প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / বৈধ অবৈধ সম্পদের যাকাত দেবার পদ্ধতি কী?

বৈধ অবৈধ সম্পদের যাকাত দেবার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন

আমাদের বাসায় বৈধ ও অবৈধ (অবৈধ টাকার পরিমান কম) টাকার ৪ ভরি গহনা আছে৷ ব্যাংকে জমি বন্ধক দিয়ে ৫.৫ লক্ষ আছে | ১ বছর পূর্ণ হয়েছে ৷ যাকাত কিভাবে দিব ৷ গহনা  অবৈধ টাকার মিশ্রণ যাকাত হবে কিনা, অবৈধ সম্পদ কে বৈধ করার উপায় কি |

 

ত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

অবৈধ টাকার বিধান হল, তা মূল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে সেই টাকা বা সম্পদ সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবকে বা জনহিতকর কোন কাজে দান করে দিতে হবে।

এছাড়া বাকি যে টাকা বা গহনা আছে, তা হিসেব করে যদি যাকাতের সমমূল্য পরিমাণ হয়, তাহলে এর চল্লিশ ভাগের একভাগ যাকাত দিতে হবে।

উদাহরণতঃ

চার ভরি স্বর্ণের মূল্য আনুমানিক ১,৭০,০৬০/= [এক লাখ সত্তর হাজার ষাট টাকা।] এখানে কথার কথা এক ভরি স্বর্ণ এসেছে অবৈধ অর্থ থেকে। সেই হিসেবে এক লাখ সত্তর হাজার ষাট টাকাকে চার ভাগ করে অবৈধ টাকা আলাদা করতে হবে। সেই হিসেবে অবৈধ টাকা হবে ৪২,৫১৫/= [বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশত পনের টাকা।] এ অবৈধ টাকা হয়তো মূল মালিককে ফেরত দিতে হবে। নতুবা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিতে হবে।

বাকি রইল ১,২৭,৫৪৫/= [এক লাখ, সাতাশ হাজার পাঁচশত পঁয়তাল্লিশ টাকা।]

এখন উপরোক্ত এক লাখ সাতাশ হাজার পাঁচশত পঁয়তাল্লিশ টাকার সাথে হাতে যত টাকা আছে আবশ্যকীয় ঋণ ছাড়া পূর্ণ টাকার যাকাত আদায় করে দিবে।

কথার কথা উপরোক্ত টাকা ছাড়া হাতে আছে আরো দুই লাখ পাচ হাজার টাকা।

সুতরাং ১,২৭,৫৪৫+ ২,০৫,০০০= ৩৩২৫৪৫/=

মোট হলঃ ৩৩২৫৪৫/=

সুতরাং চল্লিশ ভাগের এক ভাগ হিসেবে যাকাত আসবেঃ ৩৩২৫৪৫÷৪০= ৮,৩১৩.৬২।

অর্থাৎ আপনার উপর যাকাত আসবে আট হাজার তিনশত তের টাকা বাষট্টি পয়সা।

উপরোক্ত উদাহরণটি ভাল করে পড়ে আশা করি আপনি আপনার উপর আবশ্যকীয় যাকাতের পরিমাণটি বের নিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

فى معارف السنن- من ملك بملك خبيث ولم يمكنه الرد الى المالك فسبيله التصدق على الفقراء (معارف السنن، كتاب الطهارة، باب ما جاء لا تقبل صلاة بغير طهور-1/34، الفتاوى الشامية، باب البيع الفاسد، مطلب فى من ورث مالا حراما-7/301، كتاب الحظر والإباحة، فصل فى البيع-9/554، بذل المجهود، كتاب الطهارة، باب فرض الوضوء- 1/37
نِصَابُ الذَّهَبِ عِشْرُونَ مِثْقَالًا وَالْفِضَّةِ مِائَتَا دِرْهَمٍ كُلُّ عَشْرَةِ) دَرَاهِمَ (وَزْنُ سَبْعَةِ مَثَاقِيلَالخ (أَوْ) فِي (عَرْضِ تِجَارَةٍ قِيمَتُهُ نِصَابٌ) الْجُمْلَةُ صِفَةُ عَرَضٍ وَهُوَ هُنَا مَا لَيْسَ بِنَقْدٍ. (رد المحتار، كتاب الزكاة، باب زكاة المال-2/224-228)

وفى الهندية: الزكاة واجبة فى عروض التجارة كائنة ما كانت إذا بلغت نصابا من الورق والذهب (الفتاوى الهندية-1/179)

فى الدر المختاروَلَوْ بَلَغَ بِأَحَدِهِمَا نِصَابًا دُونَ الْآخَرِ تَعَيَّنَ مَا يَبْلُغُ بِهِ، وَلَوْ بَلَغَ بِأَحَدِهِمَا نِصَابًا وَخُمُسًا وَبِالْآخَرِ أَقَلَّ قَوَّمَهُ بِالْأَنْفَعِ لِلْفَقِيرِ (رد المحتار، كتاب الزكاة، باب زكاة المال-3/229، وكذا فى الهداية-1/196، وكذا فى الهندية-1/179، وكذا فى التاتارخانية-2/237، وكذا فى المبسوط للسرخسى-2/191

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

 

 

আরও জানুন

ফজরের নামাযে কুনুতে নাজেলা কি হযরত উমর রাঃ সারা বছর পড়তেন?

প্রশ্ন From: মাহমুদ বিষয়ঃ কুনূতে নাযেলা প্রশ্নঃ উমার রাঃ এর আমল হিসেবে আমাদের মসজিদে ফজর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস