প্রচ্ছদ / কুরবানী/জবেহ/আকীকা / ফসলী জমির মূল্যের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয় কি?

ফসলী জমির মূল্যের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয় কি?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।
প্রশ্ন স্পষ্ট করণসহ পুনরায় প্রশ্ন করা হলো:
আমার আব্বা মৃত এবং আমরা ৮ ভাই-বোন। আব্বার সম্পত্তি বন্টন হয় নাই এবং ভাইয়েরা সবাই একই পরিবারভুক্ত; যদিও আমরা দুই ভাই চাকুরী নিয়ে বাড়ির বাইরে পরিবারসহ থাকি আর বোনরা সবাই শশুরবাড়িতে থাকে। আমি একজন চাকুরীজীবি; ঢাকায় থাকি। যেহেতু আব্বার জমি বন্টন হয় নাই তাই উক্ত সম্পত্তি থেকে কোনো অংশ আমি ভোগ করি না (যখন বাড়িতে গিয়ে থাকি সেটা ব্যাতিত) বরং বাড়িতে প্রতি মাসে টাকা পাঠাই। আমার ও আমার অপর ভাইয়ের পাঠানো টাকা এবং ওই সম্পত্তি থেকে উপার্জিত অর্থ সব মিলিয়ে আমাদের গ্রামের বাড়িতে অবস্থিত আমার মা ও দুই ভাই (একজন মাজূর, অপরজন বেকার) এর পরিবারের খরচ চলে। জমিগুলো বর্তমানে শংকরালী দেওয়া অর্থাৎ এক বছরের জন্য টাকা নিয়ে (নগদ এবং বাকি রেখে) কৃষককে খাওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে  আমি আবার আত্মীয়-স্বজনের কাছে লক্ষাধিক টাকা ঋণী যা ধীরে ধীরে পরিশোধ করার চেষ্টাই আছি। কোরবানির দিনগুলোতে আমার নিকট এই বছর নেসাব পরিমান নগদ টাকা / ব্যবসায়িক মাল ইত্যাদি থাকবে না।  এমতবস্থায় আমার প্রশ হলো ১) আমার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কিনা ? ২) ওয়াজিব হলে আমি কি আমার ভাগের জমি বিক্রয় করে কোরবানি আদায় করবো?  এমতবস্থায় আমার প্রশ হলো ১) আমার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কিনা ? ২) ওয়াজিব হলে আমি কি আমার ভাগের জমি বিক্রয় করে কোরবানি আদায় করবো?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনার উপরোক্ত বিবরণ অনুপাতে আপনার কাছে যেহেতু কুরবানীর দিনসমূহে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে না, তাই আপনার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়।

যে জমি দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ নিবারণ হয়, সেই জমির উপর কুরবানী সদকায়ে ফিতির ওয়াজিব হয় না। বরং অতিরিক্ত জমির উপর কুরবানী ও সদকায়ে ফিতির ওয়াজিব হয়।

وإنما تجب على حر مسلم مقيم موسر عن نفسه، لأنه أصل فى الوجوب عليه (مجمع الأنهر-2/516، هداية-4/443-444)

وإن شرط الوجوب منها وهو ما يتعلق به وجوب صدقة الفطر (الفتاوى الهندية-5/292)

 (وَأَمَّا) (شَرَائِطُ الْوُجُوبِ) : مِنْهَا الْيَسَارُ وَهُوَ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ وُجُوبِ صَدَقَةِ الْفِطْرِ دُونَ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ وُجُوبُ الزَّكَاةِ،………. وَالْمُوسِرُ فِي ظَاهِرِ الرِّوَايَةِ مَنْ لَهُ مِائَتَا دِرْهَمٍ أَوْ عِشْرُونَ دِينَارًا أَوْ شَيْءٌ يَبْلُغُ ذَلِكَ سِوَى مَسْكَنِهِ وَمَتَاعِ مَسْكَنِهِ وَمَرْكُوبِهِ وَخَادِمِهِ فِي حَاجَتِهِ الَّتِي لَا يَسْتَغْنِي عَنْهَا، فَأَمَّا مَا عَدَا ذَلِكَ مِنْ سَائِمَةٍ أَوْ رَقِيقٍ أَوْ خَيْلٍ أَوْ مَتَاعٍ لِتِجَارَةِ أَوْ غَيْرِهَا فَإِنَّهُ يُعْتَدُّ بِهِ مِنْ يَسَارِهِ،(الفتاوى الهندية، كتاب الأضحية، فصل شرائط الوجوب-5/292، رد المحتار، كتاب الاضحية-9/452-453، مجمع الانهر-4/167

ولو كانت له دور وحوانيت للغلة وهى لا تكفى عياله فهو من الفقراء (مجمع الأنهر، كتاب الزكاة، باب صدقة الفطر، بيروت-1/335، مصرى قديم-1/227، البناية-3/482)

وعلى هذا الكرم والأرض ولا يعتبر ما قيمته لصاحب من قوت شهر بلا خلاف عندنا (مجمع الأنهر، باب صدقة الفطر، بيروت-1/335، مصرى قديم-1/227، البناية-3/482

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

ফরজ নামায পাঁচ ওয়াক্ত নাকি তিন ওয়াক্ত?

প্রশ্ন From: Towhid Hasan বিষয়ঃ Foroz namaz প্রশ্নঃ One person of our moholla spending that …

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস