প্রচ্ছদ / আধুনিক মাসায়েল / মুদারাবা চুক্তিকারী মুদারিব আরেকজনের সাথে মুদারাবা চুক্তি করতে পারে কি?

মুদারাবা চুক্তিকারী মুদারিব আরেকজনের সাথে মুদারাবা চুক্তি করতে পারে কি?

প্রশ্ন

মুহতারাম,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ অর্থনৈতিক একটি প্রশ্ন মনে ঘুর পাক খাচ্ছে। সমাধানের
পথ খুজে পাচিছলাম না। আজকে হঠাৎ ফেইসবুক হতে ইমেল সংগ্রহ করি।

প্রশ্ন: আমি ব্যবসা করার জন্য 40 হাজার টাকা আমার পিতা এবং বোনদের নিকট
থেকে নেই। এ শর্তে যে, ব্যবসায় যা লাভ হবে তার 50% তাদেরকে দিব,আর 50%
আমি রাখব। পরবর্তীতে আমি সেই টাকার সাথে আারো 10 হাজার টাকা নিজ থেকে যোগ
করে মোট 50 হাজার টাকা আমার এক বন্ধুর দোকানে ব্যবসায়ের জন্য বিনিয়োগ
করি। বন্ধুর সাথে চুক্তি হয় লভ্যাংশের 25% আমাকে দিবে। তিন বৎসরে 25%
হিসাবে এখন প্রায় 50 হাজার টাকার মত লাভ পেয়েছি।

পিতা এবং বোনদের সাথে আমার যে চুক্তি হয় সে অনুযায়ী টাকা বন্টন হলে আমি পাব-

আমার 10 হাজার টাকার পুরা লভ্যাংশ+পিতা এবং বোনদের 40 হাজার টাকার লভ্যাংশের 50%
=10 হাজার+20হাজার
=30 হাজার টাকা।

প্রশ্ন হল,শরয়ী দৃষ্টিতে এ বন্টন ঠিক আছে কিনা?

যদি ঠিক না থাকে তাহলে কিভাবে করলে ঠিক হবে? মেহেরবানী করে জানালে উপকৃত হব।

মা’আস সালাম
সানাউল্লাহ

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনি প্রথমে আপনার পিতা এবং বোনের সাথে যে চুক্তি করেছেন, সেটি হল মুদারাবা চুক্তি। মূলধন ছিল তাদের আর আপনার ছিল শ্রমের চুক্তি। তারপর আপনি আপনার বন্ধুর সাথে যে চুক্তি করেছেন সেটিও ছিল মুদারাবা চুক্তি।

কিন্তু দ্বিতীয় চুক্তিটি করার সময় আপনি প্রথম মুদারাবা চুক্তিটিকে মুশারাকা  চুক্তিতে পরিণত করেছেন অতিরিক্ত টাকা নিজের পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে।

উভয় চুক্তিই বৈধ হয়েছে যদি প্রথম চুক্তিকারী তথা আপনার পিতা ও বোনের সম্মতিতে আপনি দ্বিতীয় চুক্তিটি করে থাকেন, কিংবা তারা আপনাকে যেভাবে ইচ্ছে ব্যবসায়িক চুক্তি করে লভ্যাংশ দেবার অধিকার দিয়ে থাকে।

তাহলে আপনার দ্বিতীয় চুক্তিটি সঠিক হয়েছে। সেই হিসেবে আপনার বন্টনটিই সঠিক।

কিন্তু যদি উপরোক্ত দু’টি তথা দ্বিতীয় চুক্তির অনুমতি বা যেভাবে ইচ্ছে ব্যবসা করার আম অনুমতি না দিয়ে থাকে, তাহলে আপনার দ্বিতীয় চুক্তিটি সঠিক হয়নি।

এক্ষেত্রে আপনার পিতা ও বোনকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

(وَلَا يُضَارِبُ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَهُ رَبُ الْمَالِ أَوْ يَقُولَ لَهُ اعْمَلْ بِرَأْيِكَ) لِأَنَّ الشَّيْءَ لَا يَتَضَمَّنُ مِثْلَهُ لِتَسَاوِيهِمَا فِي الْقُوَّةِ فَلَا بُدَّ مِنَ التَّنْصِيصِ عَلَيْهِ أَوِ التَّفْوِيضِ الْمُطْلَقِ إِلَيْهِ وَكَانَ كَالتَّوْكِيلِ، فَإِنَّ الْوَكِيلَ لَا يَمْلِكُ أَنْ يُوَكِّلَ غَيْرَهُ إِلَّا إِذَا قِيلَ لَهُ اعْمَلْ بِرَأْيِكَ، (الهداية، كتاب المضاربة-3/259)

وفيه ايضا- (وَإِذَا دَفَعَ الْمُضَارِبُ الْمَالَ إِلَى غَيْرِهِ مُضَارَبَةً وَلَمْ يَأْذَنْ لَهُ رَبُّ الْمَالِ لَمْ يَضْمَنْ بِالدَّفْعِ وَلَا يَتَصَرَّفُ الْمُضَارِبُ الثَّانِي حَتَّى يَرْبَحَ، فَإِذَا رَبِحَ ضَمِنَ الْأَوَّلُ لِرَبِ الْمَالِ) (الهداية، كتاب المضاربة، باب المضارب يضارب-3/262-263

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

মানুষ কি জান্নাতে চিরস্থায়ী হবে নাকি দীর্ঘস্থায়ী? রূহের কী মৃত্যু হয়?

প্রশ্ন From: Sharmin Hasan বিষয়ঃ মানুষ কি কখনো জান্নাত অথবা জাহান্নাম থেকে বিলীন হয়ে যাবে? …

No comments

  1. আল হামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আপনাদের এ খেদমতকে পরকালের নাযাতের জরিয়া করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস