প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / বাবা মায়ের জীবদ্দশায় সম্পদ বন্টন করে দিলে কিভাবে বন্টন করা উচিত?

বাবা মায়ের জীবদ্দশায় সম্পদ বন্টন করে দিলে কিভাবে বন্টন করা উচিত?

প্রশ্ন

From: শফীক রহমান
বিষয়ঃ জীবিত অবস্থায় সন্তানদেরকে সম্পত্তি দেওয়া প্রসঙ্গে

প্রশ্নঃ
জবাবটি যত সম্ভব দয়া করে,দ্রুত প্রদান করলে ভালো হয় প্রমাণসহ!
১। বাবা বেঁচে থেকে সম্পদ লিখে দিলে ছেলে কত টুকু আর মেয়ে কত টুকু করে পাবে?
২। ছেলেকে বেশি লিখে দিয়ে মেয়ের জন্য অতি অল্প রাখে যদি,এখন ছেলে বলে, যা আমার নামে লেখা হয়েছে তা হয়েছেই,আমি একটুও ফিরিয়ে দেবো না। এমতাবস্থায় বাবার কি করণীয়?
৩। আর মায়ের সম্পদ থেকে ছেলে ও মেয়ে কত টুকু করে পাবে? মা ও জীবিত। বাবা ও জীবিত! দলিল সহ জানালে বেশ উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ!

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

ত্যাজ্য সম্পদ বা মীরাছের সম্পর্ক মৃত্যুর পরের সাথে। অর্থাৎ ব্যক্তি মারা যাবার পর তার সম্পদে মীরাছ জারী হয়।

জীবিত থাকা অবস্থায় মীরাছের শরয়ী বিধান জারী হয় না।

জীবিত অবস্থায় ব্যক্তির মালিকানা ও উপার্জিত সম্পদের মালিক এককভাবে সে নিজেই হয়। সে তার নিজের সম্পদে যথেচ্ছা হস্তক্ষেপ, প্রদান, খরচ ও উপহার দিতে পারে।

এক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ নেই।

দ্বিতীয়ত ছেলে মেয়ে পিতা মাতার মৃত্যুর পর তাদের ত্যাজ্য সম্পদ থেকে এক ছেলে দুই মেয়ের সমতুল্য হারে সম্পদ পায়।

এক্ষেত্রে মা ও বাবা ত্যাজ্য সম্পদ সমান। তথা যেমন বাবার ত্যাজ্যসম্পদ থেকে ছেলে দুইভাগ এবং মেয়ে একভাগ, তেমনি মায়ের সম্পদ থেকেও ছেলে দুইভাগ এবং মেয়ে একভাবে পায়।

এ দু’টি মৌলিক মাসআলা বুঝলে আপনার প্রশ্নকৃত বিষয়টির উত্তর বুঝা আশা করি সহজ হয়ে গেছে।

যেহেতু ব্যক্তির জীবিত অবস্থায় তার মালিকানা সম্পদের পূর্ণ অধিকার তার। তাই তার যাকে ইচ্ছে বেশি, যাকে ইচ্ছে কম দিতে পারে। নিজের ছেলে মেয়েকেও দিতে পারে, অন্য কাউকেও দিতে পারে।

এক্ষেত্রে কারো কিছু বলার আইনগত অধিকার নেই।

সুতরাং ছেলে মেয়েকে জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পদ বন্টন করে কাকে কতটুকু দিবে এটা পিতা ও মাতার একান্ত ইচ্ছেধীন।

তবে জীবিত অবস্থায় বন্টন করলে ছেলে মেয়ে সকল সন্তানকে সমান দেয়াই উত্তম। তবে যৌক্তিক কারণে কমবেশি করা জায়েজ আছে।

আর কাউকে সম্পদ লিখে দেবার পর সে উক্ত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য নয়। তাই বাবা লিখে দেবার পর আইনগতভাবে তা ফিরিয়ে নেবার অধিকার রাখে না।

সর্বোচ্চ বুঝিয়ে ফিরাতে পারে। কিন্তু আইনগতভাবে সেই অধিকার বাতিল হয়ে যায়।

তবে জীবদ্দশায় সম্পদ বন্টনকালে কাউকে ঠকানো জায়েজ নয়। যদিও তা আইনগত কার্যকর হয়ে যাবে। কিন্তু ঠকানোর উদ্দেশ্যে কমবেশি বন্টন করায় গোনাহগার হবে। কিন্তু দ্বীনদার ও বদকার হিসেবে কাউকে কমবেশি করে দিলে কোন প্রকার গোনাহ হবে না। সর্ববস্থায় বন্টনটি কার্যকর হয়ে যাবে।

আশা করি তিনটি প্রশ্নের উত্তরই পেয়েছেন।

নূসূরে শারইয়্যাহ


وصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ [٤:١١]

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু’জন নারীর অংশের সমান। কিন্তু কেবল কন্যা যদি দুয়ের অধিক হয়, তাহলে তাদের জন্য পরিত্যাক্ত সম্পত্তির দুই তৃতিয়াংশ, আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধাংশ নির্ধারিত। {সূরা নিসা-১১}

 وفى الردالمحتار- لو وهب رجل شيأ لأولاده فى الصحة واراد بفضيل البعض على البعضز………….عن ابى حنيفة لابأس به اذا كان التفضيل لزيادة فضل له فى الدين وان كان سواء يكره (ردالمحتار ١٢/٦٠٨


وفى الهندية- ولو وهب رجل شيئا لأولاده في الصحة وأراد تفضيل البعض على البعض في ذلك لا رواية لهذا في الأصل عن أصحابنا، وروي عن أبي حنيفة – رحمه الله تعالى – أنه لا بأس به إذا كان التفضيل لزيادة فضل له في الدين، وإن كانا سواء يكره وروى المعلى عن أبي يوسف – رحمه الله تعالى – أنه لا بأس به إذا لم يقصد به الإضرار، وإن قصد به الإضرار سوى بينهم يعطي الابنة مثل ما يعطي للابن وعليه الفتوى هكذا في فتاوى قاضي خان وهو المختار، – (الفتاوى الهندية، كتاب الهبة، الباب السادس في الهبة للصغير ٤/٣۹۱، رد المحتار-12/608

 

فى البيضاوى- والمالك هو المتصرف فى الأعيان  المملوكة كيف شاء الخ (تفسير بيضاوى، سورة الفاتحة- 1/7)

বস্তুর মালিক বস্তুতে যেভাবে ইচ্ছে হস্তক্ষেপ করেতে পারে। {তাফসীরে বায়যাবী-১/৭}

وفي البزازية – ولو وهب جميع ماله من إبنه جاز وهو اثم نص عليه محمد ‘ و لو خص بعض أولاده لزيادة رشده لابأس به  (فتاوى البزازية  مع الهندية كتاب الهبة‘ الجنس الثالث في هبة الغير‘ 6/237 مكتبة زكريا )ٍ

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ فَرَّ مِنْ مِيرَاثِ وَارِثِهِ، قَطَعَ اللَّهُ مِيرَاثَهُ مِنَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

অর্থ- হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ওয়ারিসকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের মিরাস থেকে বঞ্চিত করবেন। {ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ২৭০৩, সুনানে সাঈদ বিন মানসূর, হাদীস নং-২৮৫}

عَنْ عَامِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، وَهُوَ عَلَى المِنْبَرِ يَقُولُ: أَعْطَانِي أَبِي عَطِيَّةً، فَقَالَتْ عَمْرَةُ بِنْتُ رَوَاحَةَ: لاَ أَرْضَى حَتَّى تُشْهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنِّي أَعْطَيْتُ ابْنِي مِنْ عَمْرَةَ بِنْتِ رَوَاحَةَ عَطِيَّةً، فَأَمَرَتْنِي أَنْ أُشْهِدَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «أَعْطَيْتَ سَائِرَ وَلَدِكَ مِثْلَ هَذَا؟»، قَالَ: لاَ، قَالَ: «فَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلاَدِكُمْ»، قَالَ: فَرَجَعَ فَرَدَّ عَطِيَّتَهُ

আমির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ)-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি যে, আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন। তখন (আমার মাতা) আমরা বিনতে রাওয়াহা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সাক্ষী রাখা ব্যতীত সম্মত নই। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি। হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে সাক্ষী রাখার জন্য সে আমাকে বলেছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি এ রকম করেছ? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে আল্লাহকে ভয় কর এবং আপন সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা কর। [নু‘মান (রাঃ)] বলেন, অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং তার দান ফিরিয়ে নিলেন। [সহীহ বুখারী-১/৩৫২, হাদীস নং-২৫৮৭, ই’লাউস সুনান-১৬/১১৬, হাদীস নং-৫২৭৭]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

বিধর্মীদের সালামের জবাব কিভাবে দিবে?

প্রশ্ন From: মামুন কবীর বিষয়ঃ হিন্দু ব্যক্তি কতৃক সালাম দিলে এর জবাব দেয়া যাবে কি? …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস