প্রচ্ছদ / দিফায়ে আকাবির / ফরজ নামায পাঁচ ওয়াক্ত নাকি তিন ওয়াক্ত?

ফরজ নামায পাঁচ ওয়াক্ত নাকি তিন ওয়াক্ত?

প্রশ্ন

From: Towhid Hasan
বিষয়ঃ Foroz namaz

প্রশ্নঃ
One person of our moholla spending that three times namaz is foroz. Others is nofol. His dolil is,  in al quraan Allah tell three times namaz. He tell that quraan is code of life. So, follow quraan only. He is not relay in hadis.  He told that olama tell him about this. We heard that some group of olama in khulna spread this.  Please guide us.

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

কুরআনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের কথাই আসছে। শুধু তিন ওয়াক্তের কথা নয়।

فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ (17) وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ (18)

অনুবাদ- সুতরাং তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা কর সন্ধ্যায় [মাগরিব ও ইশার নামায দ্বারা] ও প্রভাতে [ফজর নামায দ্বারা] এবং অপরাহ্নে [আসরের নামাযের দ্বারা] ও যোহরের [যোহরের নামায দ্বারা] সময়। আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে সকল প্রশংসা তো তাঁরই। {সূরা রূম-১৭-১৮}

সূরা রূমের উক্ত আয়াতে একই সাথে ৫ ওয়াক্ত নামাযের সময় আল্লাহর পবিত্র ও মহিমা প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর পবিত্রতা ও মহিমা প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম যে নামায একথা সর্বজন স্বীকৃত বিষয়। {তাফসীরে রূহুল মাআনী-৮/২৯, মাআরিফুল কুরআন-৬ খন্ড, ২১ পারা, পৃষ্ঠা- ৪০)

যদি পাঁচ ওয়াক্তের কথা কুরআনে নাও থাকে, তবু কুরআন অনুপাতেই ফরজ নামায পাঁচ ওয়াক্ত প্রমাণিত হয়।

কারণ, কুরআন বলছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু করতে বলেন, তা করার জন্য, আর যা কিছু করতে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকতে। সেই সাথে তার দ্ব্যার্থহীন ও নিরঙ্কুস আনুগত্য করতে। কারণ, নবীজী তা’ই বলেন, যা কিছু আল্লাহ তাআলা করতে বলেছেন।

সুতরাং নবীজী নির্দেশানা মানেই সেটি, আল্লাহর নির্দেশনা।

তাই কেউ আল্লাহর নির্দেশনা মানলে যেমন মুসলিম নয় বরং কাফের। তেমনি নবীজীর নির্দেশনা না মানলেও উক্ত ব্যক্তি মুসলিম নয়, বরং কাফের।

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4

তিনি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলেন না, তবে তিনি তা’ই বলেন, যা তাকে আল্লাহ তাআলার জন্য প্রত্যাদেশ দিয়েছেন। {সূরা নাজম-৩-৪}

এ আয়াত পরিস্কার জানাচ্ছে যে, কুরআনও আল্লাহর বাণী এবং রাসূল সাঃ এর হাদীস ও আল্লাহর বাণী।

রাসূল সাঃ এর আদেশ নিষেধ অমান্য করে বা অস্বিকার করে কেউ মুসলিম থাকতে পারে না। আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন-

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ 

রাসূল সাঃ যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়ে ধর, এবং যা থেকে বারণ করেন তা ছেড়ে দাও। আর আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা প্রচন্ড শাস্তিদাতা। {সূরা হাশর-৭}

قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ 

আপনি বলুন! যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসতে চাও, তাহলে আমাকে [মুহাম্মদ সাঃ] অনুসরণ কর। তাহলেই আল্লাহ তাআলা তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু। {সূরা আলে ইমরান-৩১}

সুতরাং কুরআনের নির্দেশনা মতেই নবীজীর হাদীসের বিধান মান্য করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

আর হাদীসের মাঝে পরিস্কারভাবেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযকে ফরজ করা হয়েছে।

طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ وَلاَ يُفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الإِسْلاَمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهُنَّ قَالَ ‏”‏ لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ ‏

তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, একদা নজদের জনৈক অধিবাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এমতাবস্থায় আগমন করে যে, তার মাথার চুল ছিল উষ্কখুষ্ক, তার মুখে বিড়বিড় শব্দ শোনা যাচ্ছিল এবং তার কথাগুলি ছিল অস্পট। এমতাবস্থায় সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটবর্তী হয়ে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। জবাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ দিবা রাত্রির মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ফরয। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, তা ছাড়া তাঁর কিছু করণীয় আছে কি? জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না, যদি তুমি অতিরিক্ত (নফল) কিছু আদায় কর। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৯১]

যারা কুরআনের কিছু আয়াতের উপর আমল করে, আর কিছু আয়াতকে অগ্রাহ্য করে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন,

أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ (85)

তোমরা কি কুরআনের কিছু অংশের উপর ঈমান আন এবং কিছু অংশকে অস্বিকার করছো? তোমাদের মাঝে যারা এরূপ করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা, এবং আখেরাতে তাদের নিক্ষিপ্ত করা হবে ভয়াবহ শাস্তিতে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের কর্মকান্ড বিষয়ে অনবহিত নন। {সূরা বাকারা-৮৫}

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

গাইরুল্লাহকে সেজদা করা ও ফাতিমা রাঃ এর মূর্তি বানিয়ে সেজদা দেয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন আস্সালামুআলাইকুম হযরত। কেমন আছেন? দ্বীনের বিভিন্ন সমস্যায় সর্বদাই আপনার পরিচালিত ওয়েবসাইট হতে সাহায্য নেই। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস