প্রচ্ছদ / আদব ও আখলাক / হারাম উপার্জনকারী পিতা থেকে খরচ নেয়া এবং দ্বীন মানতে বাঁধাগ্রস্ত হলে করণীয় কি?

হারাম উপার্জনকারী পিতা থেকে খরচ নেয়া এবং দ্বীন মানতে বাঁধাগ্রস্ত হলে করণীয় কি?

প্রশ্ন

আসসালামুয়ালাইকুম, চাকদাহ, নদিয়া, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত,,,আমার আব্বু একটি এনজিও চালায় বাংলাদেশে। তিনি লোন দেয় ও সুদ খায়। এছাড়া তিনি সলাত পড়েনা,আংটি পাথর মাজার এসবে বিশ্বাস করে এবং অন্যান্য অপকর্মও করে। তিনি ইসলাম কে গোড়া মনে করে, পর্দার বিরোধিতা করে ই:। আমাকে ইন্ডিয়াতে জোর করে ভর্তি করেছে। এখানে আমার ঈমান আমলে খুব সমস্যা হচ্ছে।
ফরজ,ওয়াজিব,সুন্নাত,হারাম,হালাল ই: মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,,। আমাকে দেশে পড়াতে রাজি হচ্ছে না। প্রশ্ন হোল আমি কি জোর করে দেশে গিয়ে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে নিজে কিছু করতে পারি? বস্তুত আমার পরিবারের সবাই অইসলামিক। আমাকে একজন বলল ইনকামের ক্ষমতা থাকলে বাপের অর্থ নেওয়া যাবে না। আমার বয়স ২০+। আমি আত্নবিশ্বাষি যে ইংশাল্লাহ কাজ করে খেতে পারব।
এখন আমার করণীয় কী? উল্লেখ্য যে তাদেরকে যথেষ্ট দাওয়াত দেওয়াহয়েছে,আর বেশি দাওয়াত দিলে সমস্যা হতে পারে।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

দ্বীন সম্পর্কে আপনার এ চমৎকার ও পরিচ্ছন্ন বুঝ এবং দ্বীন পালন করার প্রতি আগ্রহ দেখে খুব ভাল লাগল। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তার প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন। সকল বিপদ আপদ থেকে হিফাযত করুন। সহজ করে দিন আপনার দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনকে।

নিজের সামর্থ থাকলে পিতার হারাম কামাই নেয়া জায়েজ নয় মর্মে আপনি যে কথা শুনেছেন কথাটি সঠিক। তাই আপনার যদি সামর্থ, সেই সাথে ঈমানহারা হবার শংকা না থাকে, তাহলে নিজেই কামাই করে জীবন চালানো আপনার জন্য জরুরী।

আর হ্যাঁ, গোনাহের কাজে পিতামাতার আনুগত্ব করা জায়েজ নয়। তবে তাদের মনে এছাড়া কষ্ট  না দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। বাকি দ্বীনের বিষয়ে কোন ছাড় নেই।

তাই আপনি সাধ্যানুপাতে পিতাকে বুঝান। যদি না বুঝে থাকে, তাহলে আপনি নিজেই উপার্জন করে জীবন চালাতে চেষ্টা করুন। তবে পিতা মাতার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করবেন না। যোগাযোগ রাখুন। তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করুন।

আপনার জন্য আমাদের মন থেকে দুআ থাকবে। আল্লাহ তাআলা আপনার ধর্মীয় জীবনকে সুন্দর ও শান্তিময় করে দিন। ধৈর্য ধরতে সক্ষম নন এমন পরীক্ষা থেকে আল্লাহ তাআলা আপনাকে হিফাযত করুন। আমীন।
فى الفتاوى الهندية- أهدى إلى رجل شيئا أو أضافه إن كان غالب ماله من الحلال فلا بأس إلا أن يعلم بأنه حرام ، فإن كان الغالب هو الحرام ينبغي أن لا يقبل الهدية ، ولا يأكل الطعام إلا أن يخبره بأنه حلال ورثته أو استقرضته من رجل ، كذا في الينابيع (الفتاوى الهندية، كتاب الكراهية، كتاب الكراهية-5/342، رد المحتار-6/247)

مسألة إذا كان الحرام أو الشبهة في يد أبويه فليمتنع عن مؤاكلتهما فإن كانا يسخطان فلا يوافقهما على الحرام المحض بل ينهاهما فلا طاعة لمخلوق في معصية الله تعالى فإن كان شبهة وكان امتناعه للورع فهذا قد عارضه أن الورع طلب رضاهما بل هو واجب فليتلطف في الامتناع فإن لم يقدر فليوافق وليقلل الأكل بأن يصغر اللقمة ويطيل المضغ ولا يتوسع فإن ذلك عدوان (احياء علوم الدين- 2/147)

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

ইসলাম পূর্ব সময়ে কি হজ্জের বিধান ছিল? যু নফর ও আব্দুল মুত্তালিব কি মুসলমান ছিলেন?

প্রশ্ন আস্সালামুআলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আজকে Dr. Tuhin Malik ভাইয়ের স্ট্যাটাসে একজন কমেন্ট করেছেন, এই কমেন্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস