প্রচ্ছদ / ওয়াকফ/মসজিদ/ঈদগাহ / এক মসজিদ থাকা অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া আরেক মসজিদ নির্মাণ করার হুকুম কি?

এক মসজিদ থাকা অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া আরেক মসজিদ নির্মাণ করার হুকুম কি?

প্রশ্ন

নামঃ নাজমুল ইসলাম ।দেশঃ বাংলাদেশ ।
প্রশ্ন ১/

আমার এলাকায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টার মত বাড়ি আছে। মসজিদটি একদম সকলের মধ্যখানে অবস্থিত। জুময়ার নামাজে প্রায় ১০০ মত লোক নামাজে আসে আর পাঁচ ওয়াক্ত
নামাজে ২০ থেকে ২৫ জন আসে। জুময়ার দিনেও অনেক জায়গা ফাকা থাকে। যাহোক এলাকার একটা বংশধর যাদের পুরুষের সংখ্যা মাত্র ৪৫ এর কাছাকাছি যাদের কিছু লোক
জুময়ার নামাজ পড়ে না আর পাঁচ ওয়াক্ত পড়ে এমন লোকের সংখ্যা ১২
জনের কাছাকাছি ।এমতাবস্থায় তারা যে কি কারণে আলাদা মসজিদ বানাতে চায় সেটা আমার জানা নাই তবে যতটুকু জেনেছি তা হলোঃ ওখানে তাদের কবরস্থান আছে ।তাদের মূর্খ নেতার ধারনা যে, এখানে মসজিদ বানালে কবরবাসীদের উপকার হবে।এমতাবস্থায়
তারা যদি মসজিদ বানায় সে মসজিদটা জায়েজ হবে কি এবং সেখানে নামাজ হবে কি? উল্লেখ্য যে ,আমরা হানাফী মাযহাবের অনুসারী ।

২/ জনশ্রুতি আছে যে ,ইব্রাহীম আলাইহিস্সালাম যখন কাবাঘরের কাজ সম্পন্ন করলেন অতঃপর দেখলেন কিছু বালু ও পাথর অবশিষ্ট থাকল অতঃপর তিনি আল্লাহকে বললেন ,এ অংশটুকু কি করব ?অতঃপর আল্লাহ অবশিষ্ট বালু ও পাথরকে সজোড়ে চারদিকে নিক্ষেপ করার আদেশ করলেন অতঃপর তিনি আল্লাহকে বললেন এতে কি হবে? অতঃপর আল্লাহ বললেন ,এ বালু ও পাথরের একটি কণাও যেখানে পড়বে সেখানে মসজিদ তৈরী হবে আর তা পৌছে দেয়ার দায়িত্ব আমার। প্রশ্ন হচ্ছে এ কথাটি কি ঠিক ?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

১ নং এর জবাব

জুমআর নামাযের একটি বড় হিকমাত হল, এলাকার সকল মুসলমান সকলে একত্রিত হওয়া। পারস্পরিক মোহাব্বত বৃদ্ধি পাওয়া। দেখা সাক্ষাতের মাধ্যমে পরস্পর পরস্পরের প্রতি আন্তরিক হওয়া। সুখ দুঃখের সংবাদ নেয়া। এ কারণেই অযথা জুমআর মসজিদ নির্মাণ করা নিষেধ। পাঞ্জেগানা একাধিক থাকলেও জুমআর মসজিদ এক গ্রামে একটি থাকাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু স্থান সংকুলান না হলে ভিন্ন কথা। তখন প্রয়োজনে একাধিক জুমআর মসজিদ নির্মাণ বৈধ আছে।

আপনি প্রশ্নে যে এলাকার বিবরণ দিলেন। তা যদি সত্যিই এমনি হয়, তাহলে জুমআর নামাযের জন্য আপনাদের এলাকায় আরেকটি মসজিদ নির্মাণের কোন প্রয়োজন নেই। আর যদি প্রথম মসজিদের মুসল্লি কমিয়ে ফেলা বা নিজস্ব বাতিল মতবাদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নির্মিত করা হয় তাহলে এ নতুন মসজিদ নির্মাণ জায়েজ হবে না।

আপনাদের উচিত তাদের সাথে আলাপ করে বিষয়টির সুরাহা করে নেয়া। প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ নির্মাণের মাঝে কোন ফযীলত নেই।বরং অনেক ক্ষেত্রেই গোনাহ হয়ে থাকে। ফযীলত হল মসজিদ আবাদ করার মাঝে।

প্রসঙ্গ কবর

কবরের পাশে মসজিদ নির্মিত হলে কবরবাসীর উপকার হবে মর্মে বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। দূরের মসজিদ থেকে কবরবাসীর জন্য দুআ করার যে মর্যাদা কাছের মসজিদ থেকে দুআ করার একই মর্যাদা। তাই এ ধুয়া তুলে কবরের পাশে মসজিদ নির্মাণের অজুহাতটি ঠিক নয়।

প্রয়োজন না থাকা সত্বেও যদি দ্বিতীয় আরেকটি মসজিদ নির্মিত হয়ে যায়। এবং সেখানে নামায পড়া শুরু করে দেয়া হয়। তাহলে সেটিতেও নামায পড়া জায়েজ হবে। নামাযও শুদ্ধ হবে। যদিও মসজিদ নির্মাণটি অপ্রয়োজনীয় ও অহেতুক কাজ হয়েছে। কিন্তু মসজিদ নির্মিত হয়ে যাবার পর এর সাথে কারো দুশমনী রাখা উচিত হবে না। সবার উচিত দ্বিতীয় মসজিদটিকেও আবাদ রাখা। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় মসজিদটিকে শুধু পাঞ্জেগানা এবং প্রথম মসজিদকে পাঞ্জেগানা এবং জুমআর জন্য নির্ধারণ করে নিলে উভয় মসজিদেরই হক আদায় হবে। এক্ষেত্রে এলাকার মুরুব্বী এবং স্থানীয় উলামায়ে কেরামের পরামর্শক্রমে বিষয়গুলো মিটমাট করার চেষ্টা করা উচিত।

وعن عطاء: لما فتح الله تعالى الأمصار على يد عمر رضى الله عنه أمر المسلمين أن يبنوا المساجد وأن لا يتخذوا في مدينة مسجدين يضارّ أحدهما صاحبه. (الكشاف عن حقائق غوامض التنزيل، سورة توبة، الأية-107-2/214، تفسير روح المعانى-11/21، تفسير قرطبى-175/1)

২ নং এর জবাব

এসব কথার কোন সঠিক ভিত্তি আমরা খুঁজে পাইনি।

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালকতালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী?

প্রশ্ন মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী? দয়া করে জানালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *