প্রচ্ছদ / কুরবানী/জবেহ/আকীকা / জমিজমা থেকে উৎপন্ন ফসল দ্বারা যৌথ খরচ নির্বাহ করার পর উদ্বৃত্ব টাকার কুরবানী কার উপর আবশ্যক?

জমিজমা থেকে উৎপন্ন ফসল দ্বারা যৌথ খরচ নির্বাহ করার পর উদ্বৃত্ব টাকার কুরবানী কার উপর আবশ্যক?

প্রশ্ন

From: Md. Hafijur Rahman
বিষয়ঃ কুরবানি

আসসালামু আলাইকুম।
আমার মা বাবা দুজনের নামে জমি আছে, জমি থেকে উৎপাদিত ফসল কখনো আলাদা করা হই না। মায়ের নামে (মায়ের নামে রেজিস্ট্রি, তবে বাবায় সবকিছু দেখবাল ও নিয়ন্ত্রন করেন। উল্লেখ্য এক্ষেত্রে মায়ের সম্পূর্ণ অ্যাজাজত আছে।) যে জমি আছে তা থেকে উৎপাদিত ফসল সাধারনত আমরা খুরাকির (খাওার জন্য) প্রয়োজন মিটাই এবং বাবার নামে যে জমি আছে তা থেকে উৎপাদিত ফসল দিয়ে অন্যান্য সাংসারিক ব্যায় মিটিয়ে এক দের লাখ টাকা উতবিত্ত থাকে । এমত অবস্থায় আমার মা বাবা উভয়ের উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে কিনা?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনার পিতা ও মায়ের জমির উৎপাদিত ফসলের হিসেব করতে হবে। কার জমিন থেকে কত টাকা আসে? সে হিসেবে আবশ্যকীয় প্রয়োজন বাদে কত টাকা কার থেকে কতটাকা অতিরিক্ত থাকে?

সেই হিসেবে যে যত টাকার মালিক হবে, সেই টাকা যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার বাজারমূল্য সমপরিমাণ হয়, তাহলে কুরবানী আবশ্যক হবে।

যেমনঃ

আমাদের জানা মতে [ভুল ও হতে পারে, তা’ই জুয়েলারী দোকান থেকে যাচাই করে নেয়া ভাল] বর্তমানে রূপার তোলা হল এক হাজার একশত আট টাকা [১,১০৮/=]

সেই হিসেবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্য দাঁড়াচ্ছে “আটান্ন হাজার একশত সত্তর টাকা” [৫৮,১৭০/=]।

সেই হিসেবে দু’টি নিসাবের টাকা আসছে “এক লাখ ষোল হাজার তিনশত চল্লিশ টাকা” [১,১৬,৩৪০]।

আর আপনার পিতা মাতার সম্পদের খরচ বাদে অতিরিক্ত থাকে প্রায় দেড় লাখ টাকা। যা দু’টি নেসাব ক্রশ করে ফেলে।

তা’ই হিসেবে করে দেখতে হবে, কার ভাগের সম্পদের পরিমাণ অতিরিক্ত থাকে আটান্ন হাজার একশত সত্তর টাকা বা এর চেয়ে বেশি। যারই এ পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার উপরই কুরবানী আসবে।

যদি উভয়েরই থাকে, তাহলে উভয়ের উপরই কুরবানী আবশ্যক হবে। সেই সাথে বছর শেষে যাকাতও আসবে।

(وَأَمَّا) (شَرَائِطُ الْوُجُوبِ) : مِنْهَا الْيَسَارُ وَهُوَ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ وُجُوبِ صَدَقَةِ الْفِطْرِ دُونَ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ وُجُوبُ الزَّكَاةِ،………. وَالْمُوسِرُ فِي ظَاهِرِ الرِّوَايَةِ مَنْ لَهُ مِائَتَا دِرْهَمٍ أَوْ عِشْرُونَ دِينَارًا أَوْ شَيْءٌ يَبْلُغُ ذَلِكَ سِوَى مَسْكَنِهِ وَمَتَاعِ مَسْكَنِهِ وَمَرْكُوبِهِ وَخَادِمِهِ فِي حَاجَتِهِ الَّتِي لَا يَسْتَغْنِي عَنْهَا، فَأَمَّا مَا عَدَا ذَلِكَ مِنْ سَائِمَةٍ أَوْ رَقِيقٍ أَوْ خَيْلٍ أَوْ مَتَاعٍ لِتِجَارَةِ أَوْ غَيْرِهَا فَإِنَّهُ يُعْتَدُّ بِهِ مِنْ يَسَارِهِ،(الفتاوى الهندية، كتاب الأضحية، فصل شرائط الوجوب-5/292، رد المحتار، كتاب الاضحية-9/452-453، مجمع الانهر-4/167

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

মুহাদ্দিস-জামিয়া উবাদা ইবনুল জাররাহ, ভাটারা ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

মুসলমানের জন্য কাফেরের সাথে বিবাহ করার হুকুম কী?

প্রশ্ন From: সারওয়ার বিষয়ঃ অমুসলিম বা কাফের এর সাথে সম্পর্ক করা যাবে কি না?? প্রশ্নঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস