প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / তথাকথিত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা গ্রহণের হুকুম কী?

তথাকথিত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা গ্রহণের হুকুম কী?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম, মুহতরাম।

আমার প্রশ্নটা বর্তমান সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ে। ব্রিটিশদের বস্তাপচা শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের বর্তমান বাংলাদেশে প্রচলিত। ইন্টারে উঠেই আমি তিনদিন; প্রথম দিন, দ্বিতীয় দিন, পঁচিশ দিনের দিন কলেজ গিয়ে এরপরে কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিই, এবং এখন একদম ওসব প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা থেকে ইস্তফা নিয়েছি। কারণ, যে শিক্ষাব্যবস্থা আমায় সেকুলার মন-মানসিকতা তৈরি করে, নাস্তিক্যবাদ, ইসলাম বিদ্বেষীতা শিক্ষা দেয়, আমি লাথি মারি ওসব শিক্ষার পাছায়।

যে শিক্ষাব্যবস্থার ইন্টারের ‘লালসালু’ নামক উপন্যাসে লেখা থাকে, ‘শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি। সকাল হতে না হতেই মসজিদ-মক্তব হতে আমসি-পাড়া পড়বার এমন আর্তনাদ ওঠে, যেন মনে হয় ইহা খোদাতায়ালার এক বিশেষ। দাঁড়ি গোঁফ উঠতে না উঠতেই কোরান হেফয করা সাড়া। হাফেয তাঁর। বেহেশত তাঁর নির্দিষ্ট!’ সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে লাথি মারা বৈ কিছু করা যায়??
এরপরে আরো বলা আছে, ‘মাদ্রাসায়, উইপোকা, ছারপোকা ধরা কিতাব পড়ে ছাত্ররা কি পায়? কিচ্ছু পায় না!’ এই ধরনের কটুক্তিমূলক কথাবাত্তা। এসব কথাগুলো আপনাদের কাছে কেমন লাগবে জানি না, আমার গায়ের রক্ত গরম করে দিয়েছে। এছাড়া শাহ ওয়ালীউল্লাহ নামক পিশাচটার লেখা ওই উপন্যাসটাতে ছলে-বলে, কৌশলে -এমন আরো অনেক কটাক্ষ-কটুক্তি করা হয়েছে ইসলামের বিষয়গুলো নিয়ে। এই উপন্যাসটা এখন ইন্টারের সিলেবাসভুক্ত, যাহোক এরপরে এই তথাকথিত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় আরো রয়েছে সহশিক্ষা, কুরআন-বিহীন শিক্ষা, বস্তুবাদী শিক্ষা; যা বিভিন্ন কারিগর [ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার] তৈরি করতে পারছে কিন্তু মনুষ্যত্বে পরিপূর্ণ একটা শিক্ষা দিতে পারছে না, ভালো মানুষ তৈরি করতে পারছে না। আর তাই, শিক্ষক হয়ে ছাত্রের সামনে সিগ্রেট খাওয়াটাও শোভনীয় হয়ে গিয়েছে আজ।

এখন বলেন তো, এইসব আলতু-ফালতু, কুরান-বিহীন, সেকুলার, নাস্তিক্যবাদী, ইসলামী বিদ্বেষী এবং সহশিক্ষা মূলক শিক্ষা গ্রহণ করা কি জায়েয? বা, কতটুকু শরীয়াত সম্মত? যারা এখনো এসব শিক্ষাব্যবস্থার ওপর হুমড়ি খেয়ে পরে আছে তাদের কেমন গুনাহ হচ্ছে? নাকি হচ্ছে না??

ধন্যবাদ।
এ কে এম সিয়াম

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

একজন মানুষ পূর্ণতা পায় দু’টি বস্তুর সমন্বয়ে। এক হল তার দেহ। অপরটি হল তার আত্মা। আত্মীক পরিশুদ্ধায়ন যেমন আখেরাতের কল্যাণের জন্য আবশ্যক। তেমনি তার দৈহিক সুস্থ্যতা প্রয়োজন দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য।

এ কারণে প্রাথমিকভাবে আবশ্যকীয় দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানের জন্যই আবশ্যক। সেই সাথে তার দ্বীনকে তার ঈমানকে সকল শিরক ও কুফর থেকে রক্ষা করাও আবশ্যক। যেন কিছুতেই ৭০/৮০ বছরের জীবনের জন্য আখেরাতের অনন্ত জীবনটি বিভীষিকাময় না হয়ে যায়।

সেই সাথে দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্যও দৈহিক সুস্থ্যতার প্রয়োজনীয় আসবাব গ্রহণ করা জরুরী। এর মাঝে ডাক্তারী বিদ্যা, প্রাণী বিদ্যা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি শিক্ষা জরুরী। তাই এসব যদি কেউ মানুষের সেবা করার নিয়তে শিখে, হালাল রুজি উপার্জন করার নিয়তে শিখে তাহলে এতে কোন সমস্যা নেই।

উপকারী দুনিয়াবী জ্ঞান শিক্ষা করতে ইসলাম কখনোই নিষেধ করেনি। বরং উৎসাহ প্রদান করেছে।

যদিও আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই মুসলমানদের ঈমান বিধ্বংসী। অনেক ইসলাম বিদ্বেষী কথা ও বক্তব্য তাদের সংযুক্ত করা হয়েছে। তবু যেহেতু এর মূল বিষয়টি জায়েজ। তাই পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে একদম নাজায়েজ ও হারাম বলার কোন সুযোগ নেই।

বাকি এসব কুফরী ও শিরকী বক্তব্য নির্ভর বই ও উপন্যাস যেন সিলেবাস থেকে বাদ দেয়া হয় এ ব্যাপারে চেষ্টা ফিকির করা প্রতিটি সামর্থবানের জন্য জরুরী।

قَالَ فِي تَبْيِينِ الْمَحَارِمِ: وَأَمَّا فَرْضُ الْكِفَايَةِ مِنْ الْعِلْمِ، فَهُوَ كُلُّ عِلْمٍ لَا يُسْتَغْنَى عَنْهُ فِي قِوَامِ أُمُورِ الدُّنْيَا كَالطِّبِّ وَالْحِسَابِ وَالنَّحْوِ وَاللُّغَةِ وَالْكَلَامِ وَالْقِرَاءَاتِ وَأَسَانِيدِ الْحَدِيثِ وَقِسْمَةِ الْوَصَايَا وَالْمَوَارِيثِ وَالْكِتَابَةِ وَالْمَعَانِي وَالْبَدِيعِ وَالْبَيَانِ وَالْأُصُولِ وَمَعْرِفَةِ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ وَالْعَامِّ وَالْخَاصِّ وَالنَّصِّ وَالظَّاهِرِ وَكُلُّ هَذِهِ آلَةٌ لِعِلْمِ التَّفْسِيرِ وَالْحَدِيثِ، وَكَذَا عِلْمُ الْآثَارِ وَالْأَخْبَارِ وَالْعِلْمُ بِالرِّجَالِ وَأَسَامِيهِمْ وَأَسَامِي الصَّحَابَةِ وَصِفَاتِهِمْ، وَالْعِلْمُ بِالْعَدَالَةِ فِي الرِّوَايَةِ، وَالْعِلْمُ بِأَحْوَالِهِمْ لِتَمْيِيزِ الضَّعِيفِ مِنْ الْقَوِيِّ، وَالْعِلْمِ بِأَعْمَارِهِمْ وَأُصُولِ الصِّنَاعَاتِ وَالْفِلَاحَةِ كَالْحِيَاكَةِ وَالسِّيَاسَةِ وَالْحِجَامَةِ. اهـ. (رد المحتار، مقدمة-1/42

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

কবরবাসী জিয়ারতকারীর সালাম শুনতে পায় এবং পরিচিতজনকে চিনতে পারে?

প্রশ্ন প্রশ্নকারীর নাম: —————- ফয়সাল আহমাদ ঠিকানা: —————- গুনবতী,কুমিল্লা জেলা/শহর: —————- কুমিল্লা দেশ: —————- বাংলাদেশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস