প্রচ্ছদ / নফল ইবাদত / রমজানে তাহাজ্জুদের জামাত পড়ার হুকুম কী?

রমজানে তাহাজ্জুদের জামাত পড়ার হুকুম কী?

 প্রশ্ন

From: শাহাদাৎ হোসাইন
বিষয়ঃ রসূল (স:) এর রমজানের তাহাজ্জুদ

প্রশ্নঃ
আস্সালামু আলাইকুম,  ভাই রসূল (স:) তো রমজান মাসে তাহাজ্জুদ নামাজ জামাতে পড়তেন সাহাবাদেরকে নিয়ে, উম্মতের জন্য কি তাহাজ্জুদ নামাজ জামাতে পড়া জায়েয আছে,কী?। আমাকে এক ভাই জিগ্গাসা করেছে যে তাহাজ্জুদ নামাজ রমজানে জামাতে পড়া যাবে কেন? হাওলা সহ উত্তর চেয়েছে আমার জানা নেই। দয়া করে উত্তর দিলে উপকিৃত হব।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে তাহাজ্জুদ নামায জামাতের সাথে পড়েছেন মর্মের কথাটি সঠিক নয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে শুধু তারাবীহ নামায জামাতের সাথে আদায় করেছেন।

বুখারী শরীফসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে মসজিদে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণের সাথে যে নামায পড়েছিলেন তিন দিন। মুহাদ্দিসগণ ও ফুক্বাহায়ে কেরামের বক্তব্য অনুপাতে তা তারাবীহ নামায ছিল। তাহাজ্জুদ নামায নয়।

 

এ কারণেই ফুক্বহায়ে কেরামগণ বলেছেন রমজানের তারাবীহ ছাড়া অন্যান্য নফল, চাই তা তাহাজ্জুদ হোক বা অন্য নামায তা জামাতে পড়া মাকরূহ।

তবে যদি ইমাম ছাড়া দুইজন হয়, তাহলে জায়েজ আছে। কিন্তু তিনজন হলে মতভেদ আছে। বাকি ইমাম ছাড়া তিন হয়ে গেলে তা সর্বসম্মত মতানুসারে মাকরূহ।

তাই তিনের অধিক ব্যক্তিসহ তারাবীর জামাত মাকরূহ। আর تداعى তথা ডেকে একত্র করে জামাতের সাথে তাহাজ্জুদ পড়লেতো অবশ্যই মাকরূহ।

ডেকে একত্র করার অর্থ এও যে, তিনজনের বেশি মুসল্লি হয়ে যাওয়া।

সেই সাথে এভাবে জামাত পড়া বিদআতও হবে। যে কাজ রাসূল সাঃ ও সাহাবাগণ এবং তাবেয়ীগণ করেননি, সেটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত মনে করে পড়া বিদআত।

এ বিষয়ে দালিলীক আলোচনা জানতে হলে পড়ুন- ফাতওয়া উসমানী-১/৪৪৪-৪৫৮।

أما لو اقتدى واحد بواحد أو اثنان بواحد لا يكره وإذا اقتدى ثلاثة بواحد اختلف فيه وإذا اقتدى أربعة بواحد كره اتفاقا (طحطاوى على مراقى الفلاح، كتاب الصلاة، باب الوتر واحكامه-313، حلبى كبيرى-408)

(قَوْلُهُ عَلَى سَبِيلِ التَّدَاعِي) هُوَ أَنْ يَدْعُوَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا كَمَا فِي الْمُغْرِبِ، وَفَسَّرَهُ الْوَانِيُّ بِالْكَثْرَةِ وَهُوَ لَازِمُ مَعْنَاهُ.

(قَوْلُهُ أَرْبَعَةٌ بِوَاحِدٍ) أَمَّا اقْتِدَاءُ وَاحِدٍ بِوَاحِدٍ أَوْ اثْنَيْنِ بِوَاحِدٍ فَلَا يُكْرَهُ، وَثَلَاثَةٍ بِوَاحِدٍ فِيهِ خِلَافٌ بَحْرٌ عَنْ الْكَافِي وَهَلْ يَحْصُلُ بِهَذَا الِاقْتِدَاءِ فَضِيلَةُ الْجَمَاعَةِ؟ ظَاهِرُ مَا قَدَّمْنَاهُ مِنْ أَنَّ الْجَمَاعَةَ فِي التَّطَوُّعِ لَيْسَتْ بِسُنَّةٍ يُفِيدُ عَدَمَهُ تَأَمَّلْ. بَقِيَ لَوْ اقْتَدَى بِهِ وَاحِدٌ أَوْ اثْنَانِ ثُمَّ جَاءَتْ جَمَاعَةٌ اقْتَدَوْا بِهِ. قَالَ الرَّحْمَتِيُّ: يَنْبَغِي أَنْ تَكُونَ الْكَرَاهَةُ عَلَى الْمُتَأَخِّرِينَ. اهـ (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر والنوافل، مطلب فى كراهية الإقتداء فى النفل على سبيل التداعى-2/500)

ثُمَّ إنْ كَانَ ذَلِكَ أَحْيَانًا كَمَا فَعَلَ عُمَرُ كَانَ مُبَاحًا غَيْرَ مَكْرُوهٍ، وَإِنْ كَانَ عَلَى سَبِيلِ الْمُوَاظَبَةِ كَانَ بِدْعَةً مَكْرُوهَةً لِأَنَّهُ خِلَافُ الْمُتَوَارَثِ، (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر والنوافل-2/48)

 

তাহাজ্জুদের জামাতকে মাকরূহ আখ্যাদান করে ফাতওয়া প্রদান করেছেন উলামায়ে দেওবন্দের শিরোমণি মুফতীগণ!

ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ- ৪/২২২-২২৪।

ফাতাওয়া মাহমূদিয়া-১১/৩০৫-৩০৮।

ফাতাওয়া রহীমিয়া-৫/২১৭-২১৯।

আহসানুল ফাতওয়া-৩/৪৯৩।

ফাতাওয়া হক্কানিয়া-৩/২৫৯।

নিজামুল ফাতাওয়া-৬/১/৩৩।

ইমদাদুল আহকাম-২/২২৫।

ফাতাওয়া উসমানী-১/৪৪৪-৪৫৮।

কিতাবুল ফাতাওয়া-২/৩৭০-৩৭১।

 

শাইখুল ইসলাম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ কেন তাহাজ্জুদের জামাত পড়তেন?

যারা আরবী বুঝেন, তারা্ ফিক্বহের কিতাবের আরবী ইবারত দ্বারাই পরিস্কার হয়ে গেছেন যে, উলামায়ে আহনাফের নিকট তাহাজ্জুদের জামাত মাকরূহ। সেই সাথে উলামায়ে দেওবন্দের সকল মুফতীগণও একই মত পোষণ করেন।

প্রশ্ন হল, উলামায়ে দেওবন্দের একজন শিরোমণি আলেম, শাইখুল ইসলাম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ কেন রমজান মাসে তাহাজ্জুদ নামাযের জামাত পড়তেন?

এর দু’টি জবাব দেয়া যায়ঃ

সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহু একজন বিজ্ঞ মুহাক্কিক আলেম ছিলেন। তার নিকট দলীলের আলোকে রমজানে তাহাজ্জুদ পড়া প্রমাণিত মনে হয়েছে। তাই তিনি পড়েছেন। এটি হযরতের একটি “তাফাররুদ” তথা ব্যক্তিগত আমল।

তিনি মুহাক্কিক আলেম ছিলেন, তাই এটি তার ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে রাখতে হবে। এর দ্বারা দলীল পেশ করা যৌক্তিক নয়।

বাকি জমহুর এটিকে মাকরূহ বলেছেন। তাই আমরাও এটিকে মাকরূহ মনে করি।

হযরত তাহাজ্জুদ নামাযের গুরুত্ব তার অনুসারীদের কাছে বুঝানোর জন্য তিনি তাহাজ্জুদ জামাতে পড়েছেন। সুন্নাহ মনে করে নয়। [الله اعلم باصواب]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

বিবাহের মাঝে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করার হুকুম কী?

প্রশ্ন From: মোঃ আবুল কাশেম বিষয়ঃ বিয়ের মধ্যে লাইটিং,ডেকোরেটর,গেট,অনেক মানুষ খাওয়ানো এবং সাজ-সজ্জা প্রসেঙ্গ। প্রশ্নঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস