প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / পাকিস্তানী সুন্নী নামধারী পীর তাহের শাহ ও তার দলের আকীদা বিশ্বাস কি সঠিক?

পাকিস্তানী সুন্নী নামধারী পীর তাহের শাহ ও তার দলের আকীদা বিশ্বাস কি সঠিক?

প্রশ্ন

আসসালামুআলাইকুম,

হুজুর আমি আপনার বয়ান, ওলীপুরি,চরমোনাই  এবং দেওবন্দি হুজুরদের বয়ান শুনি। সাধারন শিক্ষিত হলেও চেষ্টা করি হক্কানি হুজুরদের আর্দশ অনুযায়ী চলার জন্য।

আমার কয়েকটি বন্ধু আন্জুমানে ইসলাম বাংলাদেশ এর সদস্য ও তাদের পীর তাহের শাহ্ এর মুরিদও। তাদের কার্যক্রম দেখলে মনে হয় ঠিক নেই, কারন আহলে হকদের আকীদা ও কাজকর্ম এর সাথে তাদের সম্পর্ক নেই। তাদের পীর তাহের শাহতো পাকিস্থানে কোন নাম গন্ধও নাই কিন্তু চট্টগ্রামে খুবই পরিচিতি মুখ। আর তাদের সংগঠন ও তাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত দলটির সাথেতো বাংলাদেশের বড় বড় ওলাময়ে কেরামদের কোন সম্পর্ক নেই। আমি আমার বন্ধুকে বিরত থাকতে বলছি কিন্তু তারা প্রমাণ চাচ্ছে এটা যে সঠিক নয়। দয়া করে আপনি যদি আমাকে উপযুক্ত সহায়তা করতেন।

বিঃদ্র: উত্তর প্রকাশিত হলে, লিংকটা দিলে উপকার হতাম।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

তাহের শাহ এবং তার পিতা তাইয়্যিব শাহ এর ছেলে। তারা পথভ্রষ্ট বেরেলবী মতবাদের অনুসারী। তাদের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট http://www.anjumantrust.org/ ভিজিট করলেই আপনার কাছে বিষয়টি ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

তাদের আকীদার মাঝে অনেক বিষয় শিরকী এবং কুফরীর শামিল।

যেমন,

১ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বত্র হাজির নাজির বিশ্বাস করা।

সহীহ আকীদা

অথচ একমাত্র হাজির ও নাজির আল্লাহ তাআলা।

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ [٢:١٨٦]

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে। {সূরা বাকারা-১৮৬}

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ ۖ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ [٥٠:١٦

আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। {সূরা কাফ-১৬}

فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ (85

অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক, তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না। (সূরা ওয়াকিয়া-৮৭, ৮৪, ৮৫)

وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ [٢:١١٥]

পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ। (সূরা বাক্বারা-১১৫}

قوله تعالى  { وَهُوَ مَعَكُمْ  أَيْنَمَا كُنتُمْ } [ الحديد : 4 

তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন {সূরা হাদীদ-৪}

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۖ مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَىٰ ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَىٰ مِنْ ذَٰلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ۖ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ [٥٨:٧]

আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন, তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। (সূরা মুজাদালা-৭)

বিস্তারিত এ লিংকে https://ahlehaqmedia.com/552-2/

 

২ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্ব বিষয়ে আলিমুল গায়েব বিশ্বাস করা।

সহীহ আকীদা

একমাত্র আলিমুল গায়েব আল্লাহ তাআলা।নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তাআলা যতটুকু জানান, নবীজী শুধু ততটুকুই জানেন। নিজস্ব ক্ষমতা বর্তমান বা অতীত বা ভবিষ্যতের কোন কিছু কোন মাধ্যম ছাড়া তিনি জানেন না। কারণ, গায়েবের একমাত্র জ্ঞান আল্লাহ তাআলার কাছে।

وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ ۚ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ۚ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ [٦:٥٩]

তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে।  [সূরা আনআম-৫৯]

وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا ۖ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنفُسِهِمْ ۖ إِنِّي إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ [١١:٣١]

আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব। [সূরা হুদ-৩১]

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ [٢٧:٦٥]

বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে। [সূরা নামল-৬৫]

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۖ هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ [٥٩:٢٢]

তিনিই আল্লাহ তা’আলা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা।  [সূরা হাশর-২২]

 

عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَىٰ غَيْبِهِ أَحَدًا [٧٢:٢٦]

তিনি আলিমুল গায়েব। পরন্ত তিনি অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না। [সূরা জিন-২৬]

عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ [٢٣:٩٢]

তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী। তারা শরীক করে, তিনি তা থেকে উর্ধ্বে। [সূরা মু’মিনূন-৯২]

 

৩ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুখতারে কুল বিশ্বাস করা।

সহীহ আকীদা

সর্ববিষয়ে একমাত্র ক্ষমতাবান মহান রব্বুল আলামীন।

وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [١١:٤]

আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। [সূরা হুদ-৪]

 

ইত্যাদি সুষ্পষ্ট কুফরী এবং শিরকী আকীদা পোষণের কারণে এ দলটি পথভ্রষ্ট হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকে না।

তাছাড়া বেশ কিছু কাজ তাদের পরিস্কার বিদআতের অন্তর্ভূক্ত।

যেমন-

১ জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন।

২ প্রচলিত মিলাদ কিয়াম।

৩ জন্মদিন উদযাপন ইত্যাদি।

এসবের কোন প্রমাণ কুরআন ও হাদীসের মাঝে বিদ্যমান নেই। যা তারা বিশেষ সওয়াবের কাজ হিসেবে করে থাকে। যার মাধ্যমে তারা হক দল থেকে বিচ্যুত হয়ে একটি গোমরাহ বিদআতি দলে পরিণত হয়েছে।

এরকম নানাভিদ কুফরী ও শিরকী বিষয়ে ভরপুর এ তথাকথিত সুন্নী নামধারী তাহেরী গ্রুপের মাঝে।

এ বিষয়ে আমাদের ওয়েব সাইটে একাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো পড়লেই আশা করি কুরআন ও হাদীসের আলোকে তাদের গোমরাহী সম্পর্কে সম্মক অবগতি হবে ইনশাআল্লাহ।

বাকি এতটুকু জেনে রাখুন যে, এরা পথভ্রষ্ট। সত্যিকার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সাথে  তাদের ন্যুনতম কোন সম্পর্ক নেই। বরং এরা হক বিচ্যুত বিধর্মীদের রুসম রেওয়াজে অভ্যাস্ত একটি গোমরাহ দল।

এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

আরো জানতে হলে পড়ুন-

১- https://ahlehaqmedia.com/552-2/

https://ahlehaqmedia.com/6015-2/

https://ahlehaqmedia.com/6016-2/

https://ahlehaqmedia.com/6010-2/

https://ahlehaqmedia.com/6011-2/

https://ahlehaqmedia.com/6017-2/

https://ahlehaqmedia.com/6014-2/

https://ahlehaqmedia.com/8760-2/

https://ahlehaqmedia.com/3200-3/

১০ https://ahlehaqmedia.com/5505/

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

সেলুনে চুল কাটার পর গোসল ফরজ কি?

প্রশ্নঃ সেলুনে চুল কাটার পর গোসল ফরজ কি? উত্তর بسم الله الرحمن الرحيم চুল কাটার …

One comment

  1. Right

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *