হোম / অপরাধ ও গোনাহ / কবরের তিন প্রশ্নের উত্তর কি গোনাহগার মুসলমান দিতে পারবে?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

কবরের তিন প্রশ্নের উত্তর কি গোনাহগার মুসলমান দিতে পারবে?

প্রশ্ন

 কবরে তিনটি প্রশ্ন মূলত কারা দিতে পারবে? শুধু ঈমানের সাথে সম্পর্ক? কারণ, হয়তো আমাদের ঈমান আছে কিন্তু আমরা ইচ্ছা অনিচ্ছায় অনেক কবিরা গুনাহে লিপ্ত থাকি, তারা উত্তর দিতে পারবে নাকি না?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

শুধুমাত্র কাফেররা কবরের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। মুসলমানরা দিতে পারবে। যদিও সে ফাসিক হয় না কেন।

ফাসিক মুসিলম উত্তর দিতে পারলেও কৃত গোনাহের কারণে কবরে শাস্তি হতে পারে।

قال ابن حجر الهيتمي – رحمه الله – :
ومقتضى أحاديث سؤال الملكين : أن المؤمن ولو فاسقاً يجيبهما ، كالعدل ، ولكن بشارته تحتمل أن تكون بحسب حاله
الفتاوى الحديثية ” ( ص 7 )

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” إِنَّ العَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ، وَإِنَّهُ [ص:99] لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ، فَيَقُولاَنِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَّا المُؤْمِنُ، فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، فَيُقَالُ لَهُ: انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الجَنَّةِ، فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا – قَالَ قَتَادَةُ: وَذُكِرَ لَنَا: أَنَّهُ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيثِ أَنَسٍ – قَالَ: وَأَمَّا المُنَافِقُ وَالكَافِرُ فَيُقَالُ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: لاَ أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ، فَيُقَالُ: لاَ دَرَيْتَ وَلاَ تَلَيْتَ، وَيُضْرَبُ بِمَطَارِقَ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً، فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ “

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মৃত) বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথী এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে সে (মৃত ব্যাক্তি) তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এ সময় দু’জন ফিরিশতা তার কাছে এসে তাকে বসান এবং তাঁরা বলেন, এ ব্যাক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তুমি কি বলতে? তখন মু’মিন ব্যাক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানস্থলটির দিকে নজর কর, আল্লাহ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থানস্থল দান করেছেন। তখন সে দু’টি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে ফেলবে।

কাতাদা (রহঃ) বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যাক্তির জন্য তাঁর কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। এরপর তিনি (কাতাদ) পুনরায় আনাস (রাঃ) এর হাদীসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি [আনাস (রাঃ)] বলেন, আর মুনাফিক বা কাফির ব্যাক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে তুমি এ ব্যাক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কি বলতে? সে উত্তরে বলবে, আমি জানিনা। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু’জাতি (মানব ও জ্বীন) ব্যতিত তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৩৭৪, ইফাবা-১২৯১]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামী ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ফারূকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

পিতা মাতার নিষেধ সত্বেও তাবলীগ জামাতে যাওয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন From: nam prokase onissuk বিষয়ঃ tableeg প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। আমি একটা ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। দেশের …