প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / আল্লাহ ও নবীকে সাক্ষ্যি রেখে বিবাহ করলে তা শুদ্ধ হয়ে যায় কি?

আল্লাহ ও নবীকে সাক্ষ্যি রেখে বিবাহ করলে তা শুদ্ধ হয়ে যায় কি?

প্রশ্ন

আমার কাজিনের একজন হাফেজ এর সাথে প্রেমের সমর্পক ছিল।তারা দুজনে কোন মানুষকে সাথে না রেখে আল্লাহ রাসুল কে সাক্ষী রেখে একা বিয়ে করেছে। অই ছেলের [বাবা] বড় আলেম ছিল। কিছুদিন আগে মারা গেছে। পারিবারিকভাবে উক্ত বিয়ে মেনে নেয়া হয়নি। তাই পরবর্তীতে মেয়েটির আরেক জায়গায় বিয়ে হয় এবং একটি ছেলে হয়।বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে ঐ ছেলে টি মেয়েকে এখন  বলে যে “ওদের বিয়ে সহীহ হয়েছে।এখন যার সাথে সংসার করছে  তা অবৈধ। তার সন্তান  ও অবৈধ।”প্রশ্ন হল প্রথম  বিয়ে কি সহীহ হয়েছে? মেয়েটার দিতীয় বিয়ে কি অবৈধ হয়েছে?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হবার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা-

বর ও কনেকে কিংবা তাদের প্রতিনিধিকে ইজাব তথা প্রস্তাবনা ও কবুল বলতে হয়।

উক্ত ইজাব ও কবুলটি বলতে হয় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সামনে।

ইজাব ও কবুলটি উভয় সাক্ষ্যি স্বকর্ণে শুনতে হবে।

উক্ত তিনটির কোন একটি শর্ত না পাওয়া গেলে ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত সূরতে আপনার কাজিন ও হাফেজ ছেলেটির মধ্যকার বিবাহ শুদ্ধ হয়নি।

আল্লাহ ও রাসূল সাঃ কে সাক্ষ্যি রেখে বিবাহ করার দ্বারা কোন বিবাহ শুদ্ধ হয় না। আর নবীকে সাক্ষ্যি রেখে বিবাহ করা একটি কুফরী কাজ। কারণ তখন নবীকে হাজির নাজির বিশ্বাস করতে হয়। নতুবা কিভাবে নবীকে সাক্ষ্যি রাখবে? কারণ সাক্ষী হবার জন্য উপস্থিত থাকা ও উক্ত কথাটি শুনা জরুরী। আর রাসূল সাঃ সবার কথা যেমন শুনতে পান না, তেমনি সকল স্থানে উপস্থিতও নয়।

তাই এ উদ্ভট শব্দে কোন বিবাহতো শুদ্ধই হয় না। বরং এর দ্বারা মারাত্মক ধরণের গোনাহ সংঘটিত হয়। যা থেকে তওবা করা আবশ্যক।

সুতরাং উক্ত হাফেজের বর্তমানে মেয়েটির বিবাহ হবার পর বিরক্ত করা কিছুতেই বৈধ নয়। তাকে সামাজিকভাবে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যদি সে উক্ত মেয়েটি সম্পর্কে কুৎসা রটায় বা তাকে ডিষ্টার্ব করে।

فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-3/9)

অনুবাদ-বিবাহ সহীহ হওয়ার শর্ত হল শরীয়তের মুকাল্লাফ [যাদের উপর শরীয়তের বিধান আরোপিত হয়] এমন দুইজন আযাদ পুরুষ সাক্ষি বা একজন আযাদ পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষি হতে হবে, যারা প্রস্তাবনা ও কবুল  বলার উভয় বক্তব্য স্বকর্ণে উপস্থিত থেকে শুনতে পায়। {আদ দুররুল মুখতার-৩/৯, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৮}

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

‘আব্দুল মুত্তালিব’ নাম রাখার হুকুম কী?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম জনাব লুৎফর রহমান ফরায়েজী সাহেব! আমার নাম আব্দুল মুত্তালিব। কেউ বলেন আমার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস