প্রচ্ছদ / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / ‘তোর আমার লাগত না’ এবং ‘যা বিদায় হয়ে যা’ বলার দ্বারা কি তালাক হয়?

‘তোর আমার লাগত না’ এবং ‘যা বিদায় হয়ে যা’ বলার দ্বারা কি তালাক হয়?

প্রশ্ন

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

বরাবর, মুফতী সাহেব।

আপনার নিকট আমার আরজি এই যে, আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একদিন ঝগড়া হয়।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি বলি ‘তোর সংসারে আমার থাকতে ইচ্ছে হয় না। উত্তরে স্বামী বলে ‘আমায় রাগ উঠাইস না কিন্তু, আমি কোন কিছু বললে না আবার ফতোয়া খুজছ আলেমদের কাছে গিয়া, যা বিদায় হইয়া যা। একথা কত বলছিস কিন্তু বিদায় আর হস না’।

এ ঘটনার কিছু দিন পরে আবার ঝগড়া হয় ওনার সাথে।

বিষয়টা হল: আমার স্বামী আমার চিকিৎসা, কাপড় চোপড় রাখার সরঞ্জাম আর আরও অনেক কিছু জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দেয়।

এ কারণে আমি সহবাসের আগে ওনার কাছ থেকে টাকা নেই। টাকা নিয়া আমার চাহিদা পূরণ করি।

একদিন সহবাসের আগে টাকা খুজায় আমার স্বামী আমাকে বলল ‘চলে যা আমার বাড়ি থেকে তরে আমার লাগত না। যা গিয়া ব্যবসা কর গিয়া। ব্যবসা কইরা টাকা জমা গিয়া। তরে আমার লাগদ না। এমন বউ লাগদ না আমার’।

এর কিছুদিন পরে আবার ঝগড়া হয়।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি বলি: ‘সন্তানের জন্য জীবনটা শেষ করতাছি। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আইন্না বাথরুম করতে চাই। তাও করতে চায় না। উনিশ থেকে বিশ হলেই তালাক দিয়া দেয়’। উত্তরে তিনি বলেন ‘ঠিকই কথা। আমি তোর বাপের বাড়ি থেকে টাকা আইন্না বাথরুম করতাম না’।

এসব কথা দ্বারা তালাক হইছে কি না? আমি আপনার নিকট জানতে চাই।

এসব কথা বলার আগে আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয় এবং শরীয়তসম্মতভাবে নতুন করে ওনার সাথে বিবাহ পড়ানো হয়। বিবাহের পরই আবার নতুন করে ওনি আমাকে এসব কথা বলে।

আরেকটা বিষয় হল:

আমি পাক নাপাকের বিষয় নিয়া রাগের  বশবর্তী হইয়া বলে ফেলি ‘যে মাসআলা এত কঠিন করার কারণেই অনেক মানুষ ঈমানহারা হইয়া যায়, অর্থাৎ এ কথা দ্বারা আমি বুঝাইতে চেয়েছি যে, মানুষ মুসলমান থেকে বিধর্মী হয়ে যায় বা খারিজ হয়ে যায়। পাক নাপাকের বিষয়টা আল্লাহ পাকের এত কঠিন করাটা ঠিক হয়নি একথাটাও আমি মনে মনে ভেবেছিলাম। এখন একথাগুলো দ্বারা আমার ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে কি?

দয়া করে জানাবেন।

নাম ঠিকানা গোপন রাখা হলো।  

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রথম ও দ্বিতীয় ঝগড়ার সময়ের কথার দ্বারা যদি তালাকের নিয়তে কথাগুলো বলে থাকে, তাহলে এক তালাকে বায়েন পতিত হয়েছে।

আর যদি তালাকের নিয়ত না বলে থাকে, তাহলে কোন তালাক পতিত হয়নি।

আর তৃতীয় ঝগড়ার সময়ের কথার দ্বারা কোন তালাক পতিত হয়নি।

পাক নাপাক বিষয়ে আপনার মন্তব্যটি অশোভন ও বর্জনীয় হলেও এর দ্বারা ঈমান চলে যায়নি।

তবে ইস্তেগফার ও তওবা করা আবশ্যক।  

مثل اذهبى فيحتاج إلى النية… وإن نوى فهى واحدة بائنة (رد المحتار، كتاب الطلاق، باب الكنايات، زكريا-4/551، 4/528-529، كرتاشى-3/314، 3/296، البحر الرائق، زكريا-3/526، كويته-3/302، الفتاوى الهندية-1/442، جديد-1/374، خانية على هامش الهندية-1/468، جديد-1/284)

قال رجل: يا رب! اين ستم مبسند، قال بعضهم يكفر، والأصح أنه لا يكفر (الفتاوى الهندية-2/259، جديد-2/272)

وما فيه خلاف يؤمر بالاستغفار والتوبة (الدر المختار مع رد المحتار، زكريا-6/390-391، كرتاشى-4/247، الفتاوى التاتارخانية-7/320، رقم-10587)

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা: জামিয়াতুস সুন্নাহ কামরাঙ্গিরচর, ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা: কাসিমুল উলুম আলইসলামিয়া, সালেহপুর আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

শাইখুল হাদীস: জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সনমানিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

ইমেইল[email protected]

0Shares

আরও জানুন

ঊনপঞ্চাশ বছর পর কিয়ামত হবে?

প্রশ্ন السلام عليكم ورحمة الله وبركاته আলিয়া মাদ্রাসার, মুফতি কাজী ইবরাহীম বলছে, “কেয়ামতের বাকী ৪৯ …

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস