প্রচ্ছদ / পর্দা/দুগ্ধপান/হুরমত / সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা কি হারাম?

সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা কি হারাম?

প্রশ্ন

নাম: এস.এম.মুর্শিদুর রহমান
অবস্থান: খুলনা, বাংলাদেশ
আসসালামু আলাইকুম। আশাকরি আল্লহর রহমতে ভাল আছেন।আমি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুয়েট) ২য় বর্ষের ছাত্র।আমাদের এখানে ছেলে মেয়েদের একসাথে ক্লাস করতে হয়।মেয়েরা তেমন পরদা করে না। তাছাড়া ল্যাব (প্রাকটিকাল) অনেকসময় একসাথে গ্রুপ মিলে করতে হয় যেখানে মেয়েরাও গ্রুপে থাকে।কাজেই তাদের সাথে অনিচ্ছা সত্বেও তাকানো বা কথা বলতে হয়। এমনিভাবে যে সকল ক্লাস নেয় তাদেরও একই অবস্থা। কিন্তু আমি মাসিক মদিনায় পড়েছি এবং অনেক আলেমকেও বলতে শুনেছি যে বেপর্দা  মেয়েদের ক্লাস নেওয়া বা তাদের সাথে বসে ক্লাস করলে ফাসেক হয়।কাজেই আমরা কি করব বা আমাদের কি করা উচিৎ কিংবা আমরা আসলেই ফাসেক হয়ে যাচ্ছি কিনা বিষয়টা জানালে খুবই উপকার হয়।

বি:দ্র:
আমি সুন্নতি পোশাক পরেই ক্লাস করি এবং নামাজ পড়ি।আমি তবলীগের মেহনতের
সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

মাসিক মদীনার কথাটি সঠিক। কিন্তু কোন অর্থে? ইচ্ছেকৃত তাদের সাথে গিয়ে বসা, তাদের সাথে কথা বলা, এসব করলে ব্যক্তি ফাসিক হবে। কিন্তু অনিচ্ছায় কারো দিকে চোখ গেলে যদি সে সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তাহলে উক্ত ব্যক্তি ফাসিক বলে গণ্য হবে না।

যেহেতু পরিবেশটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই সঙ্গীন একটি স্থান। সেই সাথে ধার্মিক এবং খোদাভীরু বিজ্ঞ ব্যক্তিও প্রয়োজন। তাই এসব কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়া উচিত হবে না। বাকি নিজেকে খুবই গুটিয়ে রাখতে হবে। যেন ইচ্ছেকৃত কোন গোনাহ না হয়। কারো দিকে দৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে মুখ নামিয়ে নিতে হবে। বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়তে হবে।

আপনি তাবলীগের সাথে জড়িত আছেন শুনে ভাল লাগল। তাবলীগের যে উসূলী কাজগুলো আছে তাতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করুন। দাওয়াত ও তাবলীগের কাজের সাথে লেগে থাকলে ইনশাআল্লাহ আপনার মন পরিস্কার থাকবে ইনশাআল্লাহ।

عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ؛ فَإِنَّمَا  لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ “

হযরত বুরাইদা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ  হযরত আলী রাঃ কে বলেন, হে আলী! [সহসা] একবার দেখার পর পুনরায় [কোন বেগানা নারীকে] দেখো না। কারণ, তোমার জন্য প্রথমবারে অনুমতি রয়েছে [যখন তা অনিচ্ছায় হয়ে যাবে], কিন্তু দ্বিতীয়বারের অনুমতি নেই। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৯৭৪, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৭৫১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৪৯, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭৭৭}

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَنْظُرُ إِلَى مَحَاسِنِ امْرَأَةٍ أَوَّلَ مَرَّةٍ، ثُمَّ يَغُضُّ بَصَرَهُ إِلَّا أَحْدَثَ اللهُ لَهُ عِبَادَةً يَجِدُ حَلَاوَتَهَا “

হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে কোন মুসলমান কোন নারীর সৌন্দর্যের প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায়, অতঃপর সে নিজ চক্ষু নিচু করে নেয়, তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য এক ইবাদতের সুযোগ সৃষ্টি করেন, যাতে সে তার স্বাদ পায়। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২২৭৮}

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

কুরবানীর জন্য মান্নত করা পশুতে কাউকে শরীক নিতে পারবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম হযরত.. একটি প্রশ্ন জানার ছিলো প্রশ্নটি হলো এক ব্যক্তির একটি গরু ছিলো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস