প্রচ্ছদ / আধুনিক মাসায়েল / ডলারের ব্যবসা করার হুকুম কি?

ডলারের ব্যবসা করার হুকুম কি?

প্রশ্ন

আমি একজন মুস্লিম।

আমার একটা প্রস্ন আপনাদের কাছে। আমি জানতে চাই।আমি ডলার কিনলাম যখন ডলারের দাম কম এবং কিছু দিন পরে যখন ডলারের দাম বেড়ে যায় তখন আমি তা বিক্রি করে দেয়।এই যে ডলার কেনা আর বিক্রি করার এই ব্যবসা কি ইস্লামের দিক দিয়ে হালাল এবং হারাম।

বিঃদ্রঃ এই সব কারেন্সি এর দাম বারে অথবা কমে যে সব বিষয়ের উপর তা হল একটা দেশের সার্বিক উন্নয়ন,সুদ,মুদ্রাস্ফিতি, কি পরিমাণ স্বর্ণ জমা আছে তাদের কেন্দিয় ব্যাংকে ইত্যাদি ইত্যাদি।এখন আমার কথা হল আমি যদি ডলার কেনা বেছার এই ব্যবসা করি এইটা কি ইস্লামের দিক দিয়ে হালাল অথবা হারাম?

আমাকে কোরান ও হাদিসের আলোকে জানালে আমার খুব উপকার হবে।

প্রশ্নকর্তা- রেদওয়ানুল হক

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

কারেন্সি ব্যবসা কি জায়েজ?

এক্ষেত্রে বিষয় হল ২টি। যথা-

এক দেশের কারেন্সির বিনিময়ে আরেক দেশের কারেন্সি কমবেশি করে ক্রয় বিক্রয় বৈধ কি না?

একই দেশের কারেন্সি কমবেশি করে ক্রয় বিক্রয় করা জায়েজ কি না?

 

ভিন্ন দেশের কারেন্সির লেনদেন

এক দেশের কারেন্সি আরেক দেশের কারেন্সির বিনিময়ে কমবেশি করে বিক্রি করা জায়েজ আছে। তবে এক্ষেত্রে মজলিসেই কমপক্ষে একপক্ষ টাকাটি হস্তগত করে নিতে হবে। যদি একজনও তাদের বিনিময়কৃত কারেন্সি হস্তগত না করে তাহলে ক্রয় বিক্রয়টি জায়েজ হবে না।

যেমন ডলারের বিনিময়ে বাংলাদেশী টাকা বিক্রি করছে। এক্ষেত্রে যিনি ডলার কিনল তিনি ক্রয় বিক্রয়ের মজলিসেই ডলার হস্তগত করে নিবে। বা যিনি টাকা কিনল তিনি উক্ত মজলিসেই টাকা হস্তগত করে নিবে।

যদি উভয়েই তাদের ক্রয়কৃত কারেন্সি হস্তগত করে নেয়, তাহলেতো উত্তম। কিন্তু কমপক্ষে একজনও হস্তগত করা শর্ত। আর যদি দুইজনের কেউই হস্তগত না করে, বরং পুরোটাই বাকিতে থাকে, তাহলে উক্ত ক্রয় বিক্রয় জায়েজ হয় না।

 

এক দেশের কারেন্সির পরস্পর লেনদেন

একই দেশের কারেন্সির পরস্পর লেনদেনের সময় সমতা রক্ষা করা আবশ্যক। কমবেশি করে বিক্রি করলে উক্ত ক্রয় বিক্রয় জায়েজ হবে না।

যেমন আমেরিকান ডলারের বিনিময়ে যদি আমেরিকান ডলারই বিক্রি করে, তাহলে কমবেশি করে বিক্রি করলে তা জায়েজ হবে না। সমান সমান হলে জায়েজ হবে।

অর্থাৎ দশ ডলারের বিনিময়ে দশ ডলারই বিক্রি লেনদেন করতে পারবে। এর চেয়ে কমবেশিতে ক্রয় বিক্রয় জায়েজ হবে না।

فى الهدايةويجوز بيع الفلس بالفلسين بأعيانهما” عند أبي حنيفة وأبي يوسف، وقال محمد: لا يجوز لأن الثمنية تثبت باصطلاح الكل فلا تبطل باصطلاحهما، وإذا بقيت أثمانا لا تتعين فصار كما إذا كانا بغير أعيانهما (هداية، كتاب البيوع، باب الربى-3/85، طبع رحمانية)

فى المستدرك للحاكم- عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «نَهَى عَنْ بَيْعِ الْكَالِئِ بِالْكَالِئِ» (مستدرك على الصحيحين-2/65-66، رقم-2342، شرح معانى الآثار، رقم-5554، سنن الدرقطنى، رقم-3060

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

‘শরীকানা কুরবানীতে একজনের কুরবানী না হলে বাকিদের কুরবানী হবে না’ কথাটি সঠিক নয়?

প্রশ্ন একজন মাওলানা সাহেব বলেছেন, “শরীক কুরবানীর ক্ষেত্রে একজনের কুরবানী না হলে বাকি শরীকদের কুরবানী …

One comment

  1. জাযাকুমুল্লাহ শায়খ💚

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস