প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / পরকিয়ায় লিপ্ত স্ত্রীকে বাড়িতে রাখা কি জায়েজ?

পরকিয়ায় লিপ্ত স্ত্রীকে বাড়িতে রাখা কি জায়েজ?

প্রশ্ন

পটিয়া চট্টগ্রাম হইতে।

বিষয়ঃ যে স্বামী নিজের বউয়ের পরকীয়ার সম্বন্ধে যেনে ও বিচার করতে পারে না সেই  স্বামী চরিত্রহীন স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করে সেইটা কি শরীয়বত অনুযায়ী বৈধ হবে?

 

আমি বেসরকারী একটা কম্পোজিট টেক্সটাইলে চাকুরী করি। আমার নিজের বড় ভাই সৌদি আরব মদিনা শরীফে থাকেন। উনি  কয়েকবার হজ্জ্ব পালন  করেছেন। আমার ভাইয়ের বউ অর্র্থাৎ আমার ভাবী, সে বিয়ের পরের দিন থেকে জানতে পারলাম যে, সে চরিত্রহীন লম্পট মহিলা। আমার ভাই বিয়ে করার কয়েকমাস পর সৌদি আরব কর্মস্থলে চলে যান। আমার ভাই যাওয়ার পরের দিন থেকে আমাদের পরিবারে অশান্তি নেমে আসে। সে আমার এক নিকট আত্মীয়র সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। প্রথম আমার বড়বোন ও ছোট বোনদের সাথে কথা বলে তাহাকে সতর্ক করি এবং তার পরকীয়ার খবর টা গোপন রাখি। সে একদিন আমার হাতে ধরা পড়ে। ধরা পরার পর সে আমার পা ধরে ক্ষমা চাই আর সে পরকিয়া করবেনা। কিন্তু সে কিছুদিন পর এমন ভাবে শুরু করছে আমি  আমার বড়ভাইকে খবরটা জানাই। কিন্তু সে আমার বড় ভাইকে কোরআন শরীফ নিয়ে শপথ করে বলে সে এই কাজ করেনি। আমরা তার বউয়ের জন্য বদনাম করতেছি।  আমার প্রশ্ন এই অবস্থায় কি আমরা তাকে ঘরে রাখতে পারব? আর যদি ও রাখতে হয় কিভাবে রাখলে শরীয়ত অনুযায়ী রাখা যাবে উত্তর জানালে খুবই উপকৃত হবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

পটিয়া, চট্টগ্রাম।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

স্ত্রী পরকিয়া করার দ্বারা মারাত্মক গোনাহগার হলেও এতে করে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় না। তাই বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকে।

এক্ষেত্রে যেহেতু স্বামী বিশ্বাস করে না যে তার স্ত্রী পরকিয়ায় লিপ্ত তাহলে এতে করে আপনাদের কোন দায়িত্ব নেই। পরকিয়ার কথা জানার পর স্বামীর অধিকার থাকে, তাকে রাখা বা তালাক দিয়ে দেয়া।

যদি আপনাদের এখানে থেকে খারাপ কাজ চালিয়ে যায়, এতে করে আপনাদের মান সম্মান নষ্ট হয়, তাহলে তাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও এক বাড়িতে থাকায় শরয়ী কোন বিধিনিষেধ নেই।

তবে তাকে তার ঘৃণ্য গোনাহ না করা এবং খাঁটি দিলে তওবা করার আন্তরিক আহবান ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنَّ امْرَأَتِي لَا تَمْنَعُ يَدَ لَامِسٍ قَالَ: «غَرِّبْهَا» قَالَ: أَخَافُ أَنْ تَتْبَعَهَا نَفْسِي، قَالَ: «فَاسْتَمْتِعْ بِهَا»

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে অভিযোগ করলো, আমার স্ত্রী কোনো স্পর্শকারীর হাতকে নিষেধ করে না। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ত্যাগ করো। সে বললো, আমার আশংকা আমার মন তার পিছনে ছুটবে। তিনি বললেনঃ (যেহেতু ব্যভিচারের প্রমাণ নেই) তাহলে তুমি তার থেকে ফায়দা হাসিল করো। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২০৪৯, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৩২২৯]

لا يجب على الزوج تطلق الفاجرة، ولا عليها تسريح الفاجر إلا إذا خان أن لا يقيما حدود الله، فلا بأس أن يتفرقا (الدر المختار مع الشامى-4\144

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

গাইরুল্লাহকে সেজদা করা ও ফাতিমা রাঃ এর মূর্তি বানিয়ে সেজদা দেয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন আস্সালামুআলাইকুম হযরত। কেমন আছেন? দ্বীনের বিভিন্ন সমস্যায় সর্বদাই আপনার পরিচালিত ওয়েবসাইট হতে সাহায্য নেই। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস