প্রচ্ছদ / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / ঘর সংসার সম্ভব না হলে যদি স্বামী তালাক দিতে না চায় তাহলে স্ত্রী কিভাবে পৃথক হবে?

ঘর সংসার সম্ভব না হলে যদি স্বামী তালাক দিতে না চায় তাহলে স্ত্রী কিভাবে পৃথক হবে?

প্রশ্ন

প্রশ্নকারীর নাম: সাকিলা

ঠিকানা: বগুড়া সদর

জেলা/শহর: বগুড়া

দেশ: বাংলাদেশ

প্রশ্নের বিষয়: তালাক

বিস্তারিত:
—————-
বিষয় তালাক
আমি সাকিলা। কলেজে পড়ি। দুই বছর আগে এক ছেলেকে ভালো লাগে অবৈধ ভালবাসা ইসলামে হারাম তাই,
পরিবারকে না জানিয়ে দুই সাক্ষীর সম্মুখে এক হুজুর আমাদের বিয়ে পড়ান। কোন কাবিন নামা নাই।
এবং আমি আমার মত লেখা পড়া করতে থাকি বাবার বাড়িতে।
এখন দুই বছর পর আমি আর এই বিয়ের বন্ধনে থাকতে চাচ্ছি না।
কারণ আমার পরিবার রাজি না। আমার স্বামীকেও ভাল লাগেনা তার আচরণের কারণে। এবং আমার স্বামীর পরিবার ও দ্বীনদার না তার বাড়িতে গেলে আমি খাস পর্দা করতে পারবো না।ইসলামের নানা বিধান পালন করা সম্ভব হবে না।

আমি তালাক চেয়েছি কিন্তু তিনি বলেছেন দিবেন না।
আমি টাকা পয়সা দিবো বলেও জানিয়েছি তাতেও রাজি হননি। কোন ভাবেই রাজি না তালাক দিতে।

কিন্তু আমার পক্ষে তার সাথে সংসার করা অসম্ভব।
এখন আমি কি করে তালাক নিতে পারবো?
বাংলাদেশ ইসলামিক রাষ্ট্র না। যে কাজীর কাছে যাবো, যে কাজি বিবাহ বিচ্ছেদের করাবে। এখন বিয়ে বিচ্ছেদ করার উপায় কি?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

এক্ষেত্রে স্থানীয় মুরব্বী যাদের মাঝে শরয়ী মাসায়েল  সম্পর্কে ওয়াকিফহাল উলামাগণও শামিল এমন ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করবেন। স্বামীকে ডেকে তার বিবরণ শুনে এবং আপনার স্ট্যাটমেন নিয়ে যদি দেখা যায় যে, এ বিয়ে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তাহলে স্বামীকে তালাক দিয়ে দিতে বলবে। যদি স্বামী তালাক দিতে না চায়, কিংবা খোলা করতেও না চায়, তাহলে পঞ্চায়েত ফসকে নিকাহ তথা বিবাহ বন্ধন শেষ মর্মে নির্দেশ প্রদান করবে।

এর মাধ্যমে আপনাদের বিবাহ ছিন্ন হয়ে যাবে।

পরবর্তীতে ইদ্দত শেষে আপনি অন্যত্র বিয়ে করতে পারবেন।

এছাড়া কোন পথ নেই।

 

قالَ اللَّهُ تَعالیٰ: ﴿وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا﴾ (النساء: 35)

قال اللّٰه تعالیٰ: ﴿فَاِنْ خِفْتُمْ اَنْ لاَّ یُقِیْمَا حُدُوْدَ اللّهِ فَلاَ جُنَاحَ عَلَیْهِمَا فِیْمَا افْتَدَتْ بِهٖ﴾ [البقرۃ: ۲۲۹].

عن ابن عمر ، عن النبي ﷺ قال: أبغض الحلال إلى الله تعالى الطلاق. (سنن أبي داود: الطَّلَاقُ/ بَابٌ فِي كَرَاهِيةِ الطَّلَاقِ، الرقم: 2178).

وإن تشاق الزوجان وخافا أن لا یقیما حدود اللّٰه فلا بأس بأن تفتدي نفسها منه بمال یخلعها؛ فإن فعل ذٰلک وقع بالخلع تطلیقة بائنة ولزمها المال. (الهدایة: 2/ 403).

(وإلا بانت بالتفريق) من القاضي إن أبى طلاقها (بطلبها) (الدر المختار).

 (قوله: من القاضي إن أبى طلاقها) أي إن أبى الزوج لأنه وجب عليه التسريح بالإحسان حين عجز عن الإمساك بالمعروف، فإذا امتنع كان ظالما فناب عنه وأضيف فعله إليه. (رد المحتار: 3/ 498).

ولها المهر کاملاً، وعلیها العدۃ بالإجماع، إن کان الزوج خلا بها. (الفتاویٰ الهندیة: 1/ 524)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

আরও জানুন

ইতিকাফের কাযা করার সময় কি রোযা রাখা শর্ত?

প্রশ্ন প্রশ্নকারীর নাম: লুৎফর রহমান ঠিকানা: খৈশাইর জেলা/শহর: নারায়ণগঞ্জ দেশ: বাংলাদেশ প্রশ্নের বিষয়: ইতিকাফ বিষয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস