প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের সূচনা কবে থেকে শুরু হয়েছে এবং এর হুকুম কী?

প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের সূচনা কবে থেকে শুরু হয়েছে এবং এর হুকুম কী?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।
মুফতী সাহেব হুজুর কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালই আছেন। হুজুরের
কাছে একটি বিষয় জানতে ই-মেইল করেছি। যত দ্রুত সম্ভব উত্তরটা দিবেন। খুবই
উপকৃত হব।

প্রশ্ন হল, প্রচলিত মিলাদ সম্পর্কে। আমাদের মহল্লায় মিলাদ হয়। সবাই এক
স্থানে একত্রিত হয়।বিশেষ করে মসজিদে। একজন লোক তেলাওয়াত করে , যিকির করে,
ও দুরূদ পড়ে তারপর দুয়া করে। এটা আসলে কী? মিলাদ পড়া কি জায়েয? এবং মিলাদ
এর প্রচলন কখন থেকে শুরু হয়? ঐ পদ্ধতিকে মিলাদ নামকরনের কারন কী? যারা
এসমস্ত কাজ করে তাদের ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী?
দ্রুত জানালে খুশি হব।

প্রশ্নকর্তা-শোয়াইব আহমাদ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

মিলাদ মানে হল জন্ম। মূলত এ বিদআতের সূচনা হয়েছিল রাসূল সাঃ এর জন্ম তারিখে খানাপিনা উৎসবের একটি বিদআতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। যা করেছিল ৬০৪ হিজরীর এক অপব্যায়ী বাদশা এবং তার এক কাজ্জাব দরবারী আলেম।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৬০৪ হিজরী সনে ইরাকের মসোল শহরের বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফর উদ্দীন কাওকারী [মৃত-৬৩০ হিজরী] এবং আবুল খাত্তাব ওমর বিন দিহইয়া [মৃত্যু-৬৩৩ হিজরী] এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম প্রচলিত পদ্ধতির মিলাদ মাহফিলের সূচনা হয়। সে সময় শুধুমাত্র ১২ ই রবিউল আওয়ালে তা পালন করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে তা যেকোন দুআর অনুষ্ঠানেই পালন করা শুরু হয়।

উক্ত দরবারী আলেম আবু খাত্তাব বিন ওমর বিন দিহয়া সর্বপ্রথম মিলাদ মাহফিলের বৈধতা প্রদান করে “আততানবীর ফী মাওলিদিসসিরাজিম মুনীর” নামে একটি গ্রন্থ রচনা করে। ফলে বাদশা খুশি হয়ে উক্ত আলেমকে কে হাজার দিনার বখশীশ দান করেন।

উক্ত আলেম সম্পর্কে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ লিখেন-

كثير الوقيعة في الأئمة وفي السلف من العلماء خبيث اللسان أحمق شديد الكبر قليل النظر في أمور الدين متهاونا

সে পূর্ববতী ইমাম ও আলেম উলামাদের সাথে বেয়াদবীমূলক আচরণ করতো। সে ছিল অশ্লীলভাষী, প্রচন্ড নির্বোধ, অহংকারী দ্বীন সম্পর্কে সংকীর্ণমনা ও অলস। {লিসানুল মিযান-১/৩৩৮}

সুতরাং বুঝা গেল এ প্রচলিত মিলাদ আল্লাহর রাসূল সাঃ ও সাহাবা তাবেয়ী ও তাবেয়ীগণ কিংবা বুজুর্গ কর্তৃক প্রচলিত বিষয় নয়। এটি একটি মিথ্যুক ব্যক্তির সেচ্ছাচারিতার ফসল। তাই এটি পরিত্যাজ্য বিদআত।

যদিও দরূদ পড়া খুবই সওয়াবের কাজ। কিন্তু এর সাথে আরো অনেক শরীয়ত গর্হিত বিষয়ের অনুপ্রবেশ হবার কারণে উক্ত প্রচলিত পদ্ধতির মিলাদ মাহফিল বিদআত এতে কোন সন্দেহ নেই।

اى أنشأ واخترع وأتى بأمر حديث من قبل نفسه…… (ما ليس منه) أى رأيا ليس له فى الكتاب أو السنة عاضد ظاهر أو خفى، ملفوظ أو مستنبط (فهو رد) أى مردود على فاعله لبطلانه، (فيض القدير، رقم الديث-8333)

وضع الحدود وإلتزام الكيفيات والهيئات المعينة فى أوقات معينة لم يوجد ذلك التعين فى الشريعة، (الإعتصام-1/39)

وفيه ايضا- ومنها التزام الكيفيات والهيئات المعينة كالذكر بهيئة الإجتماع  على صوت واحد واتخاذ يوم ولادة النبى صلى الله عليه وسلم عيدا، وما اشبه ذلك.. الخ (الإعتصام-1/29)

 

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

পুরাতন কবরের উপর মসজিদে নির্মাণ করা যাবে?

প্রশ্ন আমার গ্রামের মসজিদ পুনরায় নির্মাণ করার জন্য চেস্টা করতেছি কিন্ত পাসে একটা কবর থাকায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস