প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / মাজূর ব্যক্তির জন্য হুইল চেয়ারে তাওয়াফ সাঈ এবং অন্য করো মাধ্যমে কঙ্কর নিক্ষেপ ও ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশের হুকুম!

মাজূর ব্যক্তির জন্য হুইল চেয়ারে তাওয়াফ সাঈ এবং অন্য করো মাধ্যমে কঙ্কর নিক্ষেপ ও ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশের হুকুম!

প্রশ্ন

আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

জনাব, আমি তামাত্তু হজ্জের উদ্দেশ্যে আমার আব্বা-আম্মার সাথে বর্তমানে মক্কায় আছি। আম্মা ভারী শরীরের ও ধীরগতির। মক্কায় এসে প্রথম উমরায় তিনি বেশ কষ্ট করে হেঁটে তাওয়াফ ও সায়ী করেন। এতে আম্মার পা ফুলে গিয়েছিল এবং কয়েকদিন অসুস্থ ছিল। আম্মা নানা রকম রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত আর তেমন বেশি হাঁটতে পারেন না। পরে তাকে একটি হুইলচেয়ার কিনে দেয়া হয়েছে। এরপর আরো দুটি উমরার তওয়াফ ও সায়ী তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে আমি করিয়েছি। এখন জানতে চাচ্ছিলাম:

(১) এভাবে হুইলচেয়ার ব্যবহার করে উমরা সঠিক হয়েছে কিনা।

(২) সামনে মূল হজ্জের কাজ বাকি আছে। তখন তওয়াফে যিয়ারত, সায়ী, বিদায়ী তওয়াফ ইত্যাদিতে হুইলচেয়ারের ব্যবহার কি গ্রহণযোগ্য?

(৩) জামরাতে কংকর নিক্ষেপ আম্মার জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে মনে হচ্ছে, কারণ তখন অনেক ভীড় হয় এবং উনি কম হাঁটতে পারেন। আর লোকজনের সামান্য ধাক্কা লাগলেই পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, ব্যালেন্স রাখতে পারেন না, কোথাও বসে পড়লে তোলা মুশকিল হয়ে যায়। এমতাবস্থায় অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে কংকর নিক্ষেপ করতে পারবে কি না? অথবা কোন সহজ উপায় আছে কি?

(৪) আল্লাহ চাইলে, সামনে আমাদের কাফেলা মদীনায় যাবে, সেখানে আট দিন থেকে পরে আবার মক্কায় ফিরবে। পরে মূল হজ্জের কাজ শুরু হবে। এমতাবস্থায় আম্মা যদি মদীনা থেকে আসার সময় উমরার জন্য ইহরাম না বাঁধে, তাহলে কি কোন ছাড় আছে কি না?

আল্লাহ পাক আপনাদের দ্বীনী খিদমত কবুল করুন। আমীন।

নাজমুল কবীর

মক্কা মোকাররমা, সৌদি আরব থেকে।

বাড়ি: ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

১ ও ২ এর উত্তর

উজরের কারণে হুইল চেয়ার ব্যবহার করা যাবে। কোন সমস্যা নেই। তবে হেটে করতে পারলে হুইল চেয়ারে করলে হবে না। দম আবশ্যক হবে।

ولو سعى كله أو اكثره راكبا او محمولا بلا عذر فعليه دم (مناسك لملا على قارى-180)
(وفي رواية قال: طاف النبي صلى الله عليه وسلم) أي سعى (بين الصفا والمروة وهو شاك على راحلة) وهذا بظاهره بيان عذره عليه الصلاة والسلام في عدم مشيه في طوافه وسعيه؛لأنه عدّ من الواجبات عند علمائنا الكرام، لكن أخرج الستة إلا الترمذي، عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع على راحلته يستلم الحجر بمحجنة، لأن يراه الناس وليشرف وليسألوه فإن الناس غشوه، فهذا مانع آخر له عليه الصلاة والسلام من المشي في المشاعر العظام ولا منع من الجمع المعتبر عند الأعلام (شرح مسند ابى حنيفة-1/80)
أو نقول: حمل المطلع على الشكاية ركوبه لعذر المرض، وغير المطلع حمله على ما رأى من رأيه، وهذا عندي هو الجواب، (مرقاة الفاتيح شرح مشكاة المصابيح-5/1786)

(قوله: والمشي فيه إلخ) فلو تركه بلا عذر أعاده وإلا فعليه دم؛ لأن المشي واجب (رد المحتار، كرتاشى-2/468)

 

৩ নং প্রশ্নের উত্তর

মধ্য রাতের পর শেষ রাতের আগ মুহুর্তে ভীর কম থাকে, সেই সময় কঙ্কর নিক্ষেপের চেষ্টা করবে। এতেও সক্ষম না হলে, অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ করে দিতে পারবে। এতে হজ্জ আদায় হয়ে যাবে। সমস্যা নেই।

وتجوز عند العذر فلو رمى عن مريض بأمره، أو مغمى عليه ولو بغير أمره، أو صبى، أو معتوه، أو مجنون جاز، (غنية الناسك، قديم-100، جديد كرتاشى-1/187)

والرجل فى الرمى سواء إلا أن رميها فى الليل أفضل، فلا تجوز النيابة عن المرأة بغير العذر (عنية الناسك-100، جديد كرتاشى-188)

وتجوز الإنابة فى الرمى لمن عجز عن الرمى بنفسه لمرض أو حبس، أو كبر سن، أو حمل المرأة، فيصح للمريض بعلة لا يرجى زوالها قبل انتهاء وقت الرميى، وللمحبوس وكبير السن والحامل، أن يوكل عنه من يرمى عنه الجمرات كلها، ويجوز التوكل عن عدة أشخاص على أن يرمى الوكيل عن نفسه أولا كل جمرة من الجمرات الثلاث (الفقه الإسلامى وأدلته-3/236)

 

৪ নং এর উত্তর

মদীনা থেকে মক্কায় প্রবেশের আগে অবশ্যই ইহরাম বাঁধতে হবে। এক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া কোন সুযোগ নেই।

ইহরাম ছাড়া প্রবেশ করলে দম ওয়াজিব হবে। সেই সাথে একটি উমরা কাযা থেকে যাবে যদি হজ্জের আগে উমরা করার সময় বাকি থাকে।

তাই ইহরাম বেঁধেই মদীনা থেকে মক্কায় প্রবেশ করতে হবে।

ومن دخل دخل مكة او الحرم بلا احرام، عليه أحد النسكين، فلو أحرم به بعد تحول السنة أو قبله من مكة، أو خارجها داخل المواقيت أجزأه، وعليه دم المجاوزة (غنية الناسك، قديم-31، جديد كرتاشى-62)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

প্রধান মুফতী: জামিয়াতুস সুন্নাহ লালবাগ, ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

আরও জানুন

ঈদের খুতবায় ইমাম ও মুসল্লিদের জন্য তাকবীরে তাশরীক পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন জনাব মুফতি সাহেব আমাদের এলাকায় ঈদের খুতবা হয় এমন। ইমাম সাহেব খুতবার শুরুতে মাঝে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস