প্রশ্নঃ
আমি একটি কওমি মাদ্রাসায় খেদমত করি। আমাদের মাদ্রাসায় বিভিন্ন দান-অনুদান এসে থাকে। অনেক সময় অনুদানের জন্য আবেদন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে দেখা যায় আবেদন পত্রে,ছাত্র সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশী লিখা হয় এবং ঋণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দেখানো হয়। এক্ষেত্রে প্রাপ্ত অনুদান গ্রহণ করা জায়েয হবে কি এবং এমন মাদ্রাসায় খেদমত করা জায়েয আছে কি না, জানালে উপকৃত হবো।
Abu Abdullah abuabdullah1971443@gmail.com
উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
حامدا ومصليا ومسلما
শরীয়তের দৃষ্টিতে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বাড়িয়ে বা মিথ্যা বলে অনুদান সংগ্রহ করা স্পষ্টভাবে নিন্দিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ وَتُدۡلُوۡا بِہَاۤ اِلَی الۡحُکَّامِ لِتَاۡکُلُوۡا فَرِیۡقًا مِّنۡ اَمۡوَالِ النَّاسِ بِالۡاِثۡمِ وَاَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
“তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না” (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৮) এবং সূরা তাওবার ১১৯ নং আয়াতে বলেন,
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَکُوۡنُوۡا مَعَ الصّٰدِقِیۡنَ
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো” (সূরা আত-তাওবা ৯:১১৯)।
মাদ্রাসার আবেদনপত্রে ছাত্রসংখ্যা বা ঋণ বাড়িয়ে দেখানো হলে তা দাতাকে বিভ্রান্ত করে তার সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণের শামিল হয়, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। অতএব এভাবে প্রাপ্ত অনুদান সন্দেহমুক্ত হালাল থাকে না; বরং এতে গুনাহ জড়িত।
হাদীসেও প্রতারণা ও মিথ্যার ব্যাপারে কঠোর নিষেধ এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا وَمَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا”
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়, আর যে ব্যক্তি আমাদের ধোকা দিবে সেও আমাদের দলভূক্ত নয়।” (সহীহ মুসলিম, আন্তর্জাতিক নং: ১০১) এবং
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى البِرِّ، وَإِنَّ البِرَّ يَهْدِي إِلَى الجَنَّةِ، وَإِنّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يَكُونَ صِدِّيقًا. وَإِنَّ الكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الفُجُورِ، وَإِنَّ الفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا»
আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সত্য নেকীর দিকে পরিচালিত করে আর নেকী জান্নাতের দিকে পৌঁছায়। আর মানুষ সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে অবশেষে সিদ্দীক এর দরজা লাভ করে। আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়। পাপ তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মহামিথ্যাবাদী রূপে সাব্যস্ত হয়ে যায়।
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৬৬৪)।
তাই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে অনুদান নেওয়া নাজায়েয এবং এ কাজে সহযোগিতা করা থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। তবে কেউ যদি সরাসরি এতে জড়িত না থাকে, তাহলে তার খেদমত মূলত বৈধ; কিন্তু এমন অনিয়ম চলতে থাকলে সংশোধনের চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনে সৎ পরিবেশ খোঁজা উত্তম।
والله أعلم بالصواب
উত্তর লিখনে,
মুহা. শাহাদাত হুসাইন , ছাগলনাইয়া, ফেনী।
সাবেক শিক্ষার্থী: ইফতা বিভাগ
তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
সত্যায়নে
মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী দা.বা.
পরিচালক– তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: জামিয়াতুস সুন্নাহ কামরাঙ্গিরচর, ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: কাসিমুল উলুম আলইসলামিয়া, সালেহপুর আমীনবাজার ঢাকা।
পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।
শাইখুল হাদীস: জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সনমানিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস Ahle Haq Media
