প্রচ্ছদ / কুরবানী/জবেহ/আকীকা / গরু কুরবানীতে জোড় বেজোড় সংখ্যায় শরীকানার কোন বাধ্যবাধকতা আছে?

গরু কুরবানীতে জোড় বেজোড় সংখ্যায় শরীকানার কোন বাধ্যবাধকতা আছে?

 প্রশ্ন

গরু কোরবানির ক্ষেত্রে ২/৪/৬ ভাগে কোরবানি হবে কিনা? একজন হুযুর বলেছেন, ১ থেকে ৭ পর্যন্ত এবং বিজোড় সংখ্যায় (অর্থাৎ ১/৩/৫/৭ ভাগে) দেওয়া যাবে।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যে আলেম তা বলেছেন, তিনি সঠিক কথাই বলেছেন। উট গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজনে কুরবানী করা যাবে। সাতের মাঝে যত সংখ্যাই হোক, তিন হোক, বা দুই। চার হোক বা পাঁচ, ছয় হোক বা সাত। সাতের নিচে শরীকানা কুরবানী দেয়া যাবে।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: «نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ، وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ»

হযরত জাবিন বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হুদাইবিয়ার বছর এক একটি উট ও গরুতে সাতজনে শরীক হয়ে কুরবানী করেছি। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৩১৮, ৩০৪৮]

عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ: «فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَشْتَرِكَ فِي الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ، كُلُّ سَبْعَةٍ مِنَّا فِي بَدَنَةٍ

জাবির রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনম, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজ্জের ইহরাম বেঁধে রওনা হলাম। অতঃপর তিনি উট ও গরুতে আমাদের মধ্যে সাতজন করে শরীক হবার (ও কুরবানী করার) নির্দেশ দিলেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৩১৮, ৩০৪৯]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَ النَّحْرُ، فَاشْتَرَكْنَا فِي الْبَقَرَةِ سَبْعَةً، وَفِي الْبَعِيرِ سبعة أو عشرة

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে ছিলাম। পথিমধ্যে কুরবানীর দিন এল। তখন আমরা গরুতে সাতজন এবং উটে সাতজন বা দশজন করে শরীক হলাম। (শরীক হয়ে কুরবানী দিলাম) [সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪০০৭]

وَلَا شَكَّ فِي جَوَازِ بَدَنَةٍ أَوْ بَقَرَةٍ عَنْ أَقَلَّ مِنْ سَبْعَةٍ بِأَنْ اشْتَرَكَ اثْنَانِ أَوْ ثَلَاثَةٌ أَوْ أَرْبَعَةٌ أَوْ خَمْسَةٌ أَوْ سِتَّةٌ فِي بَدَنَةٍ أَوْ بَقَرَةٍ؛ لِأَنَّهُ لَمَّا جَازَ السُّبْعُ فَالزِّيَادَةُ أَوْلَى، وَسَوَاءٌ اتَّفَقَتْ الْأَنْصِبَاءُ فِي الْقَدْرِ أَوْ اخْتَلَفَتْ؛ بِأَنْ يَكُونَ لِأَحَدِهِمْ النِّصْفُ وَلِلْآخَرِ الثُّلُثُ وَلِآخَرَ السُّدُسُ بَعْدَ أَنْ لَا يَنْقُصَ عَنْ السُّبْعِ (بدائع الصنائع، كتاب الاضحية، محل اقامة الواجب-4/208

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– [email protected]

0Shares

আরও জানুন

ইমামের সামনের সুতরা কি মাসবূক মুসল্লিদের জন্য যথেষ্ট?

প্রশ্ন ইমামের সুতরা মুসল্লিদের জন্য যথেষ্ট কি না? এবং ইমামের সুতরা মসবুক ব্যাক্তির জন্য যথেষ্ট …