প্রচ্ছদ / কাফন-দাফন-জানাযা / হিন্দুদের দাফনে মুসলমানদের অংশগ্রহণ কতটুকু শরীয়তসম্মত?

হিন্দুদের দাফনে মুসলমানদের অংশগ্রহণ কতটুকু শরীয়তসম্মত?

প্রশ্ন

বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক হিন্দু পরিবারের সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের কাফন দাফনের জন্য অনেক এলাকায়ই হিন্দু পরিবারের সদস্য বা হিন্দুদের সংগঠণের কেউ এগিয়ে আসছে না।

এমতাবস্থায় কওমী মাদরাসার কতিপয় যুবক উলামাগণ তাদের সৎকারের ব্যবস্থা করছেন।

আমার প্রশ্ন হল, এভাবে হিন্দুদের শ্বশানঘাটে পুড়ানোর জন্য মুসলমানদের সহযোগিতা করা কতটুকু শরীয়ত সম্মত? দয়া করে জানালে কৃতার্থ হবো।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

স্বাভাবিক অবস্থায় হিন্দুদের ইন্তেকাল পরবর্তী পুড়ানো সংশ্লিষ্ট দাফনকার্যে বা তাদের ধর্মীয় কোন রুসুমে অংশগ্রহণ করা মুসলমানদের জন্য হারাম।

কিন্তু উপরোক্ত বিশেষ ওজরের কারণে মৃত হিন্দুর দাফনকার্যে কেউ অংশগ্রহণ করতে না চাইলে মুসলমানদের জন্য তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ জায়েজ আছে।

তবে গোসল করানো, কাফন পড়ানোর পর শ্বশানঘাট পর্যন্ত গমণ জায়েজ। কিন্তু পুড়ানোতে অংশগ্রহণ জায়েজ হবে না। সেই সাথে হিন্দুদের মৃত লাশ বিষয়ক কোন প্রকার রুসুমে অংশগ্রহণ জায়েজ হবে না। [ফাতাওয়া কাসিমিয়া-২৪/২৮৬]

لا ينبغى لقريبه المسلم أن يتبع الجنازة حتى لا تكون مكثر سواد الكفرة….. وفى الطحاوى ولا بأس يعود إذا مرض (تاتارخانية-3\77، رقم-3753 المحيط البرهانى-3\95، رقم-2490)

نَاجِيَةَ بْنَ كَعْبٍ يَقُولُ سَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ: لَمَّا تُوُفِّيَ أَبِي أَتَيْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلَّم فَقُلْتُ إنَّ عَمَّكَ قَدْ تُوُفِّيَ.

فَقَالَ: ” اذْهَبْ فَوَارِهِ ” فَقُلْتُ إِنَّهُ مَاتَ مُشْرِكًا، فَقَالَ: ” اذهب فواره ولا تحدثن شيئاً حتى تأتي ” ففعلت فأتيته، فَأَمَرَنِي أَنْ أَغْتَسِلَ (البداية والنهاية، باب هجرة أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ، مِنْ مَكَّةَ إِلَى أَرْضِ الحبشة، فصل فى وفاة ابى طالب عم رسول الله صلى الله عليه وسلم-3\125، 3\154)

আব্দুর রাহমান ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত।

وَرَأَى قَرْيَةَ نَمْلٍ قَدْ حَرَّقْنَاهَا فَقَالَ: «مَنْ حَرَّقَ هَذِهِ؟» قُلْنَا: نَحْنُ. قَالَ: «إِنَّهُ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلَّا رَبُّ النَّارِ»

তিনি আমাদের পুড়িয়ে দেয়া একটা পিঁপড়ার টিবি দেখতে পেয়ে বললেনঃ কে এগুলো পুড়িয়েছে? ‘আমরা বললাম, ‘আমরা। তিনি বললেনঃ আগুনের রব ব্যতীত আগুন দিয়ে কিছুকে শাস্তি দেয়ার কারো অধিকার নেই। [আবু দাউদ, হাদীস নং-২৬৭৫]

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ بَعَثَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ بَعْثٍ فَقَالَ إِنْ وَجَدْتُمْ فُلَانًا وَفُلَانًا فَأَحْرِقُوْهُمَا بِالنَّارِ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ أَرَدْنَا الْخُرُوْجَ إِنِّيْ أَمَرْتُكُمْ أَنْ تُحْرِقُوْا فُلَانًا وَفُلَانًا وَإِنَّ النَّارَ لَا يُعَذِّبُ بِهَا إِلَّا اللهُ فَإِنْ وَجَدْتُمُوْهُمَا فَاقْتُلُوْهُمَا

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এক অভিযানে প্রেরণ করেন এবং বলেন, ‘তোমরা যদি অমুক ও অমুক ব্যক্তিকে পাও, তবে তাদের উভয়কে আগুনে জ্বালিয়ে ফেলবে।’ অতঃপর আমরা যখন বের হতে চাইলাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কেউ আগুন দিয়ে শাস্তি দিতে পারবে না। কাজেই তোমরা যদি তাদের উভয়কে পাও, তবে তাদেরকে হত্যা কর। [বুখারী, হাদীস নং-৩০১৬]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

প্রাপ্ত বয়স্ক নাতনীর সাথে একই বিছানায় ঘুমানোর হুকুম কী?

প্রশ্ন আসসালামুআলাইকুম। একজন ২৩ বছরের মেয়ে কি তার আপন দাদার সাথে একই বেডে ঘুমাতে পারবে? …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *