প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / কাদিয়ানীরা কাফির কেন?

কাদিয়ানীরা কাফির কেন?

প্রশ্ন

কাদিয়ানিরা কাফের কেন ?

প্রশ্নকর্তা- জুবায়ের আহমেদ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

কাদিয়ানীরা কাফের হবার অনেক কারণ রয়েছে। যার কয়েকটি নিচে উদ্ধৃত করা হল।

১-

মির্যা বশীর আহমদ লিখেছে-

“মসীহ মওউদ [মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী] খোদ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যিনি ইসলাম প্রচারের জন্য দ্বিতীয়বার আগমণ করেছেন। এ কারণে আমাদের [কাদিয়ানীদের] কোন নতুন কালিমার প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, যদি মুহাম্মদ রাসূলের স্থলে যদি অন্য কেউ আসতো, তাহলে প্রয়োজন ছিল। {কালিমাতুল ফসল-১৫৮}

কাদিয়ানীদের মতে ১৪তম শতাব্দীর সমস্ত মানুষের রাসূল হল গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। {তাযকিরা-৩৬০}

কদিয়ানীদের মতে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী রাহমাতুল্লিল আলামীন। {তাযকিরা-৮৩}

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস হল, খাতামুন নবী মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী।

মির্যার পত্রিকা “আলফজল”, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ১৯১৫ ঈসাব্দের সংখ্যায় লিখেছে-

“এ মুসলমানরা কি মুখ নিয়ে অন্য ধর্মের মুকাবিলায় নিজের ধর্মকে পেশ করতে পারে, যতক্ষণ না তারা মসীহ মাওউদ [গোলাম আহমদ কাদিয়ানী] এর সত্যতার উপর ঈমান না রাখে। যিনিই মূলত ছিলেন শেষ রাসূল। তিনিই আল্লাহর ওয়াদা অনুপাতে দ্বিতীয়বার শেষ জমানায় আগমণ করেছেন। তিনিই [মির্যা] প্রথম ও শেষ জমানার গর্ব। যিনি আজ থেকে তেরশত বছর আগে রাহমাতাল্লিল আলামীন হয়ে এসেছিলেন। {কাদিয়ানী মাযহাব-২৬৪}

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস হল, আসমান জমিন এবং সমস্ত সৃষ্টিজীব শুধুমাত্র মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর কারণেই সৃষ্টি করা হয়েছে। {হাকিকাতুল ওহী-৯৯}

কাদিয়ানীদের আকিদা হল, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আসমানী মর্যাদা সমস্ত নবীদের থেকে উপরে। {হাকিকাতুল ওহী-৮৯}

কাদিয়ানীদের আকিদা হল, রাসূল সাঃ এর জমানা আত্মিক উন্নতির জন্য প্রথম পদক্ষেপ ছিল, আর মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর সময় তা পরিপূর্ণ বিকশিত হয়ে পড়ে। {খুতুবাতে ইলহামিয়া-১৭৭}

কাদিয়ানীদের আকিদা হল, রাসূল সাঃ এর ছোট বিজয় অর্জিত হয়েছে, আর বড় বিজয় অর্জিত হয়েছে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর। {খুতুবাতে ইলহামিয়া-১৯৩}

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস হল, রাসূল সাঃ এর জমানায় ইসলাম প্রথমে রাতের চাদের মত [আলোহীন] ছিল। আর মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর জমানায় চতুর্দশী চাদের মত আলোকিত ছিল। {খুতুবাতে ইলহামিয়া-১৮৪}

১০

কাদিয়ানীদের আকিদা হল, রাসূল সাঃ এর মুজিজা ছিল মাত্র তিন হাজার [তুহফায়ে গুলারিয়া-৬৩] আর মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর মুজিজা ছিল তিন লাখেরও উপরে। {হাকীকাতুল ওহী-৬৭}

১১

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস হল, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী রূহানী শক্তি রাসূল সাঃ থেকেও বেশি ও পূর্ণ ছিল। [নাউজুবিল্লাহ] {খুতুবাতে ইলহামিয়া-১৮১}

১২

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস হল, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আল্লাহর সন্তান সমতুল্য। [নাউজুবিল্লাহ] {তাযকিরাহ-৪১২}
১৩

কাদিয়ানীদের আকিদা হল, মির্যা কাদিয়ানী আল্লাহ তাআলার অবতার। {তাযকিরাহ-৫৯৬}

১৪

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস হল, মির্যা কাদিয়ানী আল্লাহর রূহ। {তাযকিরাহ-৭৪১}
১৫

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস হল, গোলাম আহমদ কাদিয়ানী যা বলে তাই হয়ে যায়। {তাযকিরাহ-৫২৫}
১৬

কাদিয়ানীদের আকিদা হল, মির্যা কাদিয়ানী খোদার অন্তর্ভূক্ত, আর খোদা কাদিয়ানীর অন্তর্ভূক্ত। {আখবারে বদর, ২৫শে অক্টোবর, ১৯০৬ ঈসাব্দ}

১৭

কাদিয়ানীদের মতে বর্তমানে শুধু রাসূল সাঃ এর অনুসরণ দ্বারা মুক্তি পাওয়া যাবে না, বরং মির্যা কাদিয়ানীরও অনুসরণ করতে হবে। {আরবাঈন-৭}
১৮

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস হল, যারা মির্যার অনুসরণ করবে না, তারা আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর নাফরমান এবং জাহান্নামী। {ইশতিহারে মিয়ারুল আখয়ার, ২৫মে মে, ১৯০০ ঈসাব্দ}

১৯

কাদিয়ানীর আকিদা হল, রাসূল সাঃ এর সামনে দাজ্জাল, ঈসা বিন মারইয়াম, ইয়াজুজ, মাজুজ, দাব্বাতুল আরদ ইত্যাদির আসল হাকিকত প্রকাশিত হয়নি, বরং মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর সামনে এ সকল বিষয়ের হাকিকত প্রকাশিত হয়েছে। {ইযালায়ে আওহাম-৬৯১}

২০

কাদিয়ানীদের আকিদা হল, রাসূল সাঃ এর মুজিজা স্বরূপ শুধু চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল, আর মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর মুজিজা স্বরূপ  চন্দ্র সূর্য উভয়টির গ্রহণ হয়েছিল। {ইজাজে আহমদী-৭১}

উপরে মাত্র বিশটি কুফরী আকিদার কথা উল্লেখ করা হল। এরকম অসংখ্য কুফরী আকিদায় ভরপুর কাদিয়ানী ধর্মাবলম্বীদের। যার একটির মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি কাফের হবার জন্য যথেষ্ট। এ কারনেই উলামায়ে ইসলামের সর্ব সম্মত মতানুসারে কাদিয়ানীরা কাফির। এতে কোন সন্দেহ নেই।                                                                                          

 والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

“জিকিরের দ্বারা জিহবা তরোতাজা থাকলে হাসতে হাসতে জান্নাত” এটা কি হাদীস?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম প্রিয় মুফতী সাহেব, মহান  আল্লাহর জন্যই  আপনাকে  অনেক  ভালবাসি। আপনার লেখা পড়ি ও প্রচার করি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, হাসতে হাসতে জান্নাত যাওয়ার হাদিস আমি এতদিন মানুষকে বলতে না করেছি আপনার লেখা পড়ে, এখন একটা দলিল পেয়েছি। দয়া করে জানাবেন দলিল ঠিক আছে কিনা, তাহলে এই হাদিস আমিও প্রচার করব ইনশাআল্লাহ। উত্তর وعليكم السلام ورحمة الله …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস