প্রচ্ছদ / ওয়াকফ/মসজিদ/ঈদগাহ / মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করা স্থানে মাদরাসা ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করা স্থানে মাদরাসা ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন

জনাব,

আমার প্রশ্ন,

আমার বাবা 40 শতাংশ জমিন মসজিদ ও মাদ্রাসা কে ওয়াকফ করেছিল 1997 সালে।

রেজিষ্টেশন করে ওয়াকফ এ রাহে লিল্লাহি করিয়া দেন।

মসজিদের জন‍্য 25 শতাংশ ও ফোরকানীয়া মাদ্রাসার জন‍্য 15 শতাংশ জমিন ওয়াকফ করেন।

এখন থেকে ৪০ বছর আগেই উক্ত স্থানে মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। লিখিত ওয়াকফটা পরে হয়েছিল।

মসজিদ ও মাদরাসা এতোদিন পর্যন্ত চলতেছিল।

কিন্তু বর্তমানে কিছু লা-মাজাহাবি লোক মাদ্রাসা ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করিতেছে। আমরা মুতোয়াল্লী হিসেবে বাঁধা দিয়ে ও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না।

তারা কোন ফতুয়া বা ইসলাম শরিয়া মানে না। এমতাবস্থায় আমাদের কি করা উচিৎ? দয়া করে কোরআন ও সুন্নাহ মতে ভালো একটা ফতুয়া দিয়ে বাধিত করিবেন। আপনাদের লিখিতভাবে একটা ফাতওয়া আমাকে চির কৃতজ্ঞ করবে।

ইতি-কে,বি,বশির উল‍্যাহ

নোয়াখালী

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যেহেতু আপনার আব্বা মসজিদ ও মাদরাসা উভয়টির জন্যই জমি ওয়াকফ করেছেন। সুতরাং এক ওয়াকফ সম্পত্তিকে অন্যটির জন্য অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা রাষ্ট্রীয়ভাবে যেমন অপরাধ তেমনি ধর্মীয়ভাবেও হারাম।

তাই আপনাদের উচিত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রশাসন বা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদের স্থলে মসজিদ এবং মাদরাসার স্থলে মাদরাসা রাখার ব্যবস্থা করা আপনাদের উপর একান্ত জরুরী।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ عُمَرَ تَصَدَّقَ بِمَالٍ لَهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ يُقَالُ لَهُ ثَمْغٌ وَكَانَ نَخْلًا، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي اسْتَفَدْتُ مَالًا وَهُوَ عِنْدِي نَفِيسٌ، فَأَرَدْتُ أَنْ أَتَصَدَّقَ بِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَصَدَّقْ بِأَصْلِهِ، لاَ يُبَاعُ وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ، وَلَكِنْ يُنْفَقُ ثَمَرُهُ»، فَتَصَدَّقَ بِهِ عُمَرُ،

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময়ে ‘উমার (রাঃ) নিজের কিছু সম্পত্তি সদাকাহ করেছিলেন, তা ছিল, ছামাগ নামে একটি খেজুর বাগান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি সম্পদ পেয়েছি, যা আমার নিকট খুবই পছন্দনীয়। আমি সেটি সদাকাহ করতে চাই।’ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘মূল সম্পদটি এ শর্তে সদাকাহ কর যে তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং কেউ ওয়ারিস হবে না, বরং তার ফল দান করা হবে। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) সেটি এভাবেই সদাকাহ করলেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৭৬৪]

على أنهم صرحوا بأن مراعاة غرض الواقفين واجبة (رد المحتار، كتاب الوقف، مطلب: مراعاة غرض الواقفين يصلح مخصصا-6/665)

شرط الواقف كنص الشراع أى فى المفهوم والدلالة ووجوب العمل به (الدر المختار، كتاب الوقف، مطلب فى قولهم شرط الواقف كنص الشارع، ومطلب بيان مفهوم المخالفة-6/649، الأشباه والنظائر، كتاب الوقف، الفن الثانى، الفوائد-2/106، تنقيح الفتاوى الحامدية-1/126

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

কবর না দিয়ে ফ্রিজিং করে রাখা লাশের সুওয়াল জওয়াব হবে কি?

প্রশ্ন মুহতারামের কাছে আমার প্রশ্ন হল, কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর তাকে যদি ফ্রিজিং করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস