প্রচ্ছদ / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / নবীজী সাঃ কত বছর বয়সে বিবাহ করেন? কত বছর বয়সে বিয়ে করা সুন্নাত?

নবীজী সাঃ কত বছর বয়সে বিবাহ করেন? কত বছর বয়সে বিয়ে করা সুন্নাত?

প্রশ্ন

আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

নামঃ মুহাম্মদ

দেশঃ চীন

সম্মানিত শাইখ  রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কত বছরে (বছর, মাস ও দিনসহ উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করছি) প্রথম বিবাহ করেছিলেন এবং এ বিষয়ে কতগুলো মতামত রয়েছে ও কোন মতটি সবচেয়ে সহিহ জানালে উপকৃত হবো।

এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যে বয়সে বিবাহ করেছিলেন এ বয়সে বিবাহ করা আমাদের জন্য সুন্নাহ কিনা?

জাযাকাল্লাহু খইরা-

উত্তর

وعليكم السلام ورحنة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

সীরাত ও তারীখের গ্রন্থগুলোর সর্বসম্মত মত হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২৫ বছর বয়সে আম্মাজান খাদিজা রাঃ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন আম্মাজানের বয়স ছিল ৪০ বছর।

দেখুন

সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া আখবারুর খুলাফা, লেখক ইবনে হিব্বান রহঃ-১/৬০

শারাফুল মুস্তাফা, লেখক আল্লামা আবু সাআদ-৩/২৪৬।

জামেউস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ-২/২৬।

দালায়েলুন নবুয়্যাহ লিলবায়হাকী-২/৭২।

সীরাতে মুস্তাফা সাঃ, লেখক- মাওলানা ইদ্রিস কান্ধলবী রহ-৩/২৭৯।

ইত্যাদি।

সুন্নতের সম্পর্ক হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওত পাবার পরের আমলী বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর আম্মাজান খাদিজা রাঃ কে আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করেছেন নবুওয়াত পাবার আগে। তাই এটিকে শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নত বলা যায় না।

বাকি কেউ এ বয়সে বিয়ে করতে পারে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, সে মোহাব্বতে করলে করার এখতিয়ার আছে। বাকি এটিকে আলাদা কোন শরয়ী ফাযায়েল মনে করার কোন প্রমাণ বিদ্যমান নেই।

বরং শারিরীক সক্ষ্যমতা থাকলে, স্ত্রীকে ভরণ পোষণ দেবার ক্ষমতা থাকলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَنْكِحْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَا فَلْيَصُمْ فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ»

হযরত্ আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মাঝে যে বিবাহের সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। আর যে ব্যক্তি তাতে অক্ষম, সে যেন রোযা রাখে, কেনা তা যৌন শক্তিকে হ্রাস করে। বুখারী, হাদীস নং-৫০৬৫}

আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ মান্য করাই হল, প্রকৃত সুন্নাতের অনুসরণ।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

ফরজ নামায পাঁচ ওয়াক্ত নাকি তিন ওয়াক্ত?

প্রশ্ন From: Towhid Hasan বিষয়ঃ Foroz namaz প্রশ্নঃ One person of our moholla spending that …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস