প্রচ্ছদ / অজু/গোসল/পবিত্রতা/হায়েজ/নেফাস / ইস্তিঞ্জা শেষে ঢিলার পর পানি ব্যবহার করা বিদআত?

ইস্তিঞ্জা শেষে ঢিলার পর পানি ব্যবহার করা বিদআত?

প্রশ্নঃ

পায়খানা ও প্রস্রাবে একই সাথে টিস্যু ও পানি ব্যবহার এর  শরীয়ত সম্মত হুকুম কি?

টিস্যু ও পানি একই সাথে ব্যবহার করা কি বিদআত?

টিস্যু অথবা পানি যে একটি দ্বারা পবিত্রতা সম্পন্ন  হবে কি?

প্রশ্নকারীঃ

আহসান হাবীব

মধুখালী ,ফরিদপুর।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

পায়খানা ও পেশাব শেষে পবিত্রতা অর্জন করা আবশ্যক। যে কোন একটি দ্বারাই এ পবিত্রতা অর্জিত হয়ে যেতে পারে। বাকি উভয়টি একসাথে ব্যবহার করলে তা বিদআত হবে বলাটা মুর্খতা বৈ কিছু নয়।

একই সাথে পানি ও টিস্যু ব্যবহারের প্রমাণবাহী একটি বর্ণনা রয়েছে। যদিও বর্ণনাটি দুর্বল। কিন্তু জাল নয়। যেমন-

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي أَهْلِ قُبَاءَ: {فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ} [التوبة: 108] ، فَسَأَلَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: إِنَّا نُتْبِعُ الْحِجَارَةَ الْمَاءَ.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুবাবাসীর শানে এ আয়াতে কারীমা যখন নাজিল হল,

فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُوا ۚ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ [٩:١٠٨]

সেখানে রয়েছে এমন লোক,যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন। [সূরা তাওবা-১০৮]তখন রাসূল সাঃ তাদের [এ মর্তবা পাবার কারণ] জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তারা বললেন, আমরা ঢিলার সাথে সাথে পানি ব্যবহার করি। [মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৪৭]

যদিও হাদীসটি দুর্বল। কিন্তু জাল নয়। হাদীসে কোন বিষয় বর্ণিত হবার পর সে আমল করলে সেটিকে বিদআত বলার কোন সুযোগ নেই। হ্যাঁ, তবে যদি উক্ত হাদীসটি জাল হতো, তাহলে বিদআত বলার সুযোগ ছিল। তাছাড়া কোন কিছু বিদআত হবার জন্য সুন্নত মনে করা, ইবাদত মনে করা শর্ত। অথচ ঢিলার পর পানি ব্যবহারকে কেউ ইবাদত হিসেবে করে না। বরং পরিচ্ছন্নতার জন্য করে থাকে। তাই এটিকে বিদআত বলা বিদআতের সংজ্ঞা সম্পর্কেও অজ্ঞতার পরিচায়ক।

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী?

প্রশ্ন মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী? দয়া করে জানালে …

No comments

  1. a.b.m. al-amin chowdhury

    الحمد لله
    সুন্দর সমাধান।

  2. সামীউর রহমান শামীম

    হযরত! আমি তালাশ করে একটি সহীহ সনদ পেলাম- ঢিলার পর পানি ব্যবহারের। যা তারীখুল মাদীনা কিতাবে উল্লেখ আছে। সনদটি জাইয়্যিদ।

    হাদীসটির বাংলা অনুবাদঃ

    মু‘আবিয়া ইবনে আমর বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহাইর ইবনে মু‘আবিয়া। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসেম আল আহওয়াল। তিনি বর্ণনা করেছেন, এক আনসারী ব্যক্তির নিকট থেকে—

    সূরায়ে তাওবা’র ১০৮ নং আয়াত
    رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ سورة التوبة آية 108

    অর্থাৎ, ‘‘সেখানে রয়েছে এমন লোক,যারা পবিত্রতাকে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালোবাসেন।’’

    এই আয়াতে কুবা বাসীদের কথা বলা হয়েছে। কুবা বাসীদের পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতির প্রশংসা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবা বাসীদের পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে জিজ্ঞাস করলেন।

    কুবা বাসী বললো, আমরা ইসতেঞ্জা করার সময় ঢিলা ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করি।

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে কুবা বাসী! তোমাদের পবিত্রতার উপর নিশ্চয়ই আল্লাহ খুশি।’’

    সনদ সহ হাদীসটির আরবী পাঠঃ

    حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو ، قَالَ : حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ يَعْنِي ابْنَ مُعَاوِيَةَ ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ ، عَنْ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ ، فِي هَذِهِ الآيَةِ : فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ سورة التوبة آية 108 ، قَالَ : فَسَأَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهْلَ قُبَاءٍ عَنْ طَهُورِهِمْ ، وَكَأَنَّهُمْ كَانُوا يَسْتَحْيُونَ أَنْ يُحَدِّثُوهُ ، فَقَالُوا : طَهُورُنَا طَهُورُ النَّاسِ ، فَقَالَ : ” إِنَّ لَكُمْ طَهُورًا ” ، فَقَالُوا : إِنَّ لَنَا خَبَرًا ، إِنَّا نَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ بَعْدَ الْحِجَارَةِ ، قَالَ : ” إِنَّ اللَّهَ قَدْ رَضِيَ طَهُورَكُمْ يَا أَهْلَ قُبَاءٍ

    [তারীখুল মাদীনা, ১ম খণ্ড; পৃ. ৪৮; অনুচ্ছেদঃ বাবুর রুখসাতি ফিন নাওমি ফিহ]

    হাদীসটির সনদের প্রত্যেক রাবীই ছিকা (নির্ভরযোগ্য)। সনদটি জাইয়্যিদ। (হাসান সনদের চেয়ে উত্তম)।

    বর্ণনাটির সনদের প্রত্যেক রাবীদের ব্যাপারে খুঁজে বের করেছি।

    সনদটির ১ম রাবীঃ মু‘আবিয়া ইবনে আমর (রহ.)। তিনি ছিকা।

    তাঁর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.) বলেন,
    قال أحمد بن حنبل : صدوق ثقة

    অর্থাৎ ‘‘তিনি সত্যবাদী ও ছিকা (নির্ভরযোগ্য)।’’

    তাঁর থেকে ইমাম বুখারী, আবূ বকর ইবনে আবী শাইবা, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.) সহ প্রমুখ মুহাদ্দিসীনগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

    [সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, লিয যাহাবী; ১০ম খণ্ড; পৃ. ২১৪—২১৫]

    ২য় রাবীঃ যুহাইর ইবনে মু‘আবিয়া (রহ.)। তিনিও ছিকা।

    আবূ বকর আল বাযযার, আবূ হাতিম রাযী, আবূ হাতিম ইবনে হিব্বান, আবূ যুর‘আ রাযী, আহমাদ বিন হাম্বল, নাসায়ী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.) সবাই তাঁকে ছিকা বলেছেন।

    ৩য় রাবীঃ আসেম ইবনে সুলাইমান আল আহওয়াল (রহ.)। তিনিও ছিকা।

    ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.) বলেন,
    قال حمد بن حنبل : شيخ ثقة، من الحفاظ
    .
    অর্থাৎ ‘‘তিনি ছিকা ছিলেন। হাফেযে হাদীসদের শায়খ ছিলেন।’’

    আবূ বকর আল বাযযার, আবূ হাতিম রাযী, আবূ যুর‘আ রাযী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, ইবনে হাহার আসকালানী (রহ.) সবাই তাঁকে ছিকা বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *