প্রচ্ছদ / কুরবানী/জবেহ/আকীকা / কুরবানী বিষয়ক কয়েকটি জরুরী মাসায়েল

কুরবানী বিষয়ক কয়েকটি জরুরী মাসায়েল

মাওলানা ফজলুদ্দীন মিকদাদ

পুণ্যময় যিলহজ্ব মাস চলছে। পবিত্র এই মাস মুসলমানদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। ইসলামের পাঁচ রুকনের এক রুকন তথা হজ্ব-এর মতো শ্রেষ্ঠ ইবাদত এ মাসেই সংঘটিত হয়। সেইসাথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কুরবানী- এ মাসেই আদায় করা হয়।

কুরবানী কেবল ইসলামী শরীয়তেরই ইবাদত নয়। বরং পূর্ববর্তী সকল শরীয়তেই কুরবানীর বিধান ছিল, যদিও সকলের পন্থা এক ছিল না। মিল্লাতে ইবরাহীমীর সুন্নত এ কুরবানী ইসলামের শিআর বা অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এতে আছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিঃশর্ত আনুগত্যের শিক্ষা এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ ও বিসর্জনের দীক্ষা। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-

قُلْ اِنَّ صَلَاتِیْ وَ نُسُكِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِیْ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ  .

অর্থাৎ, বলে দিন, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার ইবাদত ও আমার জীবন-মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। -সূরা আনআম (৬) : ১৬২

এই কুরবানী আমাদেরকে শেখায়, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যেভাবে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস কুরবানী করতে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছেন, তেমনি আমরাও যেন আপন মনোবাসনা বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদেরকে উৎসর্গ করি। এবং সব অবৈধ মনোবৃত্তি ও পাপাসক্ত মনোভাব ঝেড়ে ফেলি।

ইসলামে কুরবানীর গুরুত্ব অনেক। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক এমন প্রত্যেক ব্যক্তির কুরবানী আদায় করা ওয়াজিব। কেউ ওয়াজিব কুরবানী না করলে তার ব্যাপারে হাদীসে কঠোর ধমকি এসেছে।

মিখনাফ ইবনে সুলাইম রা. বলেন-

كُنّا وُقُوفًا مَعَ النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِعَرَفَاتٍ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: يَا أَيّهَا النّاسُ، عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُضْحِيّةٌ.

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আরাফায় অবস্থান করছিলাম, তখন আমি শুনলাম তিনি বলছেন, হে লোকসকল! প্রত্যেক ঘরওয়ালার উপর প্রত্যেক বছর কুরবানী আবশ্যক। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৪৭৮৬

যেই ঘরে নেসাবের মালিক একাধিক ব্যক্তি থাকে, সেই ঘরে প্রত্যেক নেসাবওয়ালাকে কুরবানী করতে হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও প্রত্যেক বছর কুরবানী করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন-

أَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِالمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُضَحِّي كُلّ سَنَةٍ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় দশ বছর ছিলেন। প্রতি বছরই কুরবানী করেছেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫০৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৪৯৫৫

কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যারা কুরবানী করে না, তাদের ব্যাপারে অন্য এক হাদীসে এসেছে; আবূ হুরায়রা রা. বলেন-

قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার কুরবানীর সামর্থ্য আছে, তবুও সে কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ‘মুসল্লা’ (ঈদগাহ)-এ না আসে। -মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৭৫৬৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮২৭৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১২৩

সমস্ত ইবাদতের ক্ষেত্রেই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত যেমন জরুরি, তেমনি সেই ইবাদত শরীয়তসম্মত পথ ও পদ্ধতিতেই করা আবশ্যক। মনগড়া পন্থায় তা আদায় করলে সওয়াবের পরিবর্তে উল্টো গুনাহ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই খুব ভালোভাবে কুরবানীর মাসআলা-মাসায়েল জেনে নিতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে, যেন কুরবানী আদায়ে ভুল-ত্রুটি না হয়, অথবা না জানার কারণে ওয়াজিব কুরবানী ছুটে না যায়।

অংশীদারিতে কুরবানী

উট, গরু বা মহিষে এক থেকে সাত পর্যন্ত যেকোনো ভাগেই কুরবানী করা যায়। আর ভেড়া, দুম্বা বা ছাগলে একের অধিকজনে কুরবানী জায়েয নেই।

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন-

خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ:فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنْ نَشْتَرِكَ فِي الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ، كُلّ سَبْعَةٍ مِنّا فِي بَدَنَةٍ.

আমরা হজ্বের ইহরাম বেঁধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম। তিনি আমাদেরকে আদেশ করলেন, যেন আমরা প্রতিটি উট ও গরুতে সাতজন করে শরীক হয়ে কুরবানী করি। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩১৮

অপর এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একটি গরু সাত জনের পক্ষ থেকে এবং একটি উট সাত জনের পক্ষ থেকে (কুরবানী করা হবে)। -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৪০০৬; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ২৯০১; জামে তিরমিযী, হাদীস ৯০৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮০৮

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা

হানাশ রাহ. বলেন-

رَأَيْتُ عَلِيّا يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ، فَقُلْتُ مَا هَذَا؟ فَقَالَ: إِنّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَوْصَانِي أَنْ أُضَحِّيَ عَنْهُ فَأَنَا أُضَحِّي عَنْهُ.

আমি আলী রা.-কে দেখলাম, দুটি দুম্বা কুরবানী করছেন। আমি বললাম, দুটি কেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ওসীয়ত করেছেন, তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানী করতে। তাই আমি তাঁর পক্ষ থেকেও কুরবানী করছি। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯০; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৪৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২৮৬

আলী রা. প্রত্যেক বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করতেন। সুতরাং সামর্থ্য থাকলে তাঁর পক্ষ থেকে নফল কুরবানী করা উত্তম।

কুরবানীর পশুর বয়সসীমা

কুরবানীর পশু উটের ক্ষেত্রে ৫ বছর বয়সী, গরু বা মহিষের ক্ষেত্রে ২ বছর বয়সী হতে হবে। ভেড়া, দুম্বা বা ছাগলের ক্ষেত্রে অন্তত ১ বছর বয়সী হতে হবে, তবে ছ’মাস বয়সী হৃষ্টপুষ্ট ভেড়া বা দুম্বা হলেও চলবে।

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন

قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: لَا تَذْبَحُوا إِلّا مُسِنّةً، إِلّا أَنْ يَعْسُرَ عَلَيْكُمْ، فَتَذْبَحُوا جَذَعَةً مِنَ الضّأْنِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কুরবানীতে ‘মুছিন্না’ ছাড়া যবেহ করবে না। তবে সংকটের অবস্থায় ছ’মাস বয়সী ভেড়া-দুম্বা যবেহ করতে পারবে। (মুছিন্না হল, ৫ বছর বয়সী উট, ২ বছরের গরু, মহিষ এবং ১ বছর বয়সী ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা -শরহুন নববী)। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১৭৯

কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম

হাদীসে এসেছে-

أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ ضَحّى بِكَبْشَيْنِ سَمِينَيْنِ عَظِيمَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ مُوْجَيَيْنِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি বড় শিংবিশিষ্ট সাদা-কালো বর্ণের হৃষ্টপুষ্ট খাসি দুম্বা জবাই করেছেন। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৫০৪৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১৫৯

অসুস্থ পশুর কুরবানী

বারা ইবনে আযিব রা. বলেন-

أَشَارَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِيَدِهِ وَيَدِي أَقْصَرُ مِنْ يَدِهِ، فَقَالَ: أَرْبَعٌ لَا يضحى بِهِنّ الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَورُهَا، وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا، وَالْعَرْجَاءُ، الْبَيِّنُ ظَلَعُهَا، وَالْعَجْفَاءُ الّتِي لَا تُنْقِي.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত দিয়ে ইশারা করেছেন -আমার হাত তাঁর হাত থেকে ছোট- তিনি ইশারা করে বলছিলেন, চার ধরনের পশু দ্বারা কুরবানী করা যায় না; যে পশুর চোখের দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট, যে পশু অতি রুগ্ন, যে পশু সম্পূর্ণ খোঁড়া এবং যে পশু এত শীর্ণ যে, তার হাড়ে মগজ নেই। -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৯১৯; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৪৯৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮০২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১৮২

অন্য এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে, আলী ইবনে আবী তালিব রা. বলেন-

أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنْ نَسْتَشْرِفَ العَيْنَ وَالأُذُنَ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করেছেন, আমরা যেন (কুরবানীর পশুর) চোখ ও কান ভালোভাবে লক্ষ করি। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৪৯৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮০৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৭৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১৮০

অন্য হাদীসে আছে, আলী রা. বলেন-

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنْ يُضَحَّي بِأَعْضَبِ القَرْنِ وَالأُذُنِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিং ভাঙ্গা এবং কান কাটা পশু দ্বারা কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫০৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮০৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১৮৩

কুরবানী প্রকৃতপক্ষে বান্দার পক্ষ থেকে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে নযরানা পেশ করার নাম। দরবারে আযীমের শান রক্ষা করার সাধ্য তো বান্দার নেই। তাই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম ও ভালো পশু নির্বাচন করাই কাম্য। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰی تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ،  وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَیْءٍ فَاِنَّ اللهَ بِهٖ عَلِیْمٌ.

তোমরা কিছুতেই পুণ্যের স্তরে উপনীত হতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে (আল্লাহর জন্য) ব্যয় করবে। তোমরা যা-কিছুই ব্যয় কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ৯২

সুতরাং এটা খুবই সঙ্কীর্ণমনার পরিচয় যে, অসুস্থ ও ত্রুটিপূর্ণ পশু কুরবানী করে কোনোমতে দায়মুক্ত হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।

যদিও সব ত্রুটির বিধান এক নয়। কোনো কোনো ত্রুটি এমনও রয়েছে, যা একটি স্তর পর্যন্ত ছাড়যোগ্য। বারা ইবনে আযিব রা. কর্তৃক বর্ণিত উক্ত হাদীসের মধ্যে البين শব্দে যার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে এবং ফিক্হ-ফতোয়ার কিতাবে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে। সাধারণ পাঠক তা ফিকহে হানাফীর বাংলা ভাষায় রচিত নির্ভরযোগ্য কোনো গ্রন্থে দেখে নিতে পারবেন।

আগে ঈদের নামায তারপর কুরবানী

বারা ইবনে আযিব রা. বলেন-

خَطَبَنَا النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَوْمَ النّحْرِ، قَالَ: إِنّ أَوّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمّ نَرْجِعَ، فَنَنْحَرَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ أَصَابَ سُنّتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَإِنّمَا هُوَ لَحْمٌ عَجّلَهُ لِأَهْلِهِ لَيْسَ مِنَ النّسُكِ فِي شَيْءٍ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। তাতে বললেন, এই দিনে আমাদের প্রথম কাজ নামায আদায় করা। এরপর কুরবানী করা। সুতরাং যে এভাবে করেছে তার কাজ আমাদের তরীকা মতো হয়েছে। আর যে আগেই যবেহ করেছে, (তার কাজ তরীকা মতো হয়নি, অতএব) তা তার পরিবারের জন্য সময়ের আগেই পাঠানো গোশত, কুরবানী নয়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৯০৭

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে-

قَالَ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصّلاَةِ فَإِنّمَا ذَبَحَ لِنَفْسِهِ، وَمَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصّلاَةِ فَقَدْ تَمّ نُسُكُهُ، وَأَصَابَ سُنّةَ المُسْلِمِينَ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পূর্বে কুরবানীর পশু জবাই করবে সেটা তার নিজের জন্য সাধারণ জবাই হবে। আর যে নামাযের (ও খুতবার) পরে জবাই করবে তার কুরবানী পূর্ণ হবে এবং সে-ই মুসলমানদের রীতি অনুসরণ করেছে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৫৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬১

হাদীসে আছে, কোনো কোনো সাহাবী ভুলক্রমে ঈদের নামাযের আগেই কুরবানী করে ফেলেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে পুনরায় কুরবানী করতে আদেশ করেন। (দ্রষ্টব্য. সহীহ বুখারী ২/৮২৭; সহীহ মুসলিম ২/১৫৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৯১২, ৫৯১৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১৯০; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৯৮)

কুরবানীর আগে কিছু না খাওয়া

কুরবানী আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য মেহমানদারী। এজন্য উত্তম

হল, এদিন সকাল সকাল ঈদের নামায পড়ে, কুরবানী করে, কুরবানীর গোশতই প্রথমে খাওয়া।

বুরাইদা রা. বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: لَا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتّى يَأْكُلَ، وَلَا يَأْكُلُ يَوْمَ الْأَضْحَى حَتّى يَرْجِعَ فَيَأْكُلَ مِنْ أُضْحِيّتِهِ.

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের জন্য না খেয়ে বের হতেন না। আর ঈদুল আযহাতে নামায থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত কিছু খেতেন না। এরপর প্রথমে কুরবানীর গোশত খেতেন। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩০৪২; জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৪২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১৪২৬; সুনানে দারাকুতনী, হাদীস ১৭১৫

নিজ হাতে জবাই করা উত্তম

আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন-

ضَحّى النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ، فَرَأَيْتُهُ وَاضِعًا قَدَمَهُ عَلَى صِفَاحِهِمَا، يُسَمِّي وَيُكَبِّرُ، فَذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি সাদা-কালো বর্ণের নর দুম্বা কুরবানী করেছেন। এবং বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার বলেছেন। আর আমি দেখেছি যে, তিনি দুম্বা দুটির গর্দানে পা রেখে নিজ হাতে সেগুলো জবাই করেছেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৫৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬৬; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৮৭

জবাই করার সময় কষ্ট দেওয়া যাবে না

হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

إِنّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذّبْحَ، وَلْيُحِدّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ، فَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ.

আল্লাহ তাআলা সকল কিছুর উপর অনুগ্রহকে অপরিহার্য করেছেন। এতএব, যখন তোমরা (কাউকে শরীয়ত মুতাবেক হদ বা কিসাস হিসাবে) হত্যা করবে তো উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা কর, যখন যবেহ করবে তো উত্তম পদ্ধতিতে যবেহ কর। এবং প্রত্যেকে তার ছুরিতে শান দিবে, যেন জবাইয়ের প্রাণির বেশি কষ্ট না হয়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৫৫; আবু দাউদ, হাদীস ২৮১৫; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৪০৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৪০৫

অনেকে যবাইয়ের পর পশু ঠান্ডা হওয়ার পূর্বেই চামড়া ছিলার কাজ শুরু করে দেয়, যা মাকরূহ। এ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

জবাই করার সময় কী বলবে?

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন দুটি দুম্বা জবাই করেছেন। যখন সেগুলোকে কেবলামুখী করে শোয়ালেন, তখন বললেন-

إِنِّي وَجّهْتُ وَجْهِيَ لِلّذِي فَطَرَ السّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوّلُ الْمُسْلِمِينَ، بِسْمِ اللهِ اللهُ أَكْبَرُ، اللّهُمّ مِنْكَ وَلَكَ مِنْ مُحَمّدٍ وَأُمّتِهِ.

এরপর যবেহ করেছেন। -সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ২৮৯৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫০২২; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১৭১৬

আয়েশা রা. থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিসমিল্লাহ বলে জবাই করেছেন এবং বলেছেন-

اللهُمّ تَقَبّلْ مِنْ مُحَمّدٍ، وَآلِ مُحَمّدٍ، وَمِنْ أُمّةِ مُحَمّدٍ.

হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে, মুহাম্মাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করুন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৯১৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯২

আরেক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

بِسْمِ اللهِ مِنْكَ وَلَكَ اللهُمّ تَقَبّلَ مِنْ مُحَمّدٍ.

আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! তোমার নিকট থেকে এবং তোমার উদ্দেশ্যে। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। -আল মুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ১১৩২৯

এই হাদীসগুলো থেকে বুঝা গেল, কুরবানীর পশু জবাই করার পর তা কবুলের জন্য আল্লাহর দরবারে উক্ত পদ্ধতিতে দুআ করা মুস্তাহাব। এক্ষেত্রে নিজের নাম উল্লেখ করবে। যাদের জন্য ঈসালে সওয়াব করতে চাচ্ছে, তাদের নামও উল্লেখ করবে।

নিজের কুরবানীর গোশত খাওয়া উত্তম

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِذَا ضَحّى أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ مِنْ أُضْحِيّتِهِ

তোমাদের কেউ যখন কুরবানী করবে সে যেন তার কুরবানীর গোশত খায়। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯০৭৮

কুরবানীর পশুর গোশত বিক্রি করা যাবে না

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন

إِنِّي  كُنْتُ أَمَرْتُكُمْ أَنْ لَا تَأْكُلُوا الْأَضَاحِيّ، فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيّامٍ لِتَسَعَكُمْ، وَإِنِّي أُحِلّهُ لَكُمْ، فَكُلُوا مِنْهُ مَا شِئْتُمْ، وَلَا تَبِيعُوا لُحُومَ الْهَدْيِ، وَالْأَضَاحِيِّ فَكُلُوا، وَتَصَدّقُوا، وَاسْتَمْتِعُوا بِجُلُودِهَا، وَلَا تَبِيعُوهَا، وَإِنْ أُطْعِمْتُمْ مِنْ لَحْمِهَا ، فَكُلُوا  إِنْ شِئْتُمْ.

আমি তোমাদেরকে কুরবানীর গোশত তিন দিনের বেশি খেতে নিষেধ করেছিলাম। যাতে তোমরা সবাই তা পেয়ে যাও। এখন আমি তোমাদেরকে অনুমতি দিচ্ছি। সুতরাং, যতদিন ইচ্ছা তা খেতে পার। আর তোমরা ‘হাদী’ ও কুরবানীর গোশত বিক্রি করো না। নিজেরা খাও এবং অন্যদেরকে দান করো। আর এগুলোর চামড়া নিজেদের কাজে ব্যবহার করো। তা বিক্রি করো না। তোমাদেরকে যদি এর গোশত খেতে দেওয়া হয়, তাহলে তোমরা চাইলে তা খেতে পার। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬২১০

কুরবানীর পশুর চামড়া নিজের জন্য বিক্রি করা যাবে না

আবূ হুরায়রা রা. বলেন-

قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ : مَنْ بَاعَ جِلْدَ أُضْحِيّتِهِ فَلاَ أُضْحِيّةَ لَهُ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِثْلُ الأَوّلِ وَلَمْ يُخْرِجَاهُ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে তার কুরবানীর চামড়া (নিজের জন্য) বিক্রি করবে, তার কুরবানী শুদ্ধ হবে না। -মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩৪৬৮

উল্লেখ্য, কুরবানীর চামড়ার মূল্য সদকা করার নিয়তে তা বিক্রি করতে কোনো অসুবিধা নেই।

কুরবানীর পশুর গোশত-চামড়া পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না

আলী ইবনে আবী তালিব রা. বলেন-

أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنْ أَقُومَ عَلَى بُدْنِهِ، وَأَنْ أَتَصَدّقَ بِلَحْمِهَا وَجُلُودِهَا وَأَجِلّتِهَا، وَأَنْ لاَ أُعْطِيَ الْجَزّارَ مِنْهَا، قَالَ: نَحْنُ نُعْطِيهِ مِنْ عِنْدِنَا.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার (কুরবানীর উটের) আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতে বলেছিলেন। তিনি কুরবানীর পশুর গোশত, চামড়া, আচ্ছাদনের কাপড় ছদকা করতে আদেশ করেন এবং এর কোনো অংশ কসাইকে দিতে নিষেধ করেন। তিনি বলেছেন, আমি তাকে (তার পারিশ্রমিক) নিজের পক্ষ থেকে দিব। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩১৭; সহীহ বুখারী, হাদীস ১৭১৬

কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখা

মদীনার প্রথম যুগে খাদ্যের সংকট ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে কুরবানীর গোশত তিন দিনের বেশি জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরে যখন অভাব কমে গেল তখন আবার সংরক্ষণ করে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে, জাবির রা. বলেন-

عَنِ النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، أَنّهُ نَهَى عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الضّحَايَا بَعْدَ ثَلَاثٍ، ثُمّ قَالَ بَعْدُ: كُلُوا، وَتَزَوّدُوا، وَادّخِرُوا.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিনের পর কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর (অবকাশ দিয়ে) বললেন, খাও, পাথেও হিসেবে সঙ্গে নাও এবং সংরক্ষণ করে রাখ। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭২

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে-

قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الأَضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلاَثٍ لِيَتّسِعَ ذُو الطّوْلِ عَلَى مَنْ لاَ طَوْلَ لَهُ، فَكُلُوا مَا بَدَا لَكُمْ، وَأَطْعِمُوا وَادّخِرُوا.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদেরকে তিন দিনের পর কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যেন স্বচ্ছল ব্যক্তিরা অসামর্থ্যদের তা উদারভাবে দিতে পারে। এখন তোমরা যা ইচ্ছা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১০

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সামর্থ্য অনুযায়ী কুরবানী করার তাওফীক দান করুন। ভুল-ত্রুটি থেকে রক্ষা করুন। এবং কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কুরবানী করার তাওফীক দান করুন।

পরিশেষে আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার সেই বাণী স্মরণে রাখতে হবে, তিনি ইরশাদ করেন-

لَنْ یَّنَالَ اللهَ لُحُوْمُهَا وَ لَا دِمَآؤُهَا وَ لٰكِنْ یَّنَالُهُ التَّقْوٰی مِنْكُمْ،  كَذٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلٰی مَا هَدٰىكُمْ،  وَ بَشِّرِ الْمُحْسِنِیْنَ.

আল্লাহর কাছে না পৌঁছে তাদের গোশত আর না তাদের রক্ত, বরং তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা একারণে আল্লাহর তাকবীর বল যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন। যারা সুচারুরূপে সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দিন। -সূরা হজ্ব (২২) : ৩৫

আরও জানুন

মুসলিম উম্মাহের প্রতি রাবেতা আলমে ইসলামীর বার্তা

ভূমিকা : গত শাওয়াল ১৪৪০ হিজরীতে এ বিষয়ে লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু কখন কীভাবে যে বছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *