প্রচ্ছদ / চিকিৎসা/তদবীর / জীন দিয়ে চিকিৎসা করার হুকুম কী?

জীন দিয়ে চিকিৎসা করার হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: MD Zeshan Ahmed
বিষয়ঃ Jadu tona

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

আপনাদের ওয়েব সাইটের দ্বারা খুব উপকৃত হচ্ছি।

আমার প্রশ্ন হল, আমাদের বাড়িতে নতুন একজন মহিলা ভাড়া আসছে। উনার আমল অতোটা ভালো না। ৫ ওয়াক্ত নামায প্রতিদিন পড়েন না। পর্দাও করেন না। নিজের মায়ের সাথেও অতোটা ভালো ব্যবহার করেন না।

উনি আবার জীন আনতে পারেন। তো উনি জীন এনে মানুষের বিভিন্ন কাজ সমাধান করেন। এর মধ্যে রয়েছে, যাতে মানুষের পাওনাদার তাকে জ্বালাতন না করে, যাতে সে তার পাওনা টাকা পায়। যাতে বাচ্চাদের বদ নজর দূর হয়। এরকম আরো অনেক কিছু। সে জীন এনে এসব কাজ করে এবং তার বিনিময়ে ২০/৪০/৫০০/১০০০ টাকা নেয়।

এখন আমার প্রশ্ন হল, এই মহিলার কাছে তাবীজের জন্য যাওয়া কি হারাম? নাকি নাজায়েজ?

হারাম ও নাজায়েজ এর মধ্যে কী পার্থক্য?

আর যে ব্যক্তি এই মহিলার কাছে যাবে তার হুকুম কী?

আমি আমার মাকে এই বিষয়ে অনেক কিছু বলছি। তাও তাকে এই জীনওয়ালা মহিলা থেকে দূরে সড়াতে পারিনি।

এখন আমার নিজেরও ভয় যে, এই জীন আমাকে ক্ষতি করে নাকি?

এখন আমার কী করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

যদি উক্ত মহিলা জীনের মাধ্যমে হারাম পদ্ধতিতে তাবীজ কবচ করে থাকে, কিংবা হারাম পদ্ধতিতে ঝাড়ফুঁক করে থাকে, তাহলে উক্ত মহিলার কাছ থেকে তাবীজ নেয়া বা ঝাড়ফুঁক করা জায়েজ নয়।

আর যদি হারাম শব্দে তাবীজ কবচ না করে, বরং কুরআনের আয়াত বা হাদীসের দুআ কিংবা জায়েজ শব্দে তাবীজ বা ঝাড়ফুঁক করে থাকে, তাহলে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাবীজ গ্রহণ জায়েজ আছে।

যেহেতু উক্ত মহিলা দ্বীনদার নয়। তাই তার আচরণ সন্দেহযুক্ত। তাই তার থেকে তাবীজ কবচ ও ঝাড়ফুঁক থেকে বিরত থাকাই উচিত।

প্রতিটি হারাম জিনিসই নাজায়েজ। আর প্রতিটি নাজায়েজ জিনিস হারাম হওয়া আবশ্যক নয়, বরং মাকরূহে তাহরীমীও হতে পারে।

عن عوف بن مالك الأشجعى رضى الله عنه قال: كنا نرقى الجاهلية، فقلنا: يا رسول الله: كيف ترى فى ذلك؟ فقال: أعرضوا على رقاكم، لا بأس بالرقى ما لم يكن فيه شرك (صحيح مسلم، كتاب السلام، باب لا بأس بالرقى مالم يكن فيه شرك، رقم-2200)

قالوا: إنما تكره العوذة إذا كانت لغير لسان العرب، ولا يدرى ما هو، لعله يدخله سحرا أو كفر أو  غير ذلك، وأما ما كان القرآن أو شيء من الدعوات فلا بأس به (رد المحتار، كتاب الحظر والإباحة-9/523)

إن الرقى يكره منها ما كان بغير اللسان العربى، وبغير أسماء الله تعالى وصفاته وكلامه فى كتبه المنزلة “لا بأس بالرقى مالم يكن فيه شرك” أى كفر (مرقاة المفاتيح، كتاب الطب والرقى، الفصل الأول-8/303-304، رقم-4528-4530)

أجمع العلماء على جواز الرقية عند اجتماع ثلاثة شروط: أن يكون بكلام الله تعالى وبأسمائه وبصفاته، وباللسان العربى أو بما يعرف معناه من غيره، وأن يعتقد أن الرقية لا تؤثر بذاتها، بل بذات الله تعالى (فتح البارى، كتاب الطب، دار الفكر-10/195)

ويلحق به ما كان بالذكر والدعاء الماثور، وكذا غير المأثور مما لا يخالف ما فى الماثور (فتح البارى-4/457، رد المحتار-9/523)

عن عائشة رضى الله عنها قالت: ليس التميمة ما تعلق به بعد البلاء، إنما التميمة ما تعلق به قبل البلاء (رواه الحاكم-4/418، وقال صحيح الإسناد)

وكان عبد الله بن عمرو رضى الله عنه يعلمهن من عقل من بنيه، ومن لم يعقل كتبه فأعلقه عليه (سنن أبى داود، كتاب الطب، باب كيف الرقى-2/543)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

স্বপ্নদোষের কথা মনে না থাকা অবস্থায় কাপড়ে বীর্য দেখা ও সূর্যোদয়ের পর সুন্নাত পড়া প্রসঙ্গে

প্রশ্ন From: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিষয়ঃ নামায প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম মুফতি সাহেব । যদি প্রশ্নটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস