প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / ঘুষ দিয়ে সরকারী কাজ করা ও মিথ্যা বিল লেখা কি জায়েজ?

ঘুষ দিয়ে সরকারী কাজ করা ও মিথ্যা বিল লেখা কি জায়েজ?

প্রশ্ন

From: শফিকুল ইসলাম
বিষয়ঃ সরকারি কাজ প্রসংগে।

প্রশ্নঃ
আমরা চারজন একটা সফট্ওয়্যার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। আমরা ব্যক্তিগতভাবে চাকুরীরত আছি, এর পাশাপাশি।  বাঙলাদেশে সরকারী কাজ করতে গেলে ঘুষ আদান-প্রদানের বিষয় দিবোলোকের মত পরিষ্কার। নিম্নলিখিত শর্ত মোতাবেক আমরা সরকারী কাজ করতে পারবো কীনা?

১। চাকুরী থেকে আমরা চলার মতো বেতন পাচ্ছি।

২। এই মুহূর্তে সরকারী কাজ ছাড়া অন্য কোন কিছু আমাদের হাতে নেই।

৩। আমাদের একজন পরিচালক ইউনাইটেড নেশন ও সরকারী কাজের কনসালট্যান্ট। উনি যখন কোন সরকারী কাজ পান তখন উনার অবস্থানের কারণে কারো মাধ্যম ছাড়া সরাসরি কাজ পান।

৪। যখন কাজের চুক্তি হয় নির্দিষ্ট অঙ্কের তখন কর্মকর্তারা তা প্রদান করতে রাজি হয়।

৫। কিন্তু বিলের পরিমান চুক্তির অংকের চাইতে বেশী দিয়ে বাকীটা ফেরত চান অথবা কাজের মোট বরাদ্ধের একটা অংশ দাবী করেন।

৬। বলা যায় আমরা সবচাইতে সহজে কোন মাধ্যম ছাড়াই কাজ পাই যেখানে কোনভাবেই অন্যরা এভাবে কাজ পায় না।

৭। কাজের মান এই বাজেটের মধ্যে আমরা পুরাপুরি দিতে সক্ষম।

৮। ঘুষের যে ধরণ আছে এইগুলো ছাড়া কোন সরকারী কাজ পাওয়া সম্ভব নয়।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

বাধ্য হয়ে ঘুষ দেয়া জায়েজ আছে। কিন্তু ঘুষ নেয়া কখনোই জায়েজ নয়।

কয়েকটি শর্তে আপনাদের উপার্জন বৈধ হতে পারে। যথা-

ঘুষ দিয়ে উক্ত কাজ করা ছাড়া অন্য কোন কাজ করার সুযোগ না থাকে।

যথার্থ ও সঠিকভাবে উক্ত কাজ করার যোগ্যতা ও মানসিকতা থাকে।

মূল বিলের চেয়ে বেশি বিল সরকারী তহবিল থেকে গ্রহণ না করা হয়।

উপরোক্ত তিনটি শর্ত সাপেক্ষে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়ে কাজ নিয়ে সঠিকভাবে তা আঞ্জাম দেয়া জায়েজ। এবং তার উপার্জন করাও জায়েজ।

যারা ঘুষ নিচ্ছেন তারা হারাম কাজ করছেন। কিন্তু যারা বাধ্য হয়ে দিচ্ছেন তাদের উপার্জন হারাম বলা হবে না।

কিন্তু ঘুষ ছাড়া অন্য কাজ করার সুযোগ থাকে, কিংবা যোগ্যতা না থাকা ও যথার্থভাবে তা আঞ্জাম না দেয়া হয়, কিংবা মিথ্যা বিল লেখার চুক্তি করা হয়, তাহলে উক্ত কাজ ও তার উপার্জন হালাল হবে না।

وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ [٢:١٨٨

তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কর্তৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না। [সূরা বাকারা-১৮৮]

لَّعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ [٣:٦١

তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি যারা মিথ্যাবাদী। {সূর আলেইমরান-৬১}

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৩১৪৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৪, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৫৮৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২২২৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪৯০৫}

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي»

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২৩১৩, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫৮০, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৩৩৬]

الرشوة ما يعطيه الشخص الحاكم وغيره ليحكم له او يحمله ما يريد (رد المحتار، كتاب القضاء، مطلب فى الكلام على الرشوة-8/34، اعلاء السنن، كتاب القضاء، تحقيق معنى الرشوة-15/61(

دفع المال للسلطان الجائر لدفع الظلم عن نفسه وماله ولاستخراج حق له ليس برشوة يعني في حق الدافع (رد المحتار، كتاب الحظر ولاباحة-9/607، فتح القدير، كتاب ادب القاضى-7/255، البحر الرائق، كتاب القضاء-6/262(

الرابع ما يدفع لدفع الخوف من المدفوع اليه على نفسه او ماله حلال للدافع حرام على الآخذ (رد المحتار، كتاب القضاء، مطلب فى الكلام على الرشوة-8/35، فتح القدير، كتاب اداب القضاء-7/255

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক -তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

ইদ্দতচলাকালীন সময়ে বিয়ে কি শুদ্ধ হয়?

প্রশ্ন আমি রফিক ঢাকা থেকে আামার প্রশ্ন : একটা মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল।  আমরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস