى أن لا يفعل ، ولا يأكل ذبيحتهم إلا للضرورة (الفتاوى الشامية، كتاب النكاح، فصل فى المحرمات،3/45
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
আহলে হক মিডিয়ার সফটওয়ারটি এই ওয়েবসাইটে দিলে খুব ভাল হত