প্রচ্ছদ / জায়েজ নাজায়েজ / মহিলাদের জন্য ডাক্তারী পেশা গ্রহণের হুকুম কী?

মহিলাদের জন্য ডাক্তারী পেশা গ্রহণের হুকুম কী?

প্রশ্ন

Assalamualaikum
My name is Zahra.I really need this question to beanswered.is it permissible in our deen for women to come forward in the field of Medicine.Please give a detailed answer on the perspective of Bangladesh. i’ve completed my MBBS and was very very much interested in postgraduation on neuro-surgery.but there i had to work with male surgeons so i gave up the idea.now please tell me if i’m allowed to carry on as a doctor,do my postgraduation,can i choose any of the fields for my specialisation?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

পর্দা রক্ষা করা ফরজ। আর অসুস্থ্য মানুষদের সেবা করাও সওয়াবের কাজ। যেহেতু মহিলাদের  জন্য মহিলা ডাক্তারের প্রয়োজন। তাই আপনি যেহেতু ডাক্তারী পড়েছেন। এমবিবিএসও শেষ করে ফেলেছেন। তাই পর্দা রক্ষা করে বাকিটাও শেষ করে ফেলুন। যে সমস্যার কথা বললেন যে, পুরুষের সাথে কাজ করতে হবে। আপনি হয়তো ইচ্ছে করলে এটি এড়াতে পারবেন। নিজেই ক্লিনিক করতে পারেন। যেখানে শুধু নারীরা কাজ করবে। আমাদের জানা মতে এখন বেশ কিছু হাসপাতাল হচ্ছে যেখানে নারীদের সেবা নারীরাই করছে। এমন কোন হাসপাতালে আপনি পর্দা রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে মনে হয়। বাকি পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার দ্বীনের প্রতি মোহাব্বত এবং আল্লাহভীতির উপর। আপনার যদি মনে হয় আপনি শরীয়ত মানতে পারবেন না। তাহলে আখেরাতকে প্রাধান্য দিয়ে তা বর্জন করা  জরুরী। আর যদি মনে হয় পারবেন, তাহলে তা করতে পারেন।

আপনার জন্য দুআ থাকবে। আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখেরাত আপনার জন্য সুন্দর করে দিন। আল্লাহ তাআলার শরীয়ত পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে তার প্রিয় ভাজন হবার তৌফিক দান করুন। আমীন।

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمًا

অর্থ : আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। {সূরা আহযাব-৫৩}

বিখ্যাত তাফসীরবিদ ইমাম কুরতুবী রাহ. উক্ত আয়াতের আলোচনায় বলেন, উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে কোনো প্রয়োজনে পর্দার আড়াল থেকে কিছু চাওয়া বা কোনো মাসআলা জিজ্ঞাসা করার অনুমতি দিয়েছেন। সাধারণ নারীরাও উপরোক্ত হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৪৬)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ হলেন সকল মুমিনের মা। অথচ তাঁদের সাথেই লেনদেন বা কথা-বার্তা বলতে হলে পর্দার আড়াল থেকে করতে বলা হয়েছে। তাহলে অন্যান্য সাধারণ বেগানা নারীদের ক্ষেত্রে হুকুমটি কত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত তা তো সহজেই অনুমেয়।

عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم أيها الناس اتقوا الله وأجملوا في الطلب . فإن نفسا لن تموت حتى تستوفي رزقها وإن أبطأ عنها . فاتقوا الله وأجملوا في الطلب

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় কর! এবং উপার্জনে উত্তম পন্থা অবলম্বন কর। কেননা কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না, যতক্ষণ না তার রিজিক শেষ হয়। যদিও তা ধীরে ধীরে হয়। তাই আল্লাহ তাআলাকে ভয় পাও! এবং উপার্জনে উত্তমপন্থা অবলম্বন কর। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২১৪৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৯১৪, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-১১৫২}

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

চার রাকাত বিশিষ্ট্য নফল নামাযের মাঝের বৈঠকে দরূদ ও দুআয়ে মাছুরা পড়া যাবে?

প্রশ্ন From: মুফতি মহিউদ্দীন বিষয়ঃ চার রাকাত বিশিষ্ট নফল নামাজে দুরুদ ও দোআ পড়া প্রশ্নঃ …

No comments

  1. আবু ওয়াফা

    জাঝাকাল্লাহ্

  2. কিন্তু পর্দা রক্ষা করে এডুকেশন নেওয়া আদৌ সম্ভব নয়।

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস