প্রচ্ছদ / আহলে হাদীস / ইমাম আবূ হানীফা রহঃ কি হাফীজুল হাদীস ছিলেন না?

ইমাম আবূ হানীফা রহঃ কি হাফীজুল হাদীস ছিলেন না?

প্রশ্ন :

আমরা জানি যে, ইমাম আবু হানীফা রাহ. ইসলামী শরীয়তের অনেক বড় ইমাম ছিলেন। এ কারণেইআমরা তাঁর নির্দেশনামত কুরআন-সুন্নাহর বিধি বিধানের উপর আমল করি। কিন্তু কদিন আগে আমার একবন্ধু  বললেন, জনৈক আহলে হাদীস তাকে বলেছেন, ‘আবু হানীফা হাদীস ও সুন্নাহর আলিম ছিলেন না। তিনিনা হাফিযুল হাদীস ছিলেন, না হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ছিকা ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন।

একথা  শুনে  আমি খুব আশ্চর্য হলাম। কারণ তিনি যখন হাফিযুল হাদীসও ছিলেন না, হাদীসশাস্ত্রে পারদর্শীওছিলেন না, এমনকি হাদীসের বিষয়ে ছিকাও ছিলেন না তখন তার  তাকলীদ করা কীভাবে বৈধ হবে? আমরাতো তাকলীদ এজন্যই করি, যাতে কুরআন কারীম এবং হাদীস-সুন্নাহর উপর আমাদের আমল নির্ভুল হয়।

আমার ধারণা, ঐ আহলে হাদীস ভাইয়ের কথা ঠিক নয়। কারণ মুসলিম উম্মাহর ফিকহ-ফতোয়ার একজনইমাম হাদীস-সুন্নাহর বিষয়ে অজ্ঞ হবেন তা কী করে হয়? ফিকহ ও ফতোয়ার মূল ভিত্তিই তো কুরআন-সুন্নাহ।

এখন আমার আবেদন, হাদীসের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর অবস্থান সম্পর্কে আমাকে কিছু তথ্যসরবরাহ করবেন এবং এ বিষয়ে আরবী-উর্দূ কিছু কিতাবের নামও জানাবেন।

আরো আবেদন, ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর জীবনীর উপর বাংলা ভাষায় একটি সমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থপ্রস্ত্তত করে তা প্রকাশের ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহ আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন। আমীন।ৱ

আবুল কালাম

শান্তিনগর, নারায়ণগঞ্জ

উত্তর :

আপনার এ কথা ঠিক যে, ফিকহ ও ফতোয়ার একজন ইমাম হাদীস ও সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়াঅসম্ভব। এ তো সাধারণ বুদ্ধির কথা। আপনি যে ঐ আহলে হাদীস ব্যক্তির কথা শোনামাত্র সংশয়গ্রস্ত হননি;বরং সাধারণ বিচার-বুদ্ধি কাজে লাগিয়েছেন এজন্য আপনাকে মোবারকবাদ।  ইমাম আবু হানীফা রাহ.সম্পর্কে ঐ ব্যক্তি যা বলেছে তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। আল্লাহ তাআলা তাকে হেদায়াত দান করুন এবং ইমামগণেরপ্রতি কুধারণা পোষণের ব্যাধি  থেকে মুক্তি দান করুন।

বাস্তবতা এই যে, ইমাম আবু হানীফা রাহ. হাদীসের অনেক বড় আলিম ছিলেন। তিনি হাফিযুল হাদীসও ছিলেনএবং হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ছিকা ও নির্ভরযোগ্যও ছিলেন।

উসূলে হাদীস ও উসূলে ফিকহের সর্বসম্মত মূলনীতি এই যে, উম্মাহর ইমামগণের বিষয়ে এই প্রশ্নই ভুল যে, ‘কে তাদেরকে ছিকা বলেছে’। কারণ, এ ধরনের প্রশ্ন তো হয় সাধারণ রাবীদের ক্ষেত্রে, ইমামগণের ক্ষেত্রেনয়। কারণ ইমামগণের বিশ্বস্ততা ও নির্ভরযোগ্যতা; বরং উম্মাহর ইমামের মর্যাদায় উপনীত হওয়া তো এক দুইব্যক্তির স্বীকৃতির দ্বারা নয়  ইজমা ও তাওয়াতুর (তথা ঐকমত্য ও ব্যাপক বর্ণনা) দ্বারা প্রমাণিত।

এরপরও আপনি যদি প্রশান্তির জন্য ‘হাদীস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানীফার অবস্থান’ সম্পর্কে বিস্তারিত ও প্রামাণিকজ্ঞান অর্জন করতে চান তাহলে নিম্মোক্ত কিতাবসমূহ পাঠ করতে পারেন।

বলাবাহুল্য যে, এখানে শুধু নমুনা হিসেবে কয়েকটি কিতাবের নাম লেখা হচ্ছে। এ বিষয়ের সকল রচনাবলিরতালিকা দেওয়া তো কোনো সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধের দ্বারা সম্ভব নয়।

১. ‘‘ইমাম আযম আওর ইলমে হাদীস’’, মাওলানা মুহাম্মাদ আলী সিদ্দীকী কান্ধলভী।

২. ‘‘মাকামে আবু হানীফা’’, মাওলানা সরফরায খান সফদর

৩. কিতাবুল আছার, ইমাম আবু হানীফা-এর বিভিন্ন ভূমিকা। যেমন :

ক. মুফতী মাহদী হাসান শাহাজাহানপুরী রাহ.-এর ভূমিকা (কালাইদুল  আযহার)

খ. মুহাদ্দিস আবুল ওয়াফা আফগানী রাহ.-এর ভূমিকা (ইমাম মুহাম্মাদ (রাহ)-এর রেওয়ায়েতের উপর)

গ. মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নুমানী রাহ.-এর ভূমিকা (উর্দু, আররহীম একাডেমী, করাচী থেকেপ্রকাশিত)

৪. মুসনাদে ইমাম আযম-এর ভূমিকা, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নুমানী রাহ.

৫. ‘‘মাকানাতুল ইমাম আবী হানীফা ফিল হাদীস’’, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নু’মানী  (১৪২০হি.)

৬. ‘‘আল-ইমাম আবু হানীফা ওয়া আসহাবুহুল মুহাদ্দিসুন’’, আল্লামা যফর আহমদ উছমানী রাহ. (১৩৯৪ হি.)

৭. ‘‘উকূদুল জুমান ফী মানাকিবিল ইমামিল আযম আবু হানীফাতান নু’মান’’, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফআসসালেহী আশ-শাফেয়ী (৯৪২হি.)

৮. সিয়ারু আলামিন নুবালা, শামসুদ্দীন আযযাহাবী রাহ. (৭৪৮হি.) খন্ড : ৬; পৃষ্ঠা : ৩৯০-৪০৩

৯. আল ইনতিকা ফী ফাযাইলিছ ছালাছাতিল ফুকাহা (মালিক ইবনু আনাস ওয়া মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস আশ-শাফেয়ী, ওয়া আবী হানীফা) ইবনু আব্দিল বার আলমালেকী (৩৬৩হি.)

১০. ‘‘ফাযাইলু আবী হানীফা ওয়া আখবারুহূ ওয়া মানাকিবুহু’’, আবুল কাসিম ইবনু আবিল আওয়াম(৩৩৫হি.)

এ বিষয়ে আরো কিতাবের নাম জানতে চাইলে ‘‘উকূদুল জুমানের’’ শুরুতে আল্লামা আবুল ওয়াফা আফগানীরাহ.-এর ভূমিকা অবশ্যই পাঠ করুন। তদ্রূপ ইমাম আবু আব্দিল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলী আস-সাইমুরী(৪৩৬ হি.)-এর কিতাব- ‘আখবারু আবী হানীফাতা ওয়া আসহাবিহী’, যা আফগানী রাহ.-এর তাহকীকে ছাপাহয়েছে, এর ভূমিকাও পাঠ করতে পারেন।

মারকাযুদ দাওয়াহ-এর দারুত তাসনীফ থেকে এ বিষয়ে একাধিক কিতাব প্রকাশের বিষয়টি পরিকল্পনাধীনআছে। তবে আলকাউসারে একটি ধারাবাহিক লেখা অতি শীঘ্রই শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।

আপাতত শুধু দুইটি বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি :

এক. ইমাম আবু হানীফা রাহ. হাদীসেরও ‘হাফিয’ ছিলেন।

এটি একটি বাস্তবতা, যার অনেক দলীল আছে। এখানে শুধু একটি বিষয় নিবেদন করছি। তা এই যে, মুসলিমউম্মাহর হাফিযুল হাদীসগণের বিষয়ে মুহাদ্দিসগণ আলাদা গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার অধিকাংশই এখন মুদ্রিতও প্রকাশিত। এগুলোর কোনো একটি গ্রন্থ আপনি হাতে নিন। তাতে ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর আলোচনাপাবেন। যেমন :

১. তাযকিরাতুল হুফফায, শামসুদ্দীন আযযাহাবী (৭৪৮হি.)

যাহাবী রাহ. এই কিতাবের শুরুতে লিখেছেন-

هذه تذكرة بأسماء مُعَدلي حملة العلم النبوي، ومن يرجَع إلى اجتهادهم في التوثيق والتضعيف والتصحيح والتزييف.

   অর্থাৎ এ গ্রন্থে ইলমে নবুওয়াতের ঐ বিশ্বস্ত ধারক-বাহকগণের আলোচনা রয়েছে, যাদের সিদ্ধান্ত ওগবেষণার শরণাপন্ন হতে হয়  ছিকা ও যয়ীফ রাবী নির্ণয় এবং সহীহ ও যয়ীফ হাদীস চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে।’

এরপর যাহাবী রাহ. এ গ্রন্থের খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১৬৮-এ ইমাম আবু হানীফা রাহ-এর আলোচনা লিখেছেন।আলোচনার শিরোনাম-‘আবু হানীফা আল-ইমামুল আযম’

(أبو حنيفة الإمام الأعظم)

২. আল মুখতাসার ফী তবাকাতি উলামাইল হাদীস, শামসুদ্দীন ইবনু আব্দিল হাদী (৭৪৪হি.)

এর কিছু অংশ মুদ্রিত। এর হস্তলিখিত পান্ডুলিপি জামেয়া ইসলামিয়া মদীনা মুনাওয়ারায় সংরক্ষিত আছে।

৩. আত তিবয়ান লিবাদীআতিল বায়ান আন মাওতিল আ’য়ান, শামসুদ্দীন ইবনু নাসিরুদ্দীন (৮৪২হি.)

এ গ্রন্থের পান্ডুলিপি মদীনা মুনাওয়ারার ঐতিহাসিক কুতুবখানা মাকতাবা আরিফ হিকমত-এ সংরক্ষিত আছে।

৪. তবাকাতুল হুফফায, জামালুদ্দীন ইবনুল মিবরাদ (৯০৯হি.)

এ কিতাব থেকে মুহাদ্দিস আবদুল লতীফ সিদ্দিকী রাহ. ‘‘যাববু যুবাবাতিদ দিরাসাত আনিল মাযাহিবিলআরবাআতিল মুতানাসিবাত’’ গ্রন্থে ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর আলোচনা উদ্ধৃত করেছেন।

৫. ‘‘তবাকাতুল হুফফায’’, জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. (৯১১হি.)

৬. ‘‘তারাজিমুল হুফফায’’, মুহাম্মাদ ইবনে রুসতম আল হারিছি আলবাদাখশী

এ গ্রন্থের পান্ডুলিপি নদওয়াতুল উলামা লাখনৌতে রয়েছে। এই পুরো আলোচনার জন্য হযরত মাওলানামুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নু’মানী রাহ.-এর কিতাব ‘‘মাকানাতুল ইমামি আবী হানীফাতা ফিল হাদীস’’ (পৃ.৫৮-৬৮) পাঠ করুন। ওখানে আরো তথ্য রয়েছে। উপরোক্ত তথ্যগুলোও ওখান থেকে নেওয়া হয়েছে ।

দুই. ইমাম আবু হানীফা ‘হাফিযুল হাদীস’ হওয়া একটি সহজ সত্য

দ্বিতীয় যে বিষয়ে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করছি তা এই যে, ইমাম আবু হানীফা রাহ. ‘সুন্নতেমুতাওয়ারাছা’ এবং হাদীস ও আছারের হাফিয হওয়া এমন এক সহজ স্বাভাবিক বাস্তবতা, যা অস্বীকার করারকোনো উপায় নেই। কারণ ঐতিহাসিক সত্য এই যে, ইমাম আবু হানীফা রাহ. ফিকহ ও ফতোয়ার প্রথমসংকলক। আর এ তো বলাই বাহুল্য যে, শরীয়তের এই সকল বিধান তিনি ফিকহের কিতাব থেকে সংকলনকরেননি। কারণ ফিকহের প্রথম সংকলকই তো তিনি। তাহলে এই সকল বিধান তিনি কোথা থেকে সংকলনকরেছেন? নিশ্চয়ই সুন্নতে মুতাওয়ারাছা, আছারে সাহাবা ও ফতওয়ায়ে তাবেয়ীন থেকে। তাহলে তাঁরউপরোক্ত সকল বিষয়ের হাফিয হওয়া দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।

এখানে ঐ ঘটনাটি উল্লেখ করা সমীচীন মনে হচ্ছে, যা মুয়াফফাক আলমক্কী রাহ. (৫৬৪ হি.) ‘মানাকিবু আবীহানীফা’’ গ্রন্থে (খন্ড ২, পৃষ্ঠা : ১৫১-১৫২) আবু ইসমা সা’দ ইবনে মুয়ায রাহ.-এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখকরেছেন। তিনি আবু সুলায়মান জুযাজানী থেকে, তিনি ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. থেকে, আর তিনি ইমাম আবুইউসুফ রাহ. থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ বলেন-

كنا نكلم أبا حنيفة في باب من أبواب العلم، فإذا قال بقول واتفق عليه أصحابه درت على مشايخ الكوفة هل أجد في تقوية قوله حديثا أو أثرا؟ فربما وجدت الحديثين أو الثلاثة فآتيه بها، فمنها ما يقبله ومنها ما يرده، فيقول : هذا ليس بصحيح أوليس بمعروف، وهو موافق لقوله! فأقول له : وما علمك بذلك؟ فيقول : أنا عالم بعلم الكوفة.

 ‘আমরা আবু হানীফা রাহ.-এর সাথে একটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতাম। এরপর যখন তিনি সিদ্ধান্তদিতেন এবং তার সঙ্গীরাও একমত হতেন তখন আমি কুফার শায়েখগণের  কাছে যেতাম তার সিদ্ধান্তেরসমর্থনে আরো কোনো হাদীস বা আছর পাই কিনা। কখনো দুইটি বা তিনটি হাদীস পেতাম। তাঁর কাছে পেশকরার পর তিনি কোনোটি গ্রহণ করতেন আবার কোনোটি এই বলে বর্জন করতেন যে, এটি সহীহ নয় বামারুফ নয়। অথচ তা তার সিদ্ধান্তের অনুকূলে। আমি বলতাম, এ সম্পর্কে  আপনার ইলম কীরূপ। তিনিবলতেন, আমি কূফা নগরীর ইলমের ধারক।

এই ঘটনা বর্ণনা করার পর আবু ইসমা যা বলেছেন তার সারকথা এই যে, ‘ইমাম রাহ. সত্য বলেছেন। সত্যিতিনি ছিলেন কুফার মনীষীগণের কাছে সংরক্ষিত ইলমের ধারক। শুধু তাই নয় (হাদীস আছার এবং কুরআন-সুন্নাহর) অন্যান্য শহরের অধিকাংশ ইলমেরও তিনি ধারক ছিলেন। এর প্রমাণ পেতে চাইলে তাঁর কিতাবসমূহদেখ, তাঁর সঙ্গীদের কাছে সংরক্ষিত তাঁর বর্ণনাসমূহ দেখ, কিতাবুস সালাত থেকে শুরু করে এক একটি অধ্যায়এবং প্রতি অধ্যায়ের এক একটি মাসআলা পাঠ করতে থাক, তাহলেই দেখতে পাবে, কীভাবে তিনি হাদীসভিত্তিক জবাব দিয়ে চলেছেন এবং চিন্তা কর, হাদীস ও সালাফের আছারের সাথে তার জবাবসমূহ কতসামঞ্জস্যপূর্ণ।’’

আপাতত শুধু এই কটি কথা বলেই আলোচনা সমাপ্ত করছি। ইনশাআল্লাহ অতি শীঘ্র আলকাউসারের পাতায়আপনি ইমাম ছাহেব রাহ.-এর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রবন্ধ দেখতে পাবেন। আল্লাহ তাআলাইতাওফীকদাতা। তিনিই আমাদের সাহায্যকারী।

উত্তর লিখনে

মুফতী যাকারিয়া আব্দুল্লাহ

মুফতী-মারকাযুদ দাওয়া আলইসলামিয়া ঢাকা।

আরও জানুন

হজ্জ কখন ফরজ হয়? হজ্জের মাসে নাকি হজ্জ নিবন্ধনের সময়?

প্রশ্ন االسابع الوقت اي وجود القدرة فيه وهي اشهر الحج او هو وقت خروج اهل …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস