প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / ‘আল্লাহর উপর ভরসা হারিয়ে ফেলছি’ বলার দ্বারা কি ঈমান বাকি থাকে?

‘আল্লাহর উপর ভরসা হারিয়ে ফেলছি’ বলার দ্বারা কি ঈমান বাকি থাকে?

প্রশ্ন

আমি কয়েক বছর ধরে একটা বিষয় নিয়ে দোয়া করে আসছি কিন্তু কোনো ফলাফল পাচ্ছি না। আমি বুঝতেছি। আল্লাহ হয়তো উত্তম কিছু দিবে। ধৈর্য ধরা উচিত কিন্তু কেনো যে এরকম করলাম আমি জানি না । আমি পারিবারিক কিছু ব্যাপারে খুবই হতাশ হয়ে পড়ি। তারপর সবার সাথে ঝগড়া করি। এক পর্যায়ে নামাজ পড়া বদ্ধ করে দিই। প্রায় ৪/৫ দিন। কেউ নামাজ পড়তে বললে বলতাম আমি আল্লাহর প্রতি ভরসা হারায় ফেলছি। আমার স্ত্রীকে বলতাম দেখো আমি গরীব, আমার সাথে তুমি সুখি হতে পারবেনা।  তুমি চলে যেতে পারো দরজা খোলা।  এগুলো বলতাম রাগ থেকে, কষ্ট থেকে, আবেগ থেকে। সিরিয়াসলি বলিনি।

৪/৫ দিন পর আমি উপলব্ধি হলো আমি ভুল করতেছি।  আমি তওবা করলাম। আবার ফিরে আসলাম। এখন আবার দোয়া করতেছি ক্ষমা চাচ্ছি।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ৪/৫ দিনের এসব ঘটনার জন্য কি আমার বিবাহ বাতিল হয়ে গেছে।  আমার স্ত্রী কি হারাম হয়ে গেছে।  আমি কি স্ত্রীকে পাবোনা?

উনি (আমার স্ত্রী) অনেক ভালো মানুষ।  আমি তাকে অনেক ভালোবাসি। আমি খুব হতাশায় আছি। আমি কি করবো বুজতেছি না।

একজন এলাকার হুজুর বললো। আাশা করি সমস্যা হবোনা কারণ এক তালাক হিসাবে ধরা হবে আর আপনি ফিরে আসছেন সময়ের মাজে। বলল তারপরও বড় হুজুরদের থেকে মতামত দরকার।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

তওবা করার সাথে সাথে নতুন করে ঈমান আনা এবং বিবাহ দোহরিয়ে নেয়া জরুরী। দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম সাক্ষীর সামনে স্বামী স্ত্রী ইজাব এবং কবুল করে নিলেই হবে।

ভবিষ্যতে এমন কুফরী কথা বলা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

إذَا طَالَتْ الْمُشَاجَرَةُ بَيْنَ الزَّوْجَيْنِ فَقَالَ الرَّجُلُ: لِامْرَأَتِهِ خَافِي اللَّهَ تَعَالَى وَاتَّقِيهِ فَقَالَتْ الْمَرْأَةُ مُجِيبَةً لَهُ: لَا أَخَافُهُ قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ إنْ كَانَ الزَّوْجُ عَاتَبَهَا عَلَى الْمَعْصِيَةِ الظَّاهِرَةِ وَيُخَوِّفُهَا مِنْ اللَّهِ تَعَالَى فَأَجَابَتْهُ بِهَذَا تَصِيرُ مُرْتَدَّةً وَتَبِينُ مِنْ زَوْجِهَا، (الفتاوى الهندية-2/261، جديد-2/275)

من باتو بحكم خدا كار ميكنم، فقال خصمه من حكم خدا را ندانم، أو قال اينجا حكم نرود، او قال: اينجا حكم نيست، او قال: خدائے حاکمی را نشاید…… فهذا كله كفر (الفتاوى الهندية-2/258، جديد-2/271)

وما يكون كفرا اتفاقا يبطل العمل والنكاح وأولاده أولاد زنا، وما فيه خلاف يؤمر بالاستغفار والتوبة وتجديد النكاح (الدر المختار، زكريا-6/390، كرتاشى-4/247)

ثم ان كانت نية القائل الوجه الذى يمنع التكفير فهو مسلم، وإن كانت نية الوجه الذى يوجب التكفير لا ينفعه فتوى المفتى ويؤمر بالتوبة والرجوع عن ذلك وبتجديد النكاح بينه وبين امرأته (المحيط البرهانى-7/397، رقم-9177، الفتاوى التاتارخانية-7/281، رقم-10487)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

আরও জানুন

কুরবানীর জন্য মান্নত করা পশুতে কাউকে শরীক নিতে পারবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম হযরত.. একটি প্রশ্ন জানার ছিলো প্রশ্নটি হলো এক ব্যক্তির একটি গরু ছিলো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস