প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / ইন্টারনেট থেকে ইসলাম শিখার নামে ভ্রান্ত মতাদর্শী হয়ে গেলে করণীয় কী?

ইন্টারনেট থেকে ইসলাম শিখার নামে ভ্রান্ত মতাদর্শী হয়ে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন

আসসালামুআলাইকুম,

বর্তমানে ইন্টারনেটের সিংহ ভাগ ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা থাকে। আমার ছোট ভাই ইন্টারনেট থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে গিয়ে বর্তমানে মাযহাব, তাবলীগ জামাত, ওলী বুজুর্গদের সম্পর্কে খারাপ ধারনা করতে শুরু করেছে। আমি তাকে বুঝাতে গেলে তর্ক করে, তাই কিছু বলতেও পারিনা। এখন তাকে কি ভাবে সতর্ক করা যেতে পারে?

(বিষয়টি অতীব জরুরী)

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

ইন্টারনেট জগত একটি সুবিশাল বাজার। আদিগন্ত বিস্তৃত এ বাজারের পরিধি। এখানে নোংরামীর যেমন আছে বিশাল ভাগাড়। তেমনি আছে পূণ্যময় বিষয়ের ভান্ডার। যেমন আছে খাঁটি ইসলামের বাণী। তেমনি আছে ভেজাল ব্যক্তিদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য নির্ভর ইসলাম।

বাজারে গিয়ে যেমন আমরা যা সামনে পাই, তাই ক্রয় করি না। বাজারে ঢুকে সব দোকানেই আমরা ঢু মারি না। বরং আমার কাংখিত দোকান ও কাংখিত বস্তু খুঁজে বের করি। তারপর তা যাচাই করি। তারপর ক্রয় করি। যেমন ঠকে না যাই। প্রতারিত না হই।

আমাদের সমাজের ছোট্ট বাজারে, ছোট্ট দুনিয়ার আসবাব ক্রয় করতে গিয়ে যদি এত সতর্কতা অবলম্বন করে থাকি, তাহলে ইন্টারনেটের মত এমন জখাখিচুরীময় বাজারে প্রবেশ করে কেন আমরা অসেচতনতার পরিচয় দেবো? কেন আখেরাতের মত অনন্ত দিনের সদাই ক্রয় চরম ঔদাসিন্যের পরিচয় দেবো? এখানে কেন দেখে শুনে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিয়ে ওয়েব সাইট ভিজিট করবো না? কেন হক্কানী উলামাদের দিকনির্দেশনা অনুপাতে দ্বীনের জ্ঞান আহরণ করবো না? কেন বাজারী প্রতারকের পাল্লায় পড়ে নিজের ঈমান নামক দামী বস্তুকে ক্ষতিগ্রস্থ করবো?

অফলাইনে যতটা সতর্ক হয়ে আমরা চলি। অনলাইনে তার চেয়ে সতর্ক হয়ে আমাদের দ্বীনী বিষয় যাচাই করতে হবে। হক্কানী উলামায়ে কেরামের পরামর্শ ছাড়া যেখান থেকে ইচ্ছে দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করতে যাবো না। কারণ এ ইন্টারনেটেই ছড়িয়ে আছে নাস্তিকদের অসংখ্য ওয়েব সাইট। ছড়িয়ে আছে তাদের লাখো আর্টিকেল।

রয়েছে খৃষ্টানদের ওয়েব সাইট। রয়েছে কাদিয়ানী, শিয়াদের মতবাদ নির্ভর লেখা ও প্রবন্ধ। শিরক, বিদআত, কুফর। কী নেই এখানে?

সবাই তাদের কথা বলে কুরআন ও হাদীসের নামে। কিভাবে বুঝবেন কে সত্য বলছে? কে মিথ্যা বলছে?

সমাধান একটাই। আপনার পরিচিত হক্কানী উলামা, পরীক্ষিত আল্লাহ ওয়ালা সমঝদার আলেমদের পরামর্শে চলতে হবে। নতুবা নিজেদের ঈমান রক্ষা করা বড়ই কঠিন। বড়ই দুষ্কর।

আপনার উক্ত ভাইটির জন্য আমরা যেমন দুআ করি, তেমনি আপনিও দুআ করুন। আল্লাহ তাআলা তাকে সীরাতে মুস্তাকীমে ফিরিয়ে আনুন। উলামা বুযুর্গানে দ্বীনের প্রতি খারাপ ধারণার মত কুফরী থেকে মুক্ত করুন।

কয়েকটি কাজ করতে পারেন!

আপনার পরিচিত কোন বিজ্ঞ আলেমের সাথে আপনার ভাইয়ের পরিচয় করিয়ে দিন। কথাবার্তা বলতে দিন। তার মনের প্রশ্নের জবাব জানতে দিন।

আহলে হক মিডিয়ার ওয়েব সাইটে প্রকাশিত উপরোক্ত অভিযোগগুলোর খন্ডনমূলক প্রশ্নোত্তর ও প্রবন্ধ পড়তে বলুন।

আমাদের প্রকাশিত ভিডিওগুলো দেখতে অনুরোধ করুন।

 

যদি হক মনে করে, সত্যানুসন্ধানী হয়ে এরকম ভ্রান্ত মতাদর্শী হয়ে থাকে, তাহলে আশা করি খোলা মন নিয়ে আমাদের প্রকাশিত প্রশ্নোত্তর, বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ নিবন্ধ ও ভিডিওগুলো দেখে ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

এরকম অনেক নজীর আছে। আমরাও আপনার ভাইয়ের ক্ষেত্রে হক পথে ফিরে আসার আশাবাদী।

বাকি আল্লাহুল মুআফফিকু ওয়ালমুস্তাআন।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

মুহাদ্দিস-জামিয়া উবাদা ইবনুল জাররাহ, ভাটারা ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী?

প্রশ্ন মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী? দয়া করে জানালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *