প্রশ্নঃ
আসসালামু আলাইকুম,আমি হাসসান সিলেট থেকে,আমার একটা মাসয়ালা জানার ছিলো, ” ইমাম একজন মুসল্লি কে নিয়ে মিম্বর থেকে সরে এসে প্রথম কাতারে নামাজে দাড়ালেন, কিন্তু পরে আরেকজন মুসল্লি চলে আসলো তখন কি ইমাম নিজের ইচ্চায় মিম্বরে চলে যাবে, না ২য় মুসল্লি তাকে ধাক্কা দিয়ে মিম্বরে পাটাবেন?” প্লিজ উত্তর টা দিবেন
From: Gachbari media [email protected]
উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
حامدا ومصليا ومسلما
যখন ইমামের সঙ্গে মাত্র একজন মুকতাদি থাকে, তখন তার জন্য সুন্নত হলো ইমামের ডান পাশে এক কদম পিছিয়ে দাঁড়ানো। এ অবস্থায় পেছনের কাতারে দাঁড়ানো মাকরূহ। এমনকি পরবর্তীতে দ্বিতীয় কোনো মুকতাদি আসার সম্ভাবনা থাকলেও, প্রথম মুকতাদির উচিত পেছনের কাতারে না গিয়ে ইমামের ডান পাশে সামান্য পিছিয়ে দাঁড়ানো।
পরবর্তীতে যদি দ্বিতীয় কোনো মুকতাদি এসে জামাতে শরিক হতে চায়, তাহলে প্রথম মুকতাদির কর্তব্য হলো নিজে থেকে পেছনে সরে গিয়ে দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়ানো। অথবা তৃতীয় ব্যক্তি এসে তাকে টেনে নিয়ে পেছনের কাতারে দাঁড় করাবে, এটাই উত্তম ও মাসনূন পদ্ধতি। যদিও পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে ইমামের সামনে এগিয়ে যাওয়ারও অনুমতি রয়েছে।
তবে যদি মুকতাদি নিয়ম না জানার কারণে নিজে থেকে পেছনে না যায় এবং ইমামের ইশারাতেও পেছনে না আসে, অথবা ইমামের ইশারার কারণে তার নামাজ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ইমাম নিজেই সামনে এগিয়ে যাবেন। একইভাবে, যদি মুকতাদির জন্য পেছনে যাওয়ার জায়গা না থাকে কিন্তু ইমামের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে ইমামেরই সামনে চলে যাওয়া উচিত।
আর যদি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে যে দ্বিতীয় মুকতাদি আসবে, তাহলে উত্তম হলো তার জন্য অপেক্ষা করে তারপর জামাত শুরু করা। সে ক্ষেত্রে দুইজন মুকতাদি একসঙ্গে ইমামের পেছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে।
শরঈ দলীল:
فتاوی شامی:
“إذَا اقْتَدَى بِإِمَامٍ فَجَاءَ آخَرُ يَتَقَدَّمُ الْإِمَامُ مَوْضِعَ سُجُودِهِ، كَذَا فِي مُخْتَارَاتِ النَّوَازِلِ. وَفِي الْقُهُسْتَانِيِّ عَنْ الْجَلَّابِيِّ: أَنَّ الْمُقْتَدِيَ يَتَأَخَّرُ عَنْ الْيَمِينِ إلَى خَلْفٍ إذَا جَاءَ آخَرُ. اهـ. وَفِي الْفَتْحِ: وَلَوْ اقْتَدَى وَاحِدٌ بِآخَرَ فَجَاءَ ثَالِثٌ يَجْذِبُ الْمُقْتَدِيَ بَعْدَ التَّكْبِيرِ وَلَوْ جَذَبَهُ قَبْلَ التَّكْبِيرِ لَايَضُرُّهُ، وَقِيلَ: يَتَقَدَّمُ الْإِمَامُ اهـ وَمُقْتَضَاهُ أَنَّ الثَّالِثَ يَقْتَدِي مُتَأَخِّرًا وَمُقْتَضَى الْقَوْلِ بِتَقَدُّمِ الْإِمَامِ أَنَّهُ يَقُومُ بِجَنْبِ الْمُقْتَدِي الْأَوَّلِ. وَاَلَّذِي يَظْهَرُ أَنَّهُ يَنْبَغِي لِلْمُقْتَدِي التَّأَخُّرُ إذَا جَاءَ ثَالِثٌ فَإِنْ تَأَخَّرَ وَإِلَّا جَذَبَهُ الثَّالِثُ إنْ لَمْ يَخْشَ إفْسَادَ صَلَاتِهِ، فَإِنْ اقْتَدَى عَنْ يَسَارِ الْإِمَامِ يُشِيرُ إلَيْهِمَا بِالتَّأَخُّرِ، وَهُوَ أَوْلَى مِنْ تَقَدُّمِهِ لِأَنَّهُ مَتْبُوعٌ وَلِأَنَّ الِاصْطِفَافَ خَلْفَ الْإِمَامِ مِنْ فِعْلِ الْمُقْتَدِينَ لَا الْإِمَامِ، فَالْأَوْلَى ثَبَاتُهُ فِي مَكَانِهِ وَتَأَخُّرُ الْمُقْتَدِي، وَيُؤَيِّدُهُ مَا فِي الْفَتْحِ عَنْ صَحِيحِ مُسْلِمٍ «قَالَ جَابِرٌ: سِرْت مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ فَقَامَ يُصَلِّي فَجِئْت حَتَّى قُمْت عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِي عَنْ يَمِينِهِ، فَجَاءَ ابْنُ صَخْرٍ حَتَّى قَامَ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ بِيَدَيْهِ جَمِيعًا فَدَفَعْنَا حَتَّى أَقَامَنَا خَلْفَهُ» اهـ وَهَذَا كُلُّهُ عِنْدَ الْإِمْكَانِ وَإِلَّا تَعَيَّنَ الْمُمْكِنُ. وَالظَّاهِرُ أَيْضًا أَنَّ هَذَا إذَا لَمْ يَكُنْ فِي الْقَعْدَةِ الْأَخِيرَةِ وَإِلَّا اقْتَدَى الثَّالِثُ عَنْ يَسَارِ الْإِمَامِ وَلَا تَقَدَّمَ وَلَا تَأَخَّرَ\”.
( كتاب الصلاة، باب الإمامة، ١ / ٥٦٨، ط: دار الفكر)
فتاوی ہندیہ:
“رَجُلَانِ صَلَّيَا فِي الصَّحْرَاءِ وَائْتَمَّ أَحَدُهُمَا بِالْآخَرِ وَقَامَ عَنْ يَمِينِ الْإِمَامِ فَجَاءَ ثَالِثٌ وَجَذَبَ الْمُؤْتَمَّ إلَى نَفْسِهِ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ لِلِافْتِتَاحِ حُكِيَ عَنْ الشَّيْخِ الْإِمَامِ أَبِي بَكْرٍ طَرْخَالَ أَنَّهُ لَاتَفْسُدُ صَلَاةُ الْمُؤْتَمِّ جَذَبَهُ الثَّالِثُ إلَى نَفْسِهِ قَبْلَ التَّكْبِيرِ أَوْ بَعْدَهُ. كَذَا فِي الْمُحِيطِ وَفِي الْفَتَاوَى الْعَتَّابِيَّةِ هُوَ الصَّحِيحُ. كَذَا فِي التَّتَارْخَانِيَّة.
رَجُلَانِ أَمَّ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ فِي فَلَاةٍ مِنْ الْأَرْضِ فَجَاءَ ثَالِثٌ وَدَخَلَ فِي صَلَاتِهِمَا فَتَقَدَّمَ حَتَّى جَاوَزَ مَوْضِعُ سُجُودِهِ مِقْدَارَ مَا يَكُونُ بَيْنَ الصَّفِّ الْأَوَّلِ وَبَيْنَ الْإِمَامِ لَاتَفْسُدُ صَلَاتُهُ وَإِنْ جَاوَزَ مَوْضِعَ سُجُودِهِ. كَذَا فِي الْمُحِيطِ”.
( كتاب الصلاة، الْبَابُ الْخَامِسُ فِي الْإِمَامَةِ، الْفَصْلُ الْخَامِسُ فِي بَيَانِ مَقَامِ الْإِمَامِ وَالْمَأْمُومِ، ١ / ٨٨ ط: دار الفكر)
درر الحكام شرح غرر الأحكام:
“وَإِنْ صَلَّى فِي يَسَارِهِ أَوْ فِي خَلْفِهِ جَازَ وَأَسَاءَ فِيهِمَا فِي الْأَصَحِّ لِمُخَالَفَتِهِ السُّنَّةَ.”
(کتاب الصلاۃ۔1/ 87 ط: بیروت)
والله أعلم بالصواب
উত্তর লিখনে,
মুহা. শাহাদাত হুসাইন , ছাগলনাইয়া, ফেনী।
সাবেক শিক্ষার্থী: ইফতা বিভাগ
তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
সত্যায়নে
মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী দা.বা.
পরিচালক– তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: জামিয়াতুস সুন্নাহ কামরাঙ্গিরচর, ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: কাসিমুল উলুম আলইসলামিয়া, সালেহপুর আমীনবাজার ঢাকা।
পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।
শাইখুল হাদীস: জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সনমানিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস Ahle Haq Media
