প্রচ্ছদ / অজু/গোসল/পবিত্রতা/হায়েজ/নেফাস / পেশাব ঝরার ওয়াসওয়াসা হলে করণীয় কী?

পেশাব ঝরার ওয়াসওয়াসা হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম মুফতি সাহেব। কেমন আছেন?
আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন।

সঠিক উত্তরের আশায় সমস্যাটা ভালভাবে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি,একটু বড়  হলে মাফ করবেন।একটু ধৈরয ধরে পুরোটা পড়বেন আশা করছি।

প্রশ্ন:

আমি অনার্স  পাস,বয়স ২৬। আমার সমস্যা  হল আমি শরীর পাক এবং কাপড় পাক রাখার বাপারে খুব সতর্ক থাকি। কারন একমাত্র আল্লাহর ভয়,যদি আল্লাহ  কোনোরূপ নাপাকীর কারনে আমার ইবাদত সমুহ কবুল না করেন।

হাদিসে আছে প্রস্রাব থেকে পবিত্র না হলে কবরে আযাব হবে নামাজ সহ অন্যান্য আমল কবুল হবে না।

এজন্য আমি টিস্যু ব্যবহার করি তখন ৩-৪মি. হাটা হাটিও করি।

তারপরও পানি ব্যাবহার করি।

কিন্তু এরপরও দিনে ৫ বারের মাঝে ১বার এমন হয় যে, পেশাব শেষ করে ওজু করে নামাযে দাঁড়িয়েছি তখন মনে হয় ১ ফোটা পেশাব বের হল।

এরকম কেবল ১বারই এবং মাত্র ১ ফোটাই বের হয়েছে বলে মনে হয়।

এজন্য কয়েকবার  আমি পানি না নিয়ে শুধু টিস্যু ব্যবহার করেছি এবং যখন মনে হয়েছে ১ফোটা বের হল, তখনিই আবার বাথরুমে গিয়ে চ্যাক করে দেখেছি।

তখন মাঝেমধ্যে দেখি যে,হ্যাঁ,লিঙ্গের মাথায় খুব ছোট ১ফোটা পেশাব,যা টপকে নিচে পড়বে না,এমন। আর কাপড়ের কোথাও কোনোরূপ পেশাবের চিহ্ন ও নেই।

আবার মাঝেমধ্যে ঐ ১ফোটাও থাকেনা,লিঙ্গের মাথা পুরাই শুকনা দেখি। এরূপ অবস্থায় ঐ ১ফোটা পেশাব থেকে সতর্ক থাকতে হলে ১০-১৫ মিনিট দেরি করতে হবে। আর এমন করলে আমার কারনে আমার আশেপাশের লোকজনের কষ্ট হয়। আমি আল্লাহর ভয়ে ঐরূপ দেরিও করি,যাতে আল্লাহ আমার আমলগুলা কবুল করেন। কিন্তু মানুষ এটা নিয়ে আমাকে বিদ্রুপ করে। আমি জানি মানুষকে কষ্ট দেয়াও বড় গুনাহ। আমার কারণে মানুষ কষ্ট পায়,এটাও আমার খারাপ লাগে।

আমি ওজু/গোছল/ পবিত্রতা/ হায়েজ/নেফাস অধ্যায়ের সবগুলা পেজ পড়েছি। নবীজি (সঃ) এবং সাহাবী(রাঃ) দের অনেক ঘটনা পড়েছি।

আমার মনে হয়েছে ওনারা বেশির ভাগ সময় টিস্যু অথবা পানি ব্যাবহার করতেন (যে কোনো ১টি)। আর আমি ২টোই ব্যবহার করে হাটাহাটিও করছি ২-৩মিনিট। এটাই কি যথেষ্ট নয় ইবাদাত কবুল হওয়ার জন্য?

এছাড়া এ ধরনের সমস্যার বিষয়ে হাদীসে আছে লজ্জাস্থান বরাবর পানির ছিটে দেয়ার কথা।

এখন টিস্যু এবং পানি ব্যবহারের পর খুব ছোট ১ফোটা পেশাব বের হয়ে ঐ স্থানের পানির সাথে মিশে গেলে কি আমার আবার গোছল করতে এবং কাপড় ৩বার ধুতে হবে?

নাকি শরীর এবং কাপড়কে পাক মনে করব?

টিস্যু এবং পানি ব্যবহারের পর খুব ছোট ১ফোটা পেশাব বের হয়ে ঐ স্থানের পানির সাথে মিশে গেলেও তো বুঝার উপায় নেই যে পেশাবই বের হয়েছে,কারণ পানি দিয়ে তো আগেই ধুয়া হয়েছিল,সেই পানিও তো হতে পারে।

তাছাড়া পেশাব বের হল কি হল না? বার বার এটা চেক করলে তো মানুষ আমাকে অসুস্থ বলবে।

আমার পরিবারের সবাই তাবলীগ করে কিন্তু তারা কেউ আমার মত এরূপ করে না।

তাই আমি জানতে চাই,এ অবস্থায় আমি কি করব?

কিভাবে চললে আল্লাহ ও আমার উপর রাজি থাকবেন? আমার আমলগুলা কবুল করবেন এবং মানুষও আমার কারনে কষ্ট পাবে না?

আপনার মুল্যবান সমাধান দিয়ে আমাকে আল্লাহর পছন্দ অনুযায়ী চলতে সাহায্য করুন।

আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন।

বি:দ্র: শায়খ উত্তরটা যদি আহলে হক মিডিয়া এর ওয়েবসাইট  এ দেন তাহলে আমার ইমেল টা প্রকাশ করবেন না।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

যদি নিশ্চিতভাবেই পেশাব বেরিয়ে থাকে, বা লিঙ্গের আগায় পেশাবের ফোটা দেখা যায়, তাহলেই কেবল অযু ভঙ্গ হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। তখন আপনাকে আবার অযু করতে হবে।

আর যদি দেখা না যায়, তাহলে কেবল সন্দেহের বশে বারবার চেক করার কোন প্রয়োজন নেই।

আর সামান্য পেশাবের ছিটা বা ফোটা লাগায় শরীর বা কাপড় নাপাক হয় না।

তাই এ নিয়ে পেরেশানী করার কিছু নেই।

পেশাব করে শেষ করে যখন মনে  হবে যে, পেশাব পুরোপুরি হয়ে গেছে। তারপর টিস্যু দিয়ে পরিস্কার করবে। তারপর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিবে। সন্দেহ না রাখার জন্য পেশাবের অঙ্গের উপর পানি প্রবাহিত করে নিবেন বা ছিটিয়ে দিবেন।

এরপর দৃঢ় মনোবলে ইস্তিঞ্জা থেকে চলে আসবেন।

মনের মাঝে কোন প্রকার সন্দেহ আসতে দিবেন না। যদি আসে তাহলে সেদিকে খেয়াল করার প্রয়োজন নেই। যদি ভেজা ভেজা মনে হয়, তাহলে তা পেশাব করার পর ব্যবহার করা পানি মনে করে মনকে প্রবোধ দিয়ে ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত থাকতে সচেষ্ট হবেন।

ثم المراد بالخروج من السبلين مجرد الظهور
فى رد المحتار: فلو نزل البول إلى قصبة الذكر لا ينقض بعدم ظهوره، يخالف القلفة، فإنه بنزوله إليها ينقض الوضوء (رد المحتار-١/٢٦٢؛ بدائع الصنائع-١/١٢١)
ولو نزل البول الى قصبة الذكر لا ينقض، لأنه من الباطن، ولو خرج إلى القلفة او إلى اسكنى المرأة ينقض، لأنه من الظاهر (الفتاوى التاتارخانية-١/٢٤١، رقم- ١٨٥)

البول المنتضح قدر رؤس الإبر معفو للضرورة  وإن امتلأ الثوب كذا فى التبيين الخ، هذا إذا كان الانتضاح على الثياب والأبدان، أما إذا انتضح فى الماء فإنه ينجسه ولا يعفى عنه (الفتاوى الهندية-1/46)

ولو عرض له الشيطان كثيرا لا يلتفت إلى ذلك كما فى الصلاة، وينضح فرجه بماء حتى لو راى بللا حمله على بلة الماء، هكذا فى الظهيرية (الفتاوى الهندية-1/491)

قوله: لطمانينة القلب لأنه أمر بترك ما يريبه إلى مالا يربيه، وينبغى أن يقيد هذا بغير الموسوس، أما هو فيلزمه قطع مادة الوسواس عنه وعدم التفاته إلى التشكيك لأنه فعل الشيطان، وقد أمرنا بمعادته ومخالفته، (رد المحتار-1/240)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

কোর্টে সরকারী চাকুরীরত ব্যক্তির জন্য চাওয়া ছাড়া ক্লায়েন্ট থেকে টাকা নেয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন From: মো: আবূ মুছা বিষয়ঃ ঘুষ প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। হুজুর কেমন আছেন? আমি সরকারী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস