প্রচ্ছদ / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / তালাকের নিয়ত ছাড়া তালাকের নোটিশ লিখে সাইন করে পাঠালে কি তালাক হয় না?

তালাকের নিয়ত ছাড়া তালাকের নোটিশ লিখে সাইন করে পাঠালে কি তালাক হয় না?

প্রশ্ন

প্রশ্নকারীর নাম:
—————-
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

ঠিকানা:
—————-
গ্রামঃ উত্তর মহেশপুর, পোঃ বলেয়ারহাট, উপজেলাঃ কাহারোল

জেলা/শহর:
—————-
দিনাজপুর

দেশ:
—————-
বাংলাদেশ

প্রশ্নের বিষয়:
—————-
তালাক সংক্রান্ত একটি মাসয়ালা জানতে চাই।

বিস্তারিত:
—————-
বরাবর
আহলে হক মিডিয়া
বিষয়ঃ তালাকের মাসয়ালা প্রসঙ্গে

আমাদের বিয়ে হয় তিন বছর আগে। প্রথমদিকে সংসার ভালোই চলছিলো। দেড় বছর পরে আমাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। সন্তান হওয়ার পরে আমার বাবা মায়ের সাথে আমার স্ত্রীর ও আমার শ্বশুর বাড়ির মানুষের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। আমি আমার বাবা মায়ের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় আমার স্ত্রীর সাথে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হয়। একদিন মোবাইলে কথা বলার সময় আমার স্ত্রীর সাথে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে আমি তাকে বলি আজকে থেকে আগামি এক মাস পর্যন্ত তোমাকে এক তালাক দিলাম। এভাবে একই কথা দুই তিনবার রিপিট করি।

পরবর্তীতে ২/৩ দিন পরে স্বামী স্ত্রী সুলভ আচরণের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ক ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীকালে বিভিন্ন কারণে আবার আমাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি বাড়তে থাকে। আমি প্রায়ই তাকে বলতাম যে, সে যদি ঠিক না হয় তাহলে আমি তাকে তালাক দিয়ে দিবো।

এর মধ্যে ঝগড়াঝাটির সময় দুই একবার আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও আর বাপের বাড়িতে থাকো। তোমাকে আমি রাখবো না। আমার বাড়ির দরজা তোমার জন্য বন্ধ। আমার চাইতে ভালো কাউকে পেলে বিয়ে করে নাও। উল্লেখ্য যে আমি কথাগুলো ক্ষোভ থেকে বলেছিলাম। আমার মনে তালাক দেয়ার ইচ্ছে ছিলো না। বা এ রকম বললে তালাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেটাও আমার জানা ছিলোনা।

তার কিছুদিন পরে আমার স্ত্রীর সাথে আমার ঝগড়া হয়, শ্বশুড়বাড়ির লোকজন আসে। তাদের সাথে আমার ও আমার পরিবারের লোকেদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। আমি তখন তাদেরকে বলি যে আপনাদের মেয়েকে আমি আজকেই ডিভোর্স দিয়ে দিবো। পরে আমি রাগ করে আমার বাবা ও দুলাভাই সহ কাজি অফিসে যাই। আমি কাজীকে বলি যে আমি আমার স্ত্রীকে এক তালাকের নোটিশ পাঠাবো, কিন্তু মৌখিক ঘোষণা দিবো না, কারণ ইতিপূর্বেই আমি তাকে এক তালাক দিয়েছিলাম। তাই আমি তাকে তালাক দিতে চাই না। কিন্তু ভয় দেখানোর জন্য একটি নোটিশ পাঠাবো। পরবর্তীতে সে আমার স্ত্রী ঠিক না হলে তখন তাকে মৌখিকভাবে তালাক দিবো।

কাজী সাহেব আমাকে সন্ধ্যায় দুইজন স্বাক্ষী ও একজন সনাক্তকারী নিয়ে যেতে বলেন। সন্ধ্যায় আমি লোক নিয়ে গেলে  তিনি একটি নোটিশ দিলেন এবং পূরণ করতে বললেন, আমি সেটা পূরণ করলাম এবং আমার স্বাক্ষর করলাম। স্বাক্ষর করার সময় আমার মনের উদ্দেশ্য এটাই ছিলো যে আমি আমার স্ত্রীকে ও তার পরিবারকে ভয় দেখানোর জন্য এটা করছি; তালাক দেয়ার উদ্দেশ্যে না। তালাকের নোটিশে নির্দিষ্ট করে লেখা ছিলো না বা টিক মার্ক দেয়া ছিলো না যে কয় তালাক দেয়া হচ্ছে। সাধারণত বাংলাদেশের ডিভোর্স লেটার যেমন থাকে, সে রকমই ছিলো। কাজী সাহেব আমাকে বলেছিলো যে মৌখিক ঘোষণা না দিলে শুধু লিখিতভাবে তালাক দিলে ৯০ দিন অতিবাহিত না হলে তালাক কার্যকর হবে না। এর মধ্যে লিখিত এফিডেফিটের মাধ্যমে তালাক প্রত্যাহার করে নেয়া যাবে। আমি তখনই উনাকে বলি যে আমি নোটিশ পাঠাচ্ছি ঠিকই কিন্তু আমি আপনার নির্ধারিত সময়ের আবার প্রত্যাহার করে নিবো।

তারপরে কাজী সাহেব তার বইয়ে তালাকনামায় আমার স্বাক্ষর, দুইজন স্বাক্ষীর স্বাক্ষর ও সনাক্তকারী হিশেবে আমার বাবার স্বাক্ষর নেন। এবং তালাকের নোটিশ আমার স্ত্রী বরাবর ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান বরাবর পাঠিয়ে দেন। উক্ত সময়ে আমি তালাকের নোটিশটির ছবি তুলি ও আমার স্ত্রীর ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেই। সেটা দেখে আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন কোনো অভিজ্ঞ লোককে নোটিশটি দেখায় যে এটি ভুয়া নাকি সঠিক। সেই ব্যক্তি তাদেরকে জানায় যে, নোটিশটি সঠিক। এর পরে আমার স্ত্রী অনেক কান্নাকাটি করে এবং ২/৩ দিন পরে আমাকে ফোন করে আমাকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। আমি তাকে বলি যে আমি সত্যি সত্যি তালাক দেইনি। আমি তাকে ভয় দেখানোর জন্য এমন করেছি।

কয়েকদিন পরে আমি কাজীর সাথে তালাক প্রত্যাহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, নোটিশ পাঠানোর ৯০ দিনের মধ্যে স্বামী স্ত্রী উভয়ে মিলে একটি দরখাস্ত দিলে তালাক প্রত্যাহার করা যাবে। আমি তাকে বলি যেন তিনি নতুন করে আর কোনো নোটিশ না পাঠান এবং তালাক প্রত্যাহারের জন্য আমি তার সাথে পরে যোগাযোগ করবো।

তালাকের নোটিশ পাঠানোর এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আমার স্ত্রীর সাথে আমার ঝগড়া নিরসন হয়, সে আমার সাথে আর এই ধরনের আচরণ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর আমাদের শারীরিক সম্পর্ক ও হয়। আমি ভেবেছিলাম যে নোটিশ পাঠানোর সময় যেহেতু আমার তালাকের নিয়্যাত ছিলো না, সেহেতু তালাকই হয়নি। অথবা বাই চান্স যদি হয়েও থাকে তাহলে তো এক তালাক হবে, কারণ আমি কাজীকে একটার বেশি নোটিশ পাঠাতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আমার স্ত্রী কারো কাছ থেকে শুনেছিলো যে আমি নোটিশ পাঠানোর কারণে নাকি তালাক হয়ে গিয়েছিল। আমি আমার স্ত্রীকে বলি যে তালাক হয়নি। কারণ আমি মৌখিকভাবে তালাক দেইনি আর শুধু ভয় দেখানোর জন্য নিয়্যাত ছাড়া নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। আর মৌখিকভাবে বা শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সম্পর্ক ঠিক হয়ে গিয়েছিলো বলে ভেবেছিলাম।

পরে আমি কাজীকে জিজ্ঞেস করি যে আমাদের আবার বিয়ে করতে হবে কি না। তিনি বলেন যে, না, আপনি যেহেতু মৌখিক ঘোষণা দেননি, সেহেতু আপনার তালাক হয়নি, তাই আর বিয়ে করতে হবে না। কিছু কাগজপত্রে সই করতে হবে অর্থাৎ আইনী ফর্মালিটি মেইন্টেইন করলেই হবে।

তালাকের নোটিশ পাঠানোর তিন মাস পূরণ হওয়ার আগেই আমি কাজী সাহেবের কাছে গিয়ে আইনী ফর্মালিটি (এফিডেভিট) পূর্ণ করি।

এরপর আমি বিভিন্ন ফতোয়ার সাইটে দেখি যে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে নিয়্যাত ছাড়া ও তালাকনামায় সই করলে ও নাকি তালাক হয়ে যায়। তালাকনামায় যা লেখা থাকে সেটাই কার্যকর হয়। আর বাংলাদেশের তালাকনামা অনু্যায়ী সেই তালাকটি বায়েন তালাক হয়ে যায়। কয় তালাক দেয়া হচ্ছে সেটা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে সর্বনিম্নটি অর্থাৎ এক তালাকে বায়েন হয় অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় এবং নতুন করে বিয়ে না করা পর্যন্ত স্ত্রী বৈধ হয় না। আমার প্রেরিত নোটিশে ‘এক/দুই/তিন তালাকে বায়েন/তফিউজ প্রদান করিয়াছি’ লিখা ছিলো। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কোনোটির উপর টিক মার্ক দেয়া ছিলো না। আর আমি কাজীকে মাত্র একটি নোটিশ বা এক তালাকের নোটিশ পাঠাতে বলেছিলাম, যেন বাই চান্স তালাক হয়ে গেলেও যেন এক তালাক হয়।

এরপর আমি এই আশংকায় থাকি যে মনে হয় আমার তালাকটি হয়ে গিয়েছে। তাই আমরা আবার ঢাকাতে অথবা বাসায় গিয়ে নতুন করে বিয়ে করে নিবো বলে ঠিক করি। কিন্তু ঢাকা থেকে বাসায় আসার কয়েকদিন আগে আমাদের প্রচন্ড ঝগড়াঝাঁটি ও মারামারি হয়। আমার স্ত্রী আমার গায়ে হাত তুলে এবং বলে যে আজকে তোকে মেরেই ফেলবো, আমি তখন প্রচণ্ড রাগে তাকে বলি যে তোকে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক এবং বায়েন তালাক। তোর সাথে আমার চিরদিনের জন্য সম্পর্ক শেষ।

পরে সে তার আচরণের জন্য আমার কাছে ক্ষমা চায় এবং আর এই ধরনের ভুল করবে না বলে ওয়াদা করে।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে
০১. আমি কাজী অফিস থেকে যে নোটিশটি ভয় দেখানোর জন্য পাঠিয়েছিলাম সেটির কারণে কি আমার স্ত্রী তালাক হয়ে গিয়েছিল? হয়ে গিয়ে থাকলে সেটি সাধারণ ১ তালাক হয়েছিল নাকি ১তালাকে বায়েন হয়ে গিয়েছিল? তার সাথে কি আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো নাকি স্বামী স্ত্রী সুলভ আচরণের কারণে সে আমার স্ত্রী হিশেবে থেকে গিয়েছিল?

০২. যদি আমার আগের তালাকের নোটিশটিই কার্যকর হয়ে থাকে, বা আমার স্ত্রীর সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে তার ৪ মাস পরে তাকে আমি একসাথে যে তিন তালাক ও বায়েন দিলাম সেটা কি কার্যকর হবে? যেহেতু আমি তখনো তাকে নতুন করে বিয়ে করিনি।

০৩. যদি তালাকের নোটিশটি কার্যকর না হয়ে থাকে, আমার স্ত্রী যদি আমার স্ত্রী হিশেবেই থেকে গিয়ে থাকে, তাহলে আমি ৪ মাস পরে তাকে যে একসাথে তিন তালাক ও বায়েন তালাক দিলাম এবং বললাম যে তার সাথে চিরদিনের জন্য সম্পর্ক শেষ এতে কি তার সাথে আমার সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়ে গিয়েছে নাকি এক বৈঠকে এক তালাক গণ্য হবে? এবং তালাকের নোটিশটি পাঠানোর আগে মৌখিক যে এক তালাক দিয়েছিলাম সেটি মিলিয়ে কি মোট দুই তালাক হবে?

০৪. সামগ্রিকভাবে, এমতাবস্থায় তার সাথে সংসার করার ব্যাপারে ইসলামি শরীয়তের হুকুম কী? তার সাথে কি নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে, নাকি তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছে? এখন কি আমার তাকে সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

উত্তরটি বুঝার সুবিধার্তে আপনার প্রশ্নের মূল চারটি পয়েন্ট শুরুতে উল্লেখ করে দিচ্ছি:

একদিন মোবাইলে কথা বলার সময় আমার স্ত্রীর সাথে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে আমি তাকে বলি আজকে থেকে আগামি এক মাস পর্যন্ত তোমাকে এক তালাক দিলাম। এভাবে একই কথা দুই তিনবার রিপিট করি।
পরবর্তীতে ২/৩ দিন পরে স্বামী স্ত্রী সুলভ আচরণের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ক ঠিক হয়ে যায়।

ঝগড়াঝাটির সময় দুই একবার আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও আর বাপের বাড়িতে থাকো। তোমাকে আমি রাখবো না। আমার বাড়ির দরজা তোমার জন্য বন্ধ। আমার চাইতে ভালো কাউকে পেলে বিয়ে করে নাও। উল্লেখ্য যে আমি কথাগুলো ক্ষোভ থেকে বলেছিলাম। আমার মনে তালাক দেয়ার ইচ্ছে ছিলো না। বা এ রকম বললে তালাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেটাও আমার জানা ছিলো না।

আমি তখন তাদেরকে বলি যে আপনাদের মেয়েকে আমি আজকেই ডিভোর্স দিয়ে দিবো। পরে আমি রাগ করে আমার বাবা ও দুলাভাই সহ কাজি অফিসে যাই। আমি কাজীকে বলি যে আমি আমার স্ত্রীকে এক তালাকের নোটিশ পাঠাবো, কিন্তু মৌখিক ঘোষণা দিবো না, কারণ ইতিপূর্বেই আমি তাকে এক তালাক দিয়েছিলাম। তাই আমি তাকে তালাক দিতে চাই না। কিন্তু ভয় দেখানোর জন্য একটি নোটিশ পাঠাবো। পরবর্তীতে সে আমার স্ত্রী ঠিক না হলে তখন তাকে মৌখিকভাবে তালাক দিবো।

কাজী সাহেব আমাকে সন্ধ্যায় দুইজন স্বাক্ষী ও একজন সনাক্তকারী নিয়ে যেতে বলেন। সন্ধ্যায় আমি লোক নিয়ে গেলে  তিনি একটি নোটিশ দিলেন এবং পূরণ করতে বললেন, আমি সেটা পূরণ করলাম এবং আমার স্বাক্ষর করলাম। স্বাক্ষর করার সময় আমার মনের উদ্দেশ্য এটাই ছিলো যে আমি আমার স্ত্রীকে ও তার পরিবারকে ভয় দেখানোর জন্য এটা করছি; তালাক দেয়ার উদ্দেশ্যে না। তালাকের নোটিশে নির্দিষ্ট করে লেখা ছিলো না বা টিক মার্ক দেয়া ছিলো না যে কয় তালাক দেয়া হচ্ছে। সাধারণত বাংলাদেশের ডিভোর্স লেটার যেমন থাকে, সে রকমই ছিলো।

……. তালাকের নোটিশ পাঠানোর এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আমার স্ত্রীর সাথে আমার ঝগড়া নিরসন হয়, সে আমার সাথে আর এই ধরনের আচরণ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর আমাদের শারীরিক সম্পর্ক ও হয়।

ঢাকা থেকে বাসায় আসার কয়েকদিন আগে আমাদের প্রচন্ড ঝগড়াঝাঁটি ও মারামারি হয়। আমার স্ত্রী আমার গায়ে হাত তুলে এবং বলে যে আজকে তোকে মেরেই ফেলবো, আমি তখন প্রচণ্ড রাগে তাকে বলি যে তোকে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক এবং বায়েন তালাক। তোর সাথে আমার চিরদিনের জন্য সম্পর্ক শেষ।

এবার চারটি পয়েন্টের স্বতন্ত্র উত্তর আগে বুঝুন:

এক্ষেত্রে যদি এক তালাকের নিয়তেই বারবার “এক তালাক দিলাম” বলে থাকেন, তাহলে এক তালাক পতিত হয়েছে। আর যদি কোন প্রকার নিয়ত ছাড়া বলে থাকেন, তাহলে তিন তালাক পতিত হয়েছে।

عن شعبة قال: سألت الحكم وحمادا عن رجل قال لامرأته: أنت طالق، أنت طالق، ونوى الأولى، قالا: هى واحدة، وكذالك إذا قال: اعتدى، اعتدى، المصنف لابن أبى شيبة-9/544، رقم-18201)

وإن نوى التاكيد دين (الدر المختار مع رد المحتار-4/521)

رجل قال لامرأته أنت طالق أنت أنت طالق فقال عنيت بالأولى الطلاق وبالثانية إفهاما صدق ديانة، وفى القضاء طلقت ثلاثا (الفتاوى

তালাক দেবার ইচ্ছে ছাড়া কেনায়ী শব্দে তালাক দিলে তালাক হয় না।

যেহেতু আপনার উপরোক্ত শব্দাবলী কেনায়ী শব্দ। তাই তালাকের ইচ্ছেয় না বললে কোন তালাক পতিত হয়নি।


مثل اذهبى فيحتاج إلى النية…… وإن نوى فهى واحدة بائنة (رد المحتار، كتاب الطلاق، باب تفويض الطلاق-4/551)

فالكنايات لا تطلق بها إلا بنية، أو دلالة الحال….. فنحو اخرجى، واذهبى، وقومى (الدر المختار مع رد المحتار، كتاب الطلاق، باب الكنايات-4/528-529، البحر الرائق-3/526، هندية-1/442، جديد-1/374، خانية على هامش الهندية-1/468، جديد-1/284)

ولو قال: اذهبى أى طريق شئت لا يقع بدون النية (الفتاوى الهندية-1/376، جديد-1/443)

اخرجى، اذهبى، تلزم النية (رد المحتار-4/534

যেহেতু আপনি স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে তালাকনামা লিখতে বলে, তাতে সাইন করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তালাক পতিত হয়ে গেছে।

আর নির্দিষ্ট তালাক না লেখায় এক তালাক পতিত হয়ে গেছে।

তারপর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে রাজআতও সম্পন্ন হয়ে আপনার স্ত্রী আবার আপনার কাছে বৈধ হয়ে গেছে।

ولو قال للكاتب: اكتب طلاق امرأتى كان إقرار بالطلاق وإ، لم يكتب، ولو استكتب من آخر كتابا بطلاقها وقرأه على الزوج فأخذه الزوج وختمه وعنونه وبعث به إليها، وقع إن أقر الزوج أنه كتابه (رد المحتار-4/456، الفتاوى التاتارخانية-4/531، رقم-6843، الفتاوى الهندية-1/379، جديد-1/446)

 

উপরোক্ত বিবরণ অনুপাতে আপনার স্ত্রী তিন তালাকে বায়েনা হয়ে আপনার জন্য সে হারাম হয়ে গেছে। এখন আর তার সাথে সংসার করা কোনভাবেই জায়েজ নয়।

ইদ্দত শেষে যদি তার অন্যত্র বিয়ে হয়। সেখানে ঘর সংসার করতে থাকে। তারপর কোন কারণে স্বামী তালাক দেয়, বা স্বামী মারা যায়, তারপর ইদ্দত শেষে হলে আপনি আবার বিয়ে করতে পারবেন। এছাড়া আর কোন সূরতেই তাকে রাখার সুযোগ নেই।

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ [٢:٢٣٠]

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। [সূরা বাকারা-২৩০]

وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك

হযরত নাফে রহ. বলেন,যখন হযরত ইবনে উমর রাঃ এর কাছে ‘এক সাথে তিন তালাক দিলে ‎তিন তালাক পতিত হওয়া না হওয়া’ (রুজু‘করা যাবে কিনা) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো,‎তখন তিনি বলেন-“যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ‘রুজু’ [তথা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছাড়াই ফিরিয়ে আনা] করতে পার। ‎কারণ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরকম অবস্থায় ‘রুজু’ করার আদেশ দিয়েছিলেন। ‎যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত। {সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩}

عن مجاهد قال كنت عند ابن عباس فجاء رجل فقال إنه طلق امرأته ثلاثا. قال فسكت حتى ظننت أنه رادها إليه ثم قال ينطلق أحدكم فيركب الحموقة ثم يقول يا ابن عباس يا ابن عباس وإن الله قال (وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا) وإنك لم تتق الله فلم أجد لك مخرجا عصيت ربك وبانت منك امرأتك

অর্থ: হযরত মুজাহিদ রহঃ. বলেন,আমি ইবনে আব্বাস রাঃ-এর পাশে ছিলাম। সে সময় এক ব্যক্তি ‎এসে বলেন-‘সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ চুপ করে রইলেন। আমি ‎মনে মনে ভাবছিলাম-হয়ত তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার কথা বলবেন (রুজু করার হুকুম দিবেন)। কিছুক্ষণ ‎পর ইবনে আব্বাস রা. বলেন,তোমাদের অনেকে নির্বোধের মত কাজ কর;[তিন তালাক দিয়ে দাও!] তারপর ‘ইবনে ‎আব্বাস! ইবনে আব্বাস! বলে চিৎকার করতে থাক। শুনে রাখ আল্লাহ তা‘য়ালা বাণী-“যে ‎ব্যক্তি আল্লাহ তা‘য়ালাকে ভয় করে আল্লাহ তা‘য়ালা তার জন্য পথকে খুলে দেন। তুমিতো স্বীয় রবের নাফরমানী করেছো [তিন তালাক দিয়ে]। এ কারণে তোমার স্ত্রী তোমার থেকে পৃথক হয়ে গেছে। {সুনানে আবু দাউদ-১/২৯৯, হাদীস নং-২১৯৯, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৪৭২০, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৪৩}

এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরটি বুঝুন!

আপনি যদি সত্যিই প্রথমবার “এক তালাক দিলাম” কয়েকবার বলে মূলত এক তালাকই নিয়ত করে থাকেন, তাহলে এক তালাক হয়।

তারপর ফিরিয়ে এনে তালাকের নোটিশের মাধ্যমে আরো এক তালাক প্রদান করে আবার ফিরিয়ে আনার পর আবার এক সাথে তিন তালাক প্রদান করে আপনার স্ত্রীকে হারাম করে ফেলেছেন।

সুতরাং তার সাথে আপনার ঘর সংসার করা জায়েজ নয়। তার থেকে পৃথক থাকা আবশ্যক।

আর যদি প্রথমেই “এক তালাক দিলাম” বলে আলাদা তালাকের নিয়ত করে থাকেন, তাহলে প্রথমেই তিন তালাক হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে তার সাথে দেখা সাক্ষাৎ ও ঘরসংসার সবই হারাম হয়েছে।

এখন আপনার স্ত্রীর ইদ্দত শেষে অন্যত্র বিয়ে হলে, সেখানে ঘর সংসার করা অবস্থায় কোন কারণে দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিলে বা স্বামী মারা গেলে ইদ্দত শেষে আপনি আবার বিয়ে করতে পারবেন। এছাড়া আর কোন পথ বাকি নেই।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক -তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

ফজরের নামাযে কুনুতে নাজেলা কি হযরত উমর রাঃ সারা বছর পড়তেন?

প্রশ্ন From: মাহমুদ বিষয়ঃ কুনূতে নাযেলা প্রশ্নঃ উমার রাঃ এর আমল হিসেবে আমাদের মসজিদে ফজর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস