প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / রোযা অবস্থায় জিহবার নিচে ওষুধ রাখার হুকুম কি?

রোযা অবস্থায় জিহবার নিচে ওষুধ রাখার হুকুম কি?

প্রশ্ন

From: মীর্যা আহমাদ

Subject: রোযা অবস্থায় জিহবার নিচে ওষুধ রাখা প্রসঙ্গে
Country : ঢাকা, বাংলাদেশ
Mobile :
Message Body:
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ

রোযা অবস্থায় জিহবার নিচে ঔষধ রাখলে রোযা ভাঙ্গবে কি?দলিলসহ জানানে উপকৃত হবো।

জবাব

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

যদি ঔষধ হলক অতিক্রম করে গলায় প্রবিষ্ট না হয়, তাহলে এতে রোযা ভাঙ্গবে না। এটার ফিক্বহী উপমা হল-

১-

মেসওয়াক।

মেসওয়াক করার দ্বারা রোযা ভাঙ্গে না, অথচ মেসওয়াকের ডালের রস মুখে থাকে মেসওয়াক করার সময়। তেমনি ঔষধ শুধুমাত্র জিহ্ববায় রাখলে রোযা ভাঙ্গবে না।

যেমন ফুক্বাহায়ে কিরাম লিখেছেন-

فى البدائع الصنائع- ولا بأس للصائم أن يستاك سواء كان السواك يابسا أو رطبا مبلولا أو غير مبلول (بدائع الصنائع- كتاب الصوم،  فصل وأما بيان ما يسن وما يستحب للصائم وما يكره له أن يفعله-2/266)

অনুবাদ-রোযাদারের জন্য মেসওয়াক করাতে কোন সমস্যা নেই। চাই মেসওয়াকটি শুষ্ক হোক, বা সজিব হোক সিক্ত হয়ে বা না হয়ে। {বাদায়েউস সানায়ে-২/২৬৬}

২-

মহিলাদের জন্য বদ মেজাজী স্বামীর দুর্ব্যবহার থেকে বাঁচার জন্য রোযা অবস্থায় তরকারীর স্বাদ চেখে দেখার অনুমতি আছে।

فى الطحطاوى على مراقى الفلاح- وللمرأة ذوق الطعام إذا كان زوجها سيئ الخلق لتعلم ملوحته (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح- كتاب الصوم، فصل فيما يكره للصائم وما لا يكره وما يستحب-679)

অনুবাদ-মহিলাদের জন্য জায়েজ আছে খানার স্বাদ পরখ করা, যদি তার স্বামী বদমেজাজী হয় লবন কম বেশি হওয়ার ক্ষেত্রে। {তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-৬৭৯, ফাতওয়ায়ে শামী-৩/৩৯৫, আল বাহরুর রায়েক-২/৪৮৯, তাবয়ীনুল হাকায়েক-২/১৮৪}

৩-

এটি আরো স্পষ্ট উপমা যে, ফুক্বাহায়ে কেরাম বাচ্চাকে খানা খাওয়াতে খাবার চিবিয়ে দেয়াকে বেলা কারাহাত জায়েজ বলেছেন।

فى الطحطاوى على مراقى الفلاح ( و ) كره ( مضغة بلا عذر ) كالمرأة إذا وجدت من يمضغ الطعام لصبيها الخ أما إذ لم تجد بدا منه فلا بأس بمضغها لصيانة الولد (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح- كتاب الصوم، فصل فيما يكره للصائم وما لا يكره وما يستحب-679)

অনুবাদ-প্রয়োজন ছাড়া খাবার চিবানো মাকরুহ। যেমন মহিলাদের জন্য এমন ব্যক্তি থাকে যে বাচ্চাকে খাবার চিবিয়ে দিতে পারবে, [তাহলে চিবিয়ে দেয়া মাকরুহ]। কিন্তু যদি চিবিয়ে দেওয়ার মত কেউ না থাকে, তাহলে বাচ্চাকে বাঁচাতে নিজেই চিবিয়ে দেয়া জায়েজ আছে। {তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-৬৭৯, তাবয়ীনুল হাকায়েক-২/১৮৪-১৮৫, আল বাহরুর রায়েক-২/৪৮৯, ফাতওয়ায়ে শামী-৩/৩৯৫}

যদি নিজের বাচ্চাকে রক্ষা করার জন্য খাদ্য চিবিয়ে দেওয়ার অনুমতি হয়, তাহলে নিজেকে বাঁচাতে জিহবার নিচে ওষুধ রাখা কেন জায়েজ হবে না? এটাতো আরো শক্তিশালীভাবে জায়েজ হবে। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল করতে হবে-যেন ওষুধটি হলকের ভিতরে না চলে যায়, যদি হলকের ভিতরে ওষুধ চলে যায় তাহলে সুনিশ্চিত রোযা ভেঙ্গে যাবে।

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

কুরবানীর জন্য মান্নত করা পশুতে কাউকে শরীক নিতে পারবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম হযরত.. একটি প্রশ্ন জানার ছিলো প্রশ্নটি হলো এক ব্যক্তির একটি গরু ছিলো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস