প্রচ্ছদ / আধুনিক মাসায়েল / পেশাদার লিগ এবং ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলার বৈধতা সম্পর্কে বিস্তারিত

পেশাদার লিগ এবং ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলার বৈধতা সম্পর্কে বিস্তারিত

প্রশ্ন

From: শামিম
বিষয়ঃ ক্রিকেট

প্রশ্নঃ
ক্রিকেট খেলে যেমন BPL  অন্যান্য পেশাদার লিগ খেলে যে টাকা পাওয়া যাই সেই টাকা হালাল না হারাম ? আসলে ক্রিকেট এর পুরা বিষয়টা জানাবেন এটা খেলা হালাল না হারাম হবে ?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

দ্বীনে ইসলাম আমভাবে সকল খেলাধুলাকে নিষিদ্ধ করেনি। বরং দ্বীনী বা দুনিয়াবী তথা শারিরীক উপকারী খেলাধুলার শুধু অনুমতি প্রদান করেনি, বরং উৎসাহ প্রদান করেছে।

যেমন এক হাদীসে এসেছে যে,

উকবা   ইবন  আমির  (রাঃ)  হতে  বর্ণিত।  তিনি বলেন,  আমি  রাসূলূল্লাহ্  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে  বলতে  শুনেছি,

لَيْسَ مِنَ اللَّهْوِ إِلاَّ ثَلاَثٌ ‏:‏ تَأْدِيبُ الرَّجُلِ فَرَسَهُ وَمُلاَعَبَتُهُ أَهْلَهُ وَرَمْيُهُ بِقَوْسِهِ وَنَبْلِهِ، وَمَنْ تَرَكَ الرَّمْىَ بَعْدَ مَا عَلِمَهُ رَغْبَةً عَنْهُ فَإِنَّهَا نِعْمَةٌ تَرَكَهَا ‏”‏ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏:‏ ‏”‏ كَفَرَهَا ‏”‏ ‏.‏

তিন  প্রকারের  বিনোদন  ছাড়া  অন্য  কোন  প্রকার  বিনোদন  অনুমদিত  নয়।  ১.  পুরুষের  জন্য  তার  ঘোড়াকে  কৌশলের  প্রশিক্ষণ  দান।  ২.  স্বীয়  স্ত্রীর  সাথে আমোদ-প্রমোদ  করা।  ৩.  তীর  ধনুক  পরিচালনার  প্রশিক্ষণ  দেয়া,  সে  যেন  একটি  উত্তম  নে‘আমত   ত্যাগ  করল।  অথবা  তিনি  বলেছেন,  নে‘আমত  অস্বীকার   করল  ও  অকৃতজ্ঞ  হল। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৫১৩, ইফাবা-২৫০৫]

উল্লেখিত হাদীসে তিন প্রকার খেলাকে ‘অনর্থক বিনোদন’ এর তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কেননা, ”لہو “    এমন বিষয়কে বলা হয়, যাতে দ্বীনী ও দুনিয়াবী কোন ফায়দা নেই। অথচ উক্ত তিনটি বিনোদনই উপকারী। যদ্দারা দ্বীনী ও দুনিয়াবী উপকার লাভ হয়। তাই এ তিনটিকে বৈধ রাখা হয়েছে।

তিরন্দাজীর এবং ঘোরসওয়ারীর মাধ্যমে জিহাদের ট্রেনিং হয়। স্ত্রীর সাথে খোশগল্প ইত্যাদির মাধ্যমে সন্তানের হক আদায়ের সহযোগী হয়।

ফুক্বাহায়ে কেরাম হাদীসকে সামনে রেখে খেলাধুলা ও বিনোদন বিষয়ে কয়েকটি মূলনীতি বের করেছেন।

সেসব মূলনীতিগুলোকে সামনে রাখলে বর্তমানের সকল প্রকার খেলার হুকুমই জানা যায়।

মূলনীতিগুলো নিম্নরূপঃ-

১- খেলাটি মৌলিকভাবে জায়েজ হতে হবে। তাতে নাজায়েজ কোন কিছু না থাকতে হবে। যেমন দৌড় , ঘোর সওয়ার ইত্যাদি।

২- এতে দ্বীনী বা দুনিয়াবী উপকারীতা থাকতে হবে। যেমন শারিরীক ব্যায়ম ইত্যাদি। শুধুমাত্র সময় ক্ষেপন অনর্থক বিনোদনের উদ্দেশ্যে না হতে হবে।

৩- খেলার মাঝে শরীয়ত বিরোধী কোন কিছুর অনুপ্রবেশ না করতে হবে।

৪- খেলায় এতোটা সীমালঙ্ঘণ করা যাবে না, যার কারণে ফরজ বিধানে গাফলতী চলে আসে।

فالضابط في هذا … أن اللهو المجرد الذي لا طائل تحته، وليس له غرض صحيح  مفيد في المعاش ولا المعاد حرام أو مكروه تحريماً، … وما كان فيه غرض  ومصلحة دينية أو دنيوية فإن ورد النهي  عنه من الكتاب  أو السنة … كان حراماً أو مكروهاً تحريماً، … وأما مالم يرد فيه النهي عن الشارع وفيه فائدة ومصلحة للناس فهو بالنظر الفقهي على نوعين: الأول: ما شهدت التجربة بأن ضرره أعظم من نفعه، ومفاسده أغلب على منافعه، وأنه من اشتغل  به ألهاه عن ذكر الله  وحده  وعن الصلاة والمساجد، التحق ذلك بالمنهي عنه؛ لاشتراك العلة، فكان حراماً أو مكروهاً. والثاني: ماليس كذلك، فهو أيضاً إن اشتغل به بنية التهلي والتلاعب فهو مكروه، وإن اشتغل به لتحصيل تلك المنفعة وبنية استجلاب المصلحة فهو مباح، بل قد ير تقي إلى درجة الاستحباب أو أعظم منه … وعلى هذا الأصل فالألعاب التي يقصد بها رياضة الأبدان أو الأذهان جائزة في نفسها مالم يشتمل على معصية أخرى، وما لم يؤد الانهماك فيها إلى الإخلال بواجب الإنسان في دينه و دنياه“. (تکملہ فتح المہم، قبیل کتاب الرؤیا، (4/435) ط:  دارالعلوم کراچی)

উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে বর্তমানের অধিকাংশ খেলাই নাজায়েজ ও নিষিদ্ধতার আওতাধীন হয়ে যায়।

এর মাঝে কিছু খেলাতো এমন যে, তাতে যে পোশাক পরিধান করা হয়, তা দ্বারা সতরের অংশ বিশেষ প্রকাশ পায়। এমন টাইট হয় যে, এর দ্বারা সতরের অবস্থা পরিস্কার বুঝা যায়।

কিছু খেলায় জুয়া বিদ্যমান। কিছু খেলায় পুরুষ নারীর অবাধ মেলামেশা।

কতিপয় খেলাতো এমন যাতে কোন দ্বীনী এবং দুনিয়াবী উপকারীতাই নেই।

বর্তমান খেলাধুলা এমন ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করেছে যে, যা গা শিউরে উঠার মত। শিশু থেকে নিয়ে অশীতিপর বৃদ্ধ পর্যন্ত খেলায় মত্ত হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে শরীয়তের ফরজ বিধান পালনে অনেক ধার্মিকের মাঝেও প্রচণ্ড গাফলতী পরিলক্ষিত হয়।

খেলা নিয়ে নিম্নশ্রেণী থেকে রাষ্ট্রের উচ্চশ্রেণীর মাঝে যে পরিমাণ উন্মাদনা দেখা যায়, তাতে মনে হয় আমরা বুঝি দুনিয়াতে টিকে আছে খেলার জন্যই।

যুবক শ্রেণী বুঝি খেলাধুলার জন্যই দুনিয়াতে এসেছে। খেলাকেই নিজের জীবনের মাকসাদ বানিয়ে ফেলে। যা খুবই দুঃখজনক ও পরিতাপের বিষয়।

এভাবে খেলাধুলা নিয়ে মদমত্ত হওয়া কোনভাবেই জায়েজ নয়।

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ } [لقمان: 6]

ولهو الحديث على ما روي عن الحسن: كل ما شغلك عن عبادة الله تعالى وذكره من السمر والأضاحيك والخرافات والغناء ونحوها“. (تفسیر آلوسیؒ (11 / 66)، سورۃ لقمان، ط:دار الکتب العلمیہ)

মোটকথা হল, যদি ক্রিকেট খেলার মাঝে উপরে বর্ণিত খারাবী পাওয়া যায়, যেমন ফরজ/ওয়াজিব বিধান পালনে অলসতা, তাতে শরীয়ত বিরোধী কাজকর্ম যেমন নারীদের সংশ্রব, জুয়া, গান বাদ্য, বেপর্দা বা অনর্থক বিনোদন মাকসাদ হয়, তাহলে উক্ত ক্রিকেট খেলা এবং দেখা উভয়ই নাজায়েজ।

আর যদি উপরে বর্ণিত সকল শর্ত পূর্ণভাবে পাওয়া যায়, তাহলে ক্রিকেট খেলাতে কোন সমস্যা নেই।

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বুঝা গেল যে, বিপিএল এর মত একটি জুয়া সর্বস্ব লীগ ক্রিকেট খেলা সম্পূর্ণরূপে নাজায়েজ। কারণ, এতে উপরে বর্ণিত খেলা নিষিদ্ধ হবার একাধিক কারণ পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান রয়েছে।

যেমন, জুয়া, অনর্থক বিনোদন, নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশা, বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ইত্যাদি।

সুতরাং এসব খেলা এবং দেখা উভয়ই বর্জন করা জরুরী।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

পেশাবের দশ পনের মিনিট পর পেশাবের ফোটা আসার সন্দেহ হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন From: আব্দুলাহ আনাস বিষয়ঃ পবিত্রতা প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন হুজুর? এক ব্যক্তি বড় দীর্ঘ দিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস