প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / ইউরোপে মুসলিমদের জন্য অমুসলিমদের কাছে মদ ও শুকরের মাংশ বিক্রির হুকুম কী?

ইউরোপে মুসলিমদের জন্য অমুসলিমদের কাছে মদ ও শুকরের মাংশ বিক্রির হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: Ahmed
বিষয়ঃ selling alcohol

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

আমি ইউরোপে থাকি। এখানে আমার একটা মুদির দোকান আছে। অন্যান্য মালামালের সাথে আমি কিছু এ্যালকোহলও বিক্রি করে থাকি। কিছু মাল এমনো আছে যেগুলো শুকরের মাংশ দিয়ে তৈরী।

যেমন, ফ্রোজান পিজা আছে। তার ভিতর একটু একটু শুকরের মাংশ টুকরা আছে। কিছু সস আছে।

আমার সব কাস্টোমার খৃষ্টান। আমি জানি যে, এ্যালকোহল বিক্রি করা হারাম। সেই জন্য সব সময় একা ভয় কাজ করে। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ি। সব সময় আল্লাহর কাছে দুআ করি যেন হারাম ছেড়ে হালাল কামাই করতে পারি।

আমার একজন পার্টনার আছে। আমি তাকে সবসময় প্রেশার দিচ্ছি। বলছি, যেগুলো হারাম মাল, আমরা তা বাদ দিয়ে দেই। হালালভাবে বিজনেস করি।

সেও মানতেছে যে, এটা হারাম। হ্যাঁ, আমরা ছেড়ে দিবো। কিন্তু ইউরোপের এ মুদি দোকানগুলো এ্যালকোহল নির্ভর হওয়ায় এ্যালকোহল ছাড়ার পর বিজনেস লোকশান হয়ে যাবে অনেক। হয়তোবা বিজনেস বন্ধ করে দিতে হবে। তখন হয়তো মূলধনও হারাবো। তাই সে গড়িমসি করছে। বলছে যে, আর কিছুদিন পর ছেড়ে দিবো।

তাই আমি চাচ্ছি দোকান বিক্রি করে দিবো।

আমি যদি অন্য কোন লোকের কাছে বিক্রি করে দেই। আর সেই লোক যদি এ্যালকোহল বিক্রি করে তাহলে কি আমার গোনাহ হবে?

যেহেতু এই দোকান প্রথমে আমিই ওপেন করেছি। অবশ্য আমি তাকে বলবো যে, ভাই আমি এ্যালকোহল বিক্রি করতে চাই না বলেই দোকান ছেড়ে দিচ্ছি। এখন আপনি যদি এ্যালকোহল বিক্রি করেন, সেটা আপনার ব্যাপার। পরে আমাকে দোষ দিতে পারবেন না।

আরেকটা প্রশ্ন হলো:

আমি যদি এ্যালকোহল অল্প বিক্রি করি, কিন্তু সেই লাভের টাকাটা আলাদা করে কোথাও দান করে দেই, তাহলে কি গোনাহ হবে?

খুব তাড়াতাড়ি উত্তর দিলে খুশি হবো।

আমার জন্য দুআ করবেন দয়া করে। যেন আল্লাহ তাআলা আমাকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রথমেই আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি উত্তর দিতে ছয় বছর দেরী হওয়ায়। আল্লাহ তাআলা আপনাকে হালাল রুজির তৌফিক দান করুন। রব্বে কারীমের প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন।

আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো:

আপনি দোকান ছেড়ে দেবার পর অন্য কেউ এ্যালকোহলসহ হারাম পণ্য বিক্রি করলে এর গোনাহ আপনার উপর বর্তাবে না।

আর এ্যালকোহল কম বা বেশি কোনটাই বিক্রি করা জায়েজ নয়। তাই তা বিক্রি করে দান করে দেবার দ্বারা গোনাহমুক্ত হওয়া যাবে না। তাই বিক্রিই বন্ধ করে দিতে হবে।


وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। [সূরা মায়েদা-২]

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْخَمْرِ عَشَرَةً عَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَشَارِبَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ وَسَاقِيَهَا وَبَائِعَهَا وَآكِلَ ثَمَنِهَا وَالْمُشْتَرِيَ لَهَا وَالْمُشْتَرَاةَ لَهُ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, শারাবের সাথে সম্পৃক্ত দশ শ্রেণীর লোককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। এরা হলঃ মদ তৈরিকারী, মদের ফরমায়েশকারী, মদ পানকারী, মদ বহনকারী, যার জন্য মদ বহন করা হয়, মদ পরিবেশনকারী, মদ বিক্রয়কারী, এর মূল্য ভোগকারী, মদ ক্রেতা এবং যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়। [সুনানে তিরমিজী,  হাদীস নং-১২৯৫]

عَنْ ‌عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ السَّبَئِيِّ (مِنْ أَهْلِ مِصْرَ) « أَنَّهُ سَأَلَ ‌عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ عَمَّا يُعْصَرُ مِنَ الْعِنَبِ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّ رَجُلًا أَهْدَى لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاوِيَةَ خَمْرٍ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هَلْ عَلِمْتَ أَنَّ اللهَ قَدْ حَرَّمَهَا؟ قَالَ: لَا. فَسَارَّ إِنْسَانًا، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بِمَ سَارَرْتَهُ؟ فَقَالَ: أَمَرْتُهُ بِبَيْعِهَا، فَقَالَ: إِنَّ الَّذِي ‌حَرَّمَ ‌شُرْبَهَا ‌حَرَّمَ ‌بَيْعَهَا. قَالَ: فَفَتَحَ الْمَزَادَةَ حَتَّى ذَهَبَ مَا فِيهَا (صحيح مسلم، رقم-1579)

আবদুর রহমান ইবনু ওয়ালাতা আস সাবাঈ (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট আঙ্গুরের রস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক মশক শরাব হাদিয়া স্বরূপ নিয়ে আসে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি জাননা যে, আল্লাহ তা হারাম করে দিয়েছেন? সে বলল, না। অতঃপর সে এক ব্যক্তির সাথে কানাকানি করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি তাকে গোপনে কী বললে? সে বলল, আমি তাকে তা বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছি। এরপর তিনি বললেন, যিনি তা পান করা হারাম করেছেন। তিনি তার বিক্রিও হারাম করে দিয়েছেন। রাবী বলেন, এরপর সে মশকের মুখ খুলে দিল এবং তার মধ্যে যা কিছু ছিল সব পড়ে গেল। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৫৭৯, ইফাবা-৩৮৯৯]

ولا يجوز بيعها لحديث مسلم الذى حرم شربها حرم بيعها (رد المحتار، زكريا-10/29، كرتاشى-6/449)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

ঈদের খুতবায় ইমাম ও মুসল্লিদের জন্য তাকবীরে তাশরীক পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন জনাব মুফতি সাহেব আমাদের এলাকায় ঈদের খুতবা হয় এমন। ইমাম সাহেব খুতবার শুরুতে মাঝে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস